কুমিল্লায় কথা-কবিতা-গানে রবীন্দ্র-নজরুল স্মরণ
- আপডেট সময় : ০৪:৫৩:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫৬৬ বার পড়া হয়েছে
‘তুমি কি কেবলই ছবি শুধু পটে লিখা’ ও ‘ফুলের জলসায় নীরব কেন কবি’—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী সৃষ্টিকে সামনে রেখে কুমিল্লায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘কথা-কবিতা-গানে রবীন্দ্র-নজরুল স্মরণ’ অনুষ্ঠান।
জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ কুমিল্লার আয়োজনে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় নগরীর লাকসাম রোডের গ্র্যান্ড দেশপ্রিয় রেস্টুরেন্টের কনফারেন্স রুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান
আয়োজকরা জানান, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের সাহিত্য, সংগীত ও সৃষ্টিশীলতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি তাঁদের মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও সাম্যের চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই ছিল আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ কুমিল্লার সভাপতি আঃ মালেক। বক্তব্য দেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
বক্তারা বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁদের সাহিত্য ও সংগীতে মানবতা, সাম্য, প্রেম, দ্রোহ ও অসাম্প্রদায়িকতার যে বার্তা রয়েছে, তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সাংস্কৃতিক চর্চা বাড়ানোর তাগিদ
বক্তারা আরও বলেন, রবীন্দ্রনাথের মানবতাবাদ, প্রকৃতি ও প্রেমের দর্শন বাঙালির মননকে সমৃদ্ধ করেছে। অন্যদিকে নজরুলের বিদ্রোহ, সাম্য ও শোষণমুক্তির চেতনা সাংস্কৃতিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এসব মূল্যবোধ তরুণদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে নিয়মিত সাংস্কৃতিক আয়োজন প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্তিম সময়ের কিছু লেখা পাঠ করেন জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ কুমিল্লার সাবেক সভাপতি ও বর্তমান সদস্য প্রফেসর নিখিল চন্দ্র রায়। আবেগঘন পাঠ উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করে।
গান-কবিতায় প্রাণবন্ত আয়োজন
পরে কুমিল্লার স্থানীয় শিল্পীরা রবীন্দ্রসংগীত ও নজরুলসংগীত পরিবেশন করেন। গান ও কবিতার পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল।
পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ কুমিল্লার সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর মশিউর রহমান ভূইয়া।
অনুষ্ঠানে অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান, দিলনাশী মোহসীন, বদরুল হুদা জেনু, প্রফেসর মৃণাল কান্তি গোস্বামী, প্রফেসর অনুকূল চন্দ্র দাশ, রীতা চক্রবর্তী, হালিম আব্দুল্লাহ, মো. জাহাঙ্গীর আলম হাজারী, অমৃত লাল দত্ত, মোতালেব খান, তপন তাহের, মোহাম্মদ উল্ল্যাহ, মো. মোখলেছুর রহমান, মো. বুলবুল ইকবাল, সেলিম মাওলা, রাহুল তারণ পিন্টু, অ্যাডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার ও ফটো সাংবাদিক শ্যামল বড়ুয়া ববিসহ পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, স্থানীয় শিল্পী, সাহিত্যপ্রেমী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
দর্শক-শ্রোতারা বলেন, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের সাহিত্য-সংগীতকে কেন্দ্র করে এ ধরনের আয়োজন সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বাংলা সাহিত্য, সংগীত ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে এমন আয়োজন আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন।
কথা, কবিতা ও গানের আবেশে দুই মহান কবির কালজয়ী সৃষ্টির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় অনুষ্ঠানটি।
























