০৭:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

রংপুরে চার খুনের প্রতিবাদে ঢাকায় মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৫:৪০:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৫৪২ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্য হত্যার ঘটনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ঢাকায় মানববন্ধন ও শোক র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে রংপুর জিলা স্কুল এক্স-স্টুডেন্টস ক্লাবের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে রংপুর জিলা স্কুলের শতাধিক সাবেক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

সকাল ১১টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে শোক র‌্যালি প্রদক্ষিণ শেষে পুলিশ বক্সের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী কৃষিবিদ আবদুল বারী, সাবেক অতিরিক্ত সচিব শওকত আলী, ড. আরেফিন অমল বাগচী ও রাকিকুজ্জামান।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, শান্তির শহর হিসেবে পরিচিত রংপুরে একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় তারা গভীরভাবে স্তম্ভিত। অতীতে একই পরিবারের চারজনকে একসঙ্গে হত্যার এমন ঘটনা রংপুরে ঘটেনি। এ হত্যাকাণ্ড সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে।

বক্তারা হত্যাকাণ্ডের সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন, জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তদন্তের নামে কোনো ধরনের গড়িমসি মেনে নেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা। প্রয়োজনে ন্যায়বিচারের দাবিতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা দেন সাবেক শিক্ষার্থীরা।

মানববন্ধনে রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মসহ নিহত চারজনের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন বক্তারা।

যেভাবে হত্যা করা হয়

গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বাড়ির বিভিন্ন স্থান থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদনে চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা যায়। মা ও মেয়ের শরীরে ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে ওই দুই তরুণ পরিবারের চার সদস্যকে হত্যা করে। পরে হত্যাকাণ্ডকে ভিন্ন খাতে নিতে ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করে ডাকাতির নাটক সাজানোর চেষ্টা করা হয়।

তবে পুলিশের এ বক্তব্য নিয়ে নিহত পরিবারের স্বজনসহ বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সব দিক নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

ডিবিতে তদন্তভার

এ অবস্থায় মামলাটির তদন্তভার কোতোয়ালি থানা থেকে রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়েছে। এর আগে নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

তদন্তকারীরা হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত কারণ, ঘটনার সময়, হত্যার ধরন এবং বিভিন্ন আলামত যাচাই করছেন।

রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা বলেন, একজন শিক্ষক ও তাঁর স্ত্রী-সন্তানদের এভাবে হত্যার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার মাধ্যমেই নিহত পরিবারের প্রতি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

রংপুরে চার খুনের প্রতিবাদে ঢাকায় মানববন্ধন

আপডেট সময় : ০৫:৪০:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্য হত্যার ঘটনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ঢাকায় মানববন্ধন ও শোক র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে রংপুর জিলা স্কুল এক্স-স্টুডেন্টস ক্লাবের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে রংপুর জিলা স্কুলের শতাধিক সাবেক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

সকাল ১১টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে শোক র‌্যালি প্রদক্ষিণ শেষে পুলিশ বক্সের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী কৃষিবিদ আবদুল বারী, সাবেক অতিরিক্ত সচিব শওকত আলী, ড. আরেফিন অমল বাগচী ও রাকিকুজ্জামান।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, শান্তির শহর হিসেবে পরিচিত রংপুরে একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় তারা গভীরভাবে স্তম্ভিত। অতীতে একই পরিবারের চারজনকে একসঙ্গে হত্যার এমন ঘটনা রংপুরে ঘটেনি। এ হত্যাকাণ্ড সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে।

বক্তারা হত্যাকাণ্ডের সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন, জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তদন্তের নামে কোনো ধরনের গড়িমসি মেনে নেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা। প্রয়োজনে ন্যায়বিচারের দাবিতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা দেন সাবেক শিক্ষার্থীরা।

মানববন্ধনে রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মসহ নিহত চারজনের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন বক্তারা।

যেভাবে হত্যা করা হয়

গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বাড়ির বিভিন্ন স্থান থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদনে চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা যায়। মা ও মেয়ের শরীরে ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে ওই দুই তরুণ পরিবারের চার সদস্যকে হত্যা করে। পরে হত্যাকাণ্ডকে ভিন্ন খাতে নিতে ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করে ডাকাতির নাটক সাজানোর চেষ্টা করা হয়।

তবে পুলিশের এ বক্তব্য নিয়ে নিহত পরিবারের স্বজনসহ বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সব দিক নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

ডিবিতে তদন্তভার

এ অবস্থায় মামলাটির তদন্তভার কোতোয়ালি থানা থেকে রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়েছে। এর আগে নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

তদন্তকারীরা হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত কারণ, ঘটনার সময়, হত্যার ধরন এবং বিভিন্ন আলামত যাচাই করছেন।

রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা বলেন, একজন শিক্ষক ও তাঁর স্ত্রী-সন্তানদের এভাবে হত্যার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার মাধ্যমেই নিহত পরিবারের প্রতি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব।