০৩:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচন: নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় জামায়াতের, ইসিকে ৯ দফা দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০১:৫৮:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৫৪৭ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে ৯ দফা দাবি তুলে ধরেছে দলটি।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ পুরো কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে জামায়াতের প্রতিনিধিদল। বৈঠক শেষে দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম পরওয়ার সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সর্বজনগ্রাহ্য করতেই এসব দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকটি বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের অসহায়ত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ

জামায়াতের অন্যতম প্রধান দাবি হলো, বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা সংক্রান্ত ইসির অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত বাতিল করা। গোলাম পরওয়ার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকরা স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে আসছেন। পাশাপাশি তারা রাজনীতি ও ভোটাধিকার প্রয়োগেও অংশ নিয়েছেন। এমনকি সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও শিক্ষকরা অংশ নিয়েছেন।

তাই শুধু স্থানীয় নির্বাচনে শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বৈষম্যমূলক বলে দাবি করে জামায়াত। দলটির মতে, এটি সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদে থাকা সমানাধিকারের নীতির পরিপন্থি।

নিষিদ্ধ দলের নেতাদের অযোগ্য করার দাবি

এ ছাড়া নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের পদধারী নেতাদের স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না দেওয়ার দাবি জানিয়েছে জামায়াত। দলটির বক্তব্য, নিষিদ্ধ কোনো দলের পদধারী ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিলে সেটিকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। তাই স্বচ্ছতার স্বার্থে নিষিদ্ধ সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতাদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে। তবে সাধারণ সমর্থকদের ক্ষেত্রে কোনো বিধিনিষেধের দাবি জানায়নি জামায়াত।

ইসি সচিবালয়ে নিয়োগ নিয়েও আপত্তি

সম্প্রতি ইসি সচিবালয়ে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ পাওয়া শামসুল আলমের নিয়োগ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে দলটি। গোলাম পরওয়ারের দাবি, ওই কর্মকর্তা বিএনপির নির্বাচনবিষয়ক সাব-কমিটির সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তাই তার নিয়োগ নিরপেক্ষ নির্বাচনী ব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করে জামায়াত। এ বিষয়ে আগের বৈঠকেও উদ্বেগ জানানো হয়েছিল বলে জানান তিনি। তবে কমিশন নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ না হওয়ায় বিষয়টি সরকারকে জানানোর আশ্বাস দিয়েছে বলে দাবি করেন জামায়াতের এই নেতা।

প্রশাসকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বন্ধের দাবি

উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ নিয়েও প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াত। দলটির অভিযোগ, সরকারি অর্থ, এডিপি বরাদ্দসহ বিভিন্ন সুবিধা ব্যবহার করে নির্বাচনে দলীয় সুবিধা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করতেই তাদের প্রশাসক করা হয়েছে। তাই এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত প্রশাসকদের স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ স্থায়ীভাবে বাতিলের দাবি জানিয়েছে দলটি। এ ছাড়া তফসিল ঘোষণার পর পদত্যাগ করলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওই নির্বাচনে অযোগ্য রাখার নিয়ম চালুর দাবি করা হয়েছে।

মন্ত্রী-এমপিদের প্রচারণা বন্ধের দাবি

স্থানীয় নির্বাচনে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ব্যক্তিদের প্রচারণা বন্ধের দাবিও জানিয়েছে জামায়াত। এ জন্য কঠোর আচরণবিধি প্রণয়নের দাবি করেছে দলটি। তাদের মতে, এতে নির্বাচনে সমান সুযোগ নিশ্চিত করা সহজ হবে।

স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নয়

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গোলাম পরওয়ার স্থানীয় নির্বাচনে জামায়াতের অংশগ্রহণ নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন যেহেতু দলীয় প্রতীকে হচ্ছে না, তাই জামায়াত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবে না। বরং আগ্রহী প্রার্থীরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেবেন।

এদিকে জাতীয় নির্বাচনের জন্য গঠিত ১১ দলীয় ঐক্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। তার ভাষ্য, ওই ঐক্য কেবল জাতীয় নির্বাচনের জন্য। ফলে স্থানীয় নির্বাচনে দলগুলো নিজেদের মতো করে অংশ নেবে। এখানে দলগত সমঝোতার কোনো শর্ত থাকবে না।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

স্থানীয় সরকার নির্বাচন: নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় জামায়াতের, ইসিকে ৯ দফা দাবি

আপডেট সময় : ০১:৫৮:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে ৯ দফা দাবি তুলে ধরেছে দলটি।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ পুরো কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে জামায়াতের প্রতিনিধিদল। বৈঠক শেষে দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম পরওয়ার সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সর্বজনগ্রাহ্য করতেই এসব দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকটি বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের অসহায়ত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ

জামায়াতের অন্যতম প্রধান দাবি হলো, বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা সংক্রান্ত ইসির অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত বাতিল করা। গোলাম পরওয়ার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকরা স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে আসছেন। পাশাপাশি তারা রাজনীতি ও ভোটাধিকার প্রয়োগেও অংশ নিয়েছেন। এমনকি সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও শিক্ষকরা অংশ নিয়েছেন।

তাই শুধু স্থানীয় নির্বাচনে শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বৈষম্যমূলক বলে দাবি করে জামায়াত। দলটির মতে, এটি সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদে থাকা সমানাধিকারের নীতির পরিপন্থি।

নিষিদ্ধ দলের নেতাদের অযোগ্য করার দাবি

এ ছাড়া নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের পদধারী নেতাদের স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না দেওয়ার দাবি জানিয়েছে জামায়াত। দলটির বক্তব্য, নিষিদ্ধ কোনো দলের পদধারী ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিলে সেটিকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। তাই স্বচ্ছতার স্বার্থে নিষিদ্ধ সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতাদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে। তবে সাধারণ সমর্থকদের ক্ষেত্রে কোনো বিধিনিষেধের দাবি জানায়নি জামায়াত।

ইসি সচিবালয়ে নিয়োগ নিয়েও আপত্তি

সম্প্রতি ইসি সচিবালয়ে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ পাওয়া শামসুল আলমের নিয়োগ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে দলটি। গোলাম পরওয়ারের দাবি, ওই কর্মকর্তা বিএনপির নির্বাচনবিষয়ক সাব-কমিটির সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তাই তার নিয়োগ নিরপেক্ষ নির্বাচনী ব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করে জামায়াত। এ বিষয়ে আগের বৈঠকেও উদ্বেগ জানানো হয়েছিল বলে জানান তিনি। তবে কমিশন নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ না হওয়ায় বিষয়টি সরকারকে জানানোর আশ্বাস দিয়েছে বলে দাবি করেন জামায়াতের এই নেতা।

প্রশাসকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বন্ধের দাবি

উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ নিয়েও প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াত। দলটির অভিযোগ, সরকারি অর্থ, এডিপি বরাদ্দসহ বিভিন্ন সুবিধা ব্যবহার করে নির্বাচনে দলীয় সুবিধা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করতেই তাদের প্রশাসক করা হয়েছে। তাই এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত প্রশাসকদের স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ স্থায়ীভাবে বাতিলের দাবি জানিয়েছে দলটি। এ ছাড়া তফসিল ঘোষণার পর পদত্যাগ করলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওই নির্বাচনে অযোগ্য রাখার নিয়ম চালুর দাবি করা হয়েছে।

মন্ত্রী-এমপিদের প্রচারণা বন্ধের দাবি

স্থানীয় নির্বাচনে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ব্যক্তিদের প্রচারণা বন্ধের দাবিও জানিয়েছে জামায়াত। এ জন্য কঠোর আচরণবিধি প্রণয়নের দাবি করেছে দলটি। তাদের মতে, এতে নির্বাচনে সমান সুযোগ নিশ্চিত করা সহজ হবে।

স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নয়

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গোলাম পরওয়ার স্থানীয় নির্বাচনে জামায়াতের অংশগ্রহণ নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন যেহেতু দলীয় প্রতীকে হচ্ছে না, তাই জামায়াত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবে না। বরং আগ্রহী প্রার্থীরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেবেন।

এদিকে জাতীয় নির্বাচনের জন্য গঠিত ১১ দলীয় ঐক্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। তার ভাষ্য, ওই ঐক্য কেবল জাতীয় নির্বাচনের জন্য। ফলে স্থানীয় নির্বাচনে দলগুলো নিজেদের মতো করে অংশ নেবে। এখানে দলগত সমঝোতার কোনো শর্ত থাকবে না।