যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড সহজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের
- আপডেট সময় : ০৪:০৯:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৩৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ও প্রকৃত পর্যটকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ আরও সহজ করতে বিদ্যমান ভিসা বন্ড ব্যবস্থা পর্যালোচনা ও সহজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে বঙ্গভবনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
কৃষি ও জ্বালানি খাতে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানোর অনুরোধ
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের কৃষি খাতে যুক্তরাষ্ট্রের অতীত সহযোগিতা ও বিনিয়োগের কথা স্মরণ করেন। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটসহ কৃষি উন্নয়নে মার্কিন সহযোগিতার প্রশংসা করে ভবিষ্যতে এ খাতে আরও বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।
এ ছাড়া দেশের জ্বালানি খাতে মার্কিন প্রতিষ্ঠান শেভরনের বিনিয়োগ ও ভূমিকার কথা উল্লেখ করে এ খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর অনুরোধ করেন রাষ্ট্রপতি।
প্রযুক্তি ও দক্ষতা হস্তান্তরে গুরুত্ব
রাষ্ট্রপতি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি, অবকাঠামো, স্বাস্থ্যসেবা এবং উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর শিল্পসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এসব খাতে প্রযুক্তি ও দক্ষতা হস্তান্তরের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চান রাষ্ট্রপতি
রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল।
জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
দায়িত্ব গ্রহণে অভিনন্দন মার্কিন রাষ্ট্রদূতের
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন।
রাষ্ট্রপতি এ সময় মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ও বাণিজ্যিক অংশীদার। দুই দেশের বিদ্যমান বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বাণিজ্য চুক্তিকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করার প্রত্যাশা
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির বিষয়টি উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণে এটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে উভয় দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে চুক্তিটিকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক করার সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশ সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণে বিশ্বাসী উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ, পারস্পরিক সম্মান ও সমতার নীতিকে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়।
ভবিষ্যতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এ সময় বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


























