রোনালদো-রবার্তো কার্লোসের হাত ধরে ব্রাজিলের ক্লাবে বড় বিনিয়োগ
- আপডেট সময় : ০৪:১৯:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫২৭ বার পড়া হয়েছে
ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। ১১২ বছরের পুরোনো ক্লাব ইন্টার দে লিমেইরার নিয়ন্ত্রণ নিতে যাচ্ছে একটি নতুন বিনিয়োগকারী গোষ্ঠী। এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী দুই কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিও ও রবার্তো কার্লোস।
সাও পাওলোভিত্তিক ক্লাবটির পরিচালনা পর্ষদ নিয়ন্ত্রণকারী অংশীদারিত্ব বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। বিশেষ সাধারণ সভায় ইন্টার দে লিমেইরাকে পাবলিক লিমিটেড ফুটবল কোম্পানিতে রূপান্তরের প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়েছে। ৫৪ সদস্যের মধ্যে ৫৩ জন প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন।
চুক্তি সম্পন্ন হলে নতুন মালিকপক্ষ ক্লাবটির ৮০ শতাংশ শেয়ারের মালিক হবে। বাকি ২০ শতাংশ থাকবে ক্লাবের সদস্যদের হাতে।
নতুন প্রশাসনের নেতৃত্বে থাকবেন এনরিকো অ্যামব্রোজিনি। প্রকল্পটির গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে থাকছেন রোনালদো ও রবার্তো কার্লোস। বিভিন্ন প্রতিবেদনে সৌদি যুবরাজ আবদুল্লাহ বিন সাদের সম্পৃক্ততার কথাও বলা হয়েছে।
তবে মালিকানা হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতা এখনো শেষ হয়নি। নতুন গঠনতন্ত্র তৈরি ও কোম্পানির বাণিজ্যিক নিবন্ধনসহ কয়েকটি প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ এসব কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ক্লাবটিতে আগামী ১০ বছরে ৪৫৪ মিলিয়ন ব্রাজিলিয়ান রিয়াল বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এর লক্ষ্য শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, মাঠের পারফরম্যান্সেও বড় পরিবর্তন আনা।
নতুন মালিকপক্ষের প্রধান লক্ষ্য, সর্বোচ্চ আট বছরের মধ্যে ইন্টার দে লিমেইরাকে ব্রাজিলের শীর্ষ লিগ ব্রাসিলেইরাও সিরি ‘আ’-তে নিয়ে যাওয়া। একই সঙ্গে একাডেমি শক্তিশালী করা, অনুশীলনকেন্দ্র আধুনিক করা এবং ক্লাবের আর্থিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় পেশাদারিত্ব আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
১৯১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ইন্টার দে লিমেইরার ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের মধ্যে রয়েছে ১৯৮৬ সালের ক্যাম্পেওনাতো পাওলিস্তা এবং ১৯৮৮ সালের সিরি ‘বি’ শিরোপা। বর্তমানে ক্লাবটি ব্রাজিলের তৃতীয় স্তরের ফুটবলে খেলছে। তবে সিরি ‘বি’-তে ওঠার লড়াইয়ে শেষ চারে জায়গা করে নিয়ে প্রমোশনের জোরালো দাবিদার হয়ে উঠেছে তারা।
রোনালদো ও রবার্তো কার্লোসের মতো বিশ্বকাপজয়ী তারকাদের সম্পৃক্ততা এবং বড় অঙ্কের বিনিয়োগ—দুইয়ের সমন্বয়ে ইন্টার দে লিমেইরার সামনে এখন নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। ব্রাজিলের শীর্ষ ফুটবল মঞ্চে ফেরার স্বপ্ন বাস্তবায়নে এই প্রকল্প কতটা সফল হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

























