০১:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

আওয়ামী লীগ-জাতীয় পার্টি থেকে বিএনপি—সর্বদলীয় প্রভাবের অভিযোগ

আইসিটিতে তিন পদে বহাল সাইফুল হাসান!

এস. এ টিভি
  • আপডেট সময় : ১১:৫১:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৫৬৭ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অন্তবর্তী সরকারের বিশেষ সহকারী ফায়েজ তৈয়ব আহমেদ ও সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী তাঁদের দলপন্থী (রাজনৈতিক) হিসেবে পরিচিত আইসিটি বিভাগের যুগ্মসচিব মো: সাইফুল হাসানকে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করেন এবং আইসিটি টাওয়ারে সচিবের পরে তার একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। সেগুলো হলো- তিনি একাধারে মন্ত্রনালয়ের (১) প্রশাসন অধিশাখার প্রধান; হাই-টেক পার্কের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অর্থাৎ (২) সদস্য (প্রশাসন ও কারিগরি), (৩) সদস্য (বিনিয়োগ ও পার্ক সমন্বয়), এবং (৪) জেলা পর্যায়ে আইটি ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন প্রকল্পের (১৪টি জেলায়) প্রকল্প পরিচালকের (প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতাসহ) দায়িত্ব গ্রহণ। ২৯/০১/২০২৫ তারিখে উপসচিব থাকা অবস্থায় তিনি এ দায়িত্ব গ্রহন করেন, যে আদেশে (১১৫ নং স্মারক) তিনি নিজেই স্বাক্ষর করেছেন।

পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ ও দুই-তৃতীয়াংশ আসনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করলে; বাবার মত দল/মত পাল্টিয়ে (অন্তবর্তী সরকারের সময়ের নিজের পরিচয় পাল্টিয়ে) তার পিতা সাবেক এমপি (১৯৭৩ এ আওয়ামীলীগের শেখ মুজিব সরকারের এমপি, ১৯৮৬ তে স্বতন্ত্র এমপি, ১৯৮৮ তে জাতীয় পার্টির এমপি ও ২০০১ সালে বিএনপি হতে নমিনেশন নিয়ে এমপি নির্বাচিত) অধ্যাপক মরহুম ইউনুস সাহেবের পরিচয় ভাঙ্গিয়ে দাপট দেখিয়ে ও প্রশাসন অধিশাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে ক্ষমতা খাটিয়ে আরও ১টি গুরুত্বপূর্ণ পদ আইসিটি অধিদপ্তরের মহা-পরিচালকের (ডিজি) দায়িত্ব নিতে নিজের নামে অফিস আদেশ করিয়ে নেন। অথচ এই সময়ে আইসিটি টাওয়ারে বিভিন্ন পদে ২জন অতিরিক্ত সচিব ও ৮ জন যুগ্ম-সচিব কর্মরত ছিলেন এবং আরো ৫-৬ সিনিয়র উপসচিব ছিলেন, অনেকেই তার ব্যাচমেট। এরপরও নিজের নামে অধিদপ্তরের মহা-পরিচালকের (ডিজি) (প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতাসহ) দায়িত্বের অর্ডার করিয়েছেন (অফিস আদেশ সংযুক্ত); এটি ক্ষমতার দাপট ও স্বার্থের সংঘাত ব্যতিত আর কিছুই না।

অর্থাৎ প্রথমে তিনি অন্তবর্তী সরকারের সময় ফায়েজ তৈয়ব আহমেদ ও সচিব শীষ হায়দার চৌধুরীর সাথে একই রাজনৈতিক পরিচয়ে ক্ষমতার দাপট দেখাতেন এবং এখন তার বাবার রাজনৈতিক পরিচয়ে ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছেন; এমনকি (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) একজন সিনিয়র কর্মকর্তা (অতিরিক্ত সচিব) কে কোন একমত পার্থক্যের কারণে দেখে নেয়ার হুমকিও দিয়েছেন।

আইসিটি মন্ত্রী মহোদয় কে প্রশ্ন করা হলে তিনি ৫টি গুরুত্ব পূর্ণ দায়িত্ব একজন কর্মকর্তাকে প্রদানের বিষয়টি অবগত নন মর্ম জানান। অর্থাৎ মন্ত্রী মহোদয়কে এবিষয়ে পরিষ্কার ধরণা না দিয়েই অনলাইন নথির মাধ্যমে দায়িত্ব বন্টনের ফাইলটি অনুমোদন নেন।
তবে পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য বিভিন্ন বিষয়ে তার অবদান তুলে ধরার জন্য যোগাযোগ করা হলে গত ২৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে হাই-টেক পার্কের ২টি সদস্য পদ হতে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন; কিন্তু চতুর এই কর্মকর্তা লাভজনক ১৪টি জেলায় আইটি ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন প্রকল্প ও ডিজি-আইসিটি অধিদপ্তরের দায়িত্ব ঠিক-ই নিজের কব্জায় ধরে রেখেছেন; যেখানে প্রায় ৭০০ জনবলের আইসিটি অধিদপ্তরের প্রতিটি উপজেলায় অফিস রয়েছে সেই দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি ১টি বৃহৎ প্রকল্পের দায়িত্বও নিজের কব্জায় রেখেছেন; অতিপারদর্শী কোন কর্মকর্তার পক্ষেও সঠিকভাবে এতগুলো দায়িত্ব পালন করা সম্ভব না। এখন আইসিটি বিভাগে দায়িত্ব দেয়ার মত অনেক যোগ্য কর্মকর্তা রয়েছেন, যাদের অনেকের কাজের পরিধি কম বলে জানা যায়, তাদের মধ্য হতে এই দায়িত্ব বন্টন করা যেত।

বর্তমানে সাইফুল হাসান ৩টি ভিন্ন ভিন্ন দপ্তরের ৩টি লাভজনক পদ দখল করে আছেন- (১) ডিজি, আইসিটি অধিদপ্তর, (২) হাই-টেক পার্কের ১টি প্রকল্পের পিডি, যে প্রকল্পে সাইট ১৪টি জেলায়, যার প্রচুর কাজ করতে হয় (৩) আইসিটি মন্ত্রনালয়ের প্রশাসন অধিশাখার দায়িত্ব, এই পদে থেকে প্রথম ২টি পদের মনিটরিং ও খবরদারি করা হয়; এধরণের দায়িত্ব পালন স্বার্থের সংঘাত হিসেবে বিবেচিত হয়। তিনি একাধারে মন্ত্রনালয়ের প্রশাসনের প্রধান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের প্রধান এবং হাই-টেক পার্কের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড ছিলেন।

এসকল দায়িত্ব বন্টন প্রক্রিয়াকরণ ও অনুমোদনের ক্ষেত্রে যুগ্মসচিব সাইফুল হাসান নিজে সরাসরি জড়িত; কারণ তার অধিশাখার মাধ্যমেই দায়িত্ব বন্টনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। সাইফুল হাসান আইসিটি বিভাগের যুগ্ম-সচিব (প্রশাসন) এর দায়িত্বে থাকার কারণে তিনি নিজ নামে অতিরিক্ত ৫টি দায়িত্বে অফিস আদেশ জারী করে নিজে দায়িত্ব গ্রহণ করতে সক্ষম হয়েছেন।

জনগণের সম্পদের অপচয় ও অদক্ষ ব্যবস্থাপনা: হাই-টেক পার্কের ৩টি পদের – (ক) সদস্য (বিনিয়োগ), (খ) সদস্য (প্রশাসন ও কারিগরি), (ঘ) প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব ও মন্ত্রনালয়ের প্রশাসন শাখার গ্রহণের পর প্রত্যেক দায়িত্বের জন্য সজ্জিত অফিস কক্ষ থাকার পরও প্রায় ৯.৮০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে প্রায় ১২৫/১৫০ বর্গফুটের অফিস রুম ডেকুরেশন বাবদ খরচ করেছেন; অথচ এই রুমটি প্রায় ৫ লক্ষ টাকায় সুসজ্জিত ছিল। এছাড়াও প্রকল্প অফিসে (আগারগাওস্থ পর্যটন ভবনে) পিডির জন্য বিদ্যমান সজ্জিত রুমটিও ৮ লক্ষ টাকা দিয়ে পুনরায় সজ্জিত করেছেন; আইসিটি বিভাগের প্রশাসন অধিশাখার সেট পরিবর্তন করতে খরচ করেছেন। যেখানে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী একজন এমপির অফিস সজ্জার জন্য মাত্র ৬ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন (১৭ জুন ২০২৬, সমকাল) সেখানে এই কর্মকর্তা অপ্রয়োজনে পূর্বের সাজ-সজ্জা ভেঙ্গে নতুন করে খরচ করেছেন। অর্থাৎ জনগণের টেক্সের টাকা/ সম্পদের প্রতি উনার কোন বিন্দুমাত্র দরদ বা জবাবদিহিতা নেই; আর এ কাজটি RFQ এর মাধ্যমে পছন্দের লোককে দিয়ে করিয়েছেন। এই সমপরিমান টাকা দিয়ে গ্রামের মানুষ ৩ রুমের একটি আবাসিক বাড়ি নির্মাণ করতে পারবে। অথচ এই খরচ না করেও তিনি আইসিটি টাওয়ারের ৪র্থ তলায় উনার মূল দায়িত্বের জন্য বরাদ্দকৃত রুমে বসেই সকল কাজ সম্পন্ন করতে পারতেন।

এছাড়ও আইসিটি বিভাগের প্রশাসন অধিশাখার কর্মকর্তা হওয়ায় আইসিটি বিভাগ ও এর আওতায় বিভিন্ন সংস্থার লাভজনক কমিটিতে (ক্রয়, মূল্যায়ন, নিয়োগ-পদোন্নতি ইত্যাদি) নিজেকে মনোনয়ন প্রদান করেছেন।

সর্বশেষ ২২-২৬ জুলাই ২০২৬ সাইফুল হাসানের নেতৃত্বে ০৫ সদস্যের একটি টিম সিঙ্গাপুরে ভ্রমণে গিয়েছেন; কিন্তু ০৬/০৭/২০২৬ তারিখে বিদেশ ভ্রমণ সংক্রান্ত আদেশটি জারী করা হলেও আইসিটি বিভাগের ওয়েব সাইটে প্রকাশ করা হয়নি। পরে সিঙ্গপুর যাওয়ার বিমানে উঠার কিছুক্ষণ আগে বিদেশ ভ্রমণ আদেশটি প্রকাশ করা হয়। এখানে সাইফুল হাসান (যুগ্ম সচিব) আইসিটি বিভাগের প্রশাসন শাখার দায়িত্বে থাকার কারনে জিও-টি দেরিতে প্রকাশ করে; যা চাকুরিপনা ও দূরভিসন্ধির নামান্তর।

যুগ্মসচিব সাইফুল হাসানের হাতে একইসাথে প্রশাসন, প্রকল্প পরিচালক, হাইটেক পার্ক ও আইসিটি অধিদপ্তর সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রেখে ক্ষমতাকে কেন্দ্রীকরণ করা হয়েছে; অথচ আইসিটি টাওয়ারে আরো সিনিয়র উপসচিব ও যুগ্মসচিব আছেন, তাদেরকে দায়িত্ব দেয়া যেত; কিন্তু সাইফুল হাসান একা-ই সব পদ দখল করেছেন। যা Conflict of Interest সৃষ্টি করছে।

 

অন্তবর্তী সরকারের বিশেষ সহকারী ফায়েজ তৈয়ব আহমেদ ও সচিব শীষ হায়দার চৌধুরীর সময় উপসচিব থাকাকালীন হাই-টেক পার্কে পরিচালক (বিনিয়োগ) হিসেবে এবং জেলা পর্যায়ে আইটি ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন প্রকল্পের (১৪টি জেলায়) প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব (প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতাসহ) দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এসংক্রান্ত ২৯/০১/২০২৫ তারিখের ৫৬.০০.০০০০.০৩৬.০৫.০০১.১৬.১১৫ নং স্মারকের ১টি অফিস আদেশ পাওয়া গেছে যেটাতে সাইফুল হাসান নিজেই স্বাক্ষর করেছেন। সর্বশেষ ২৯/০৯/২০২৬ তারিখের দায়িত্ব বন্টনের যে অফিস আদেশটি জারী করা হয়েছে, সেটি মন্ত্রী মহোদয়কে মৌখিকভাবে পরিষ্কার ধরণা দিয়ে অনুমোদন নেয়া হয়েছে কি-না, মন্ত্রীমহোদয়কে প্রশ্ন করা হলে, তিনি এ বিষয় অবগত নন মর্মে জানান।

এখানে ক্রয় বা টেন্ডার হয়েছে, নাকি হয় নি; তা গুরুত্বপূর্ণ না; গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সাইফুল হাসানের অনেক গুলো পদে দায়িত্ব থাকার কারণে ১.৫ বছরেও প্রকল্পটির খুব একটা অগ্রগতি হয়নি। ফলে এপ্রকল্প বাস্তবায়নে প্রকল্প ব্যয় স্বাভাবিক ভাবেই বাড়বে; আর যদি প্রকল্প ব্যয় বাড়ানো না হয় তাহলে বিদ্যমান ঠিকাদারগণ নিম্নমানের পণ্য দিয়ে ব্যয় সমন্নয় করার চেষ্টা করবে। কাজেই পিডির পদে নিজেকে ধরে রেখে তিনি রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় বাড়িয়েছেন এবং প্রকল্পটি বিলম্বিত হওয়ার কারণে উপকারভোগীরাও বঞ্চিত হয়েছেন। অথচ এই সময়ে আইসিটি টাওয়ারে কর্মরত বিভিন্ন পদে ২জন অতিরিক্ত সচিব ও ৮ জন যুগ্ম-সচিব কর্মরত ছিলেন এবং আরো ৮-১০ সিনিয়র উপসচিব ছিলেন; তাদের দায়িত্ব দিয়ে প্রকল্পের কাজটি ত্বরান্বিত করা যেত।

আইসিটি টাওয়ারের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীগণের সাথে আলাপ করে জানা যায় ইভেন্ট আয়োজনে ক্রয় প্রক্রিয়ার জামেলা থাকায় এর বিল প্রদান করতে বিলম্ব হয়েছে, প্রায় জুন’২০২৬ এ এসে বিল দেয়া হয়েছে; অথচ ইভেন্ট হয়েছিল জানুয়ারি মাসে। এছাড়াও আইসিটি বিভাগের কিছু কর্মচারীর কাছ হতে জানা যায় সাইফুল হাসান পদ ও ক্ষমতার প্রভাব কাটিয়ে ইভেন্ট কোম্পানীর অনেক কাজ হাই-টেকের কর্মচারীদের দিয়ে করিয়েছেন। যেমন-দাওয়াত খাম গোছানো ও বিলি করা; এর জন্য ইভেন্ট ফার্মকে বিল দেয়া হয়েছে; অথচ এই একই কারণে কর্মচারীদেরকেও হাই-টেক হতে TA বিল দেয়া হয়েছে। এছাড়াও ব্রান্ডিং, প্রকাশনা, লিফলেট, ইভেন্ট চলাকালীন স্ন্যাকস ব্যবস্থাকরণ ইত্যাদি অনেক কাজ না করেই বিল দেয়া হয়েছে। ইভেন্ট এর কিছু কিছু কাজ আছে যেগুলো ইভেন্ট শেষ হয়ে যাওয়ার পর আর ট্রেস করা যায় না। আর ইভেন্ট বুঝে নেয়ার যে কমিটি করা হয়েছে, তাদের ৩জনের ২জন-ই সরাসরি ইভেন্ট আয়োজনে জড়িত ছিলেন না; তাহলে উনারা কিভাবে ইভেন্টের জন্য BOQ ভুক্ত কম্পোনেন্ট গুলো বুঝে নিবেন, যা তিনি দেখেন-ই না।

হাই-টেক পার্কের ৩টি পদের- (ক) সদস্য (বিনিয়োগ), (খ) সদস্য (প্রশাসন ও কারিগরি), (ঘ) প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব ও মন্ত্রনালয়ের প্রশাসন শাখার গ্রহণের পর প্রত্যেক দায়িত্বের জন্য সজ্জিত অফিস কক্ষ থাকার পরও প্রায় ৯.৮০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে প্রায় ১২৫/১৫০ বর্গফুটের অফিস রুম ডেকুরেশন বাবদ খরচ করেছেন; অথচ এই রুমটি প্রায় ৫ লক্ষ টাকায় সুসজ্জিত ছিল। এছাড়াও প্রকল্প অফিসে (আগারগাওস্থ পর্যটন ভবনে) পিডির জন্য বিদ্যমান সজ্জিত রুমটিও ৮ লক্ষ টাকা দিয়ে পুনরায় সজ্জিত করেছেন; আইসিটি বিভাগের প্রশাসন অধিশাখার সেট পরিবর্তন করতে খরচ করেছেন। যেখানে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী একজন এমপির অফিস সজ্জার জন্য মাত্র ৬ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন (১৭ জুন ২০২৬, সমকাল) সেখানে এই কর্মকর্তা অপ্রয়োজনে পূর্বের সাজ-সজ্জা ভেঙ্গে নতুন করে খরচ করেছেন। অর্থাৎ জনগণের টেক্সের টাকা/ সম্পদের প্রতি উনার কোন বিন্দুমাত্র দরদ বা জবাবদিহিতা নেই; আর এ কাজটি RFQ এর মাধ্যমে পছন্দের লোককে দিয়ে করিয়েছেন। এই সমপরিমান টাকা দিয়ে গ্রামের মানুষ ৩ রুমের একটি আবাসিক বাড়ি নির্মাণ করতে পারবে। অথচ এই খরচ না করেও তিনি আইসিটি টাওয়ারের ৪র্থ তলায় উনার মূল দায়িত্বের জন্য বরাদ্দকৃত রুমে বসেই সকল কাজ সম্পন্ন করতে পারতেন।

অথচ এই রুম গুলো ডেকুরেশন না করেও তিনি ৪র্থ তলায় তার মুল দায়িত্ব প্রশাসন অধিশাখার রুমে বসে সবগুলো দায়িত্ব পালন করতে পারতেন এবং ৯০% সময় তিনি ৪র্থ তলায় থেকেই সকল কাজ করেছেন।

৫টি পদের দায়িত্ব পালনের পর তিনি তার রুমে বসে টিভি দেখার সময় পেতেন কি ভাবে? এগুলা জনগনের সম্পদের অদক্ষ ব্যবহারের নামান্তর, যা একজন অদক্ষ ও ইনটেগ্রিটি বিহীন কর্মকর্তার দ্বারাই সম্ভব।

ওয়ার্কসপ সেমিনার ও প্রশিক্ষণের ফাইল ঘাটলে পাওয়া যাবে। এমনকি দপ্তরগুলোর এসংক্রান্ত ফাইল ঘাটলে পাওয়া যাবে যে একই দিনে তিনি দিনব্যাপী সেমিনার/ওয়ার্কসপের একাধিক সম্মানী গ্রহণ করেছেন।

কুমিল্লাতে ১৪টি জেলায় আইটি ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন প্রকল্পের কোন প্রজেক্ট সাইট নেই। কিন্তু হাইটেক কর্তৃপক্ষের অধিন অন্য প্রকল্পের ৮আইটি সাইট নির্মান চলমান আছে। কাজেই একই প্রকৃতির যে প্রকল্প চলমান আছে সে প্রকল্প হতে সেমিনার আয়োজন না করে নিজ দায়িত্ব থাকা প্রকল্প হতে এই সেমিনার আয়োজন করায় সংশ্লিটি প্রকল্পটির প্রকল্প এলাকার উপকারভোগীরা বঞ্চিত হবে। এছাড়াও কুমিল্লা তার বাবার রাজনৈতিক এলাকা, সেখানে এই সেমিনারগুলো আয়োজন করে তিনি রাজনৈতিক ভাবে জনপ্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন, এছাড়া আর কিছু নয়।

আগের এমডি এ.কে. এম আমিরুল ইসলাম খুব শান্ত ও নিরীহ প্রকৃতির মানুষ ছিলেন; সাইফুল হাসান ফায়েজ তৈয়ব ও শীষ হায়দারের ক্ষমতা ব্যবহার করে শিবির সমন্বয়কদের সাথে আতাত করে এক অফিস আদেশের মাধ্যমে ঢাকায় আনা হয়, তখন সাইফুল হাসান এমডির রুটিন দায়িত্বে ছিলেন। পরবর্তীতে এমডি আমিরুল সাহেব হজ হতে ফিরে এসে আবার পারভেজকে বরিশাল বদলি করেন। কিন্তু সাইফুল হাসান আবার ডিজিটাল ডিভাইস ইনোভেশ এক্সপোর কথা বলে ঢাকায় বদলি করান।
কথিত আছে যে, মুলত: সাইফুল হাসান, মোশাররফ হোসেন পারভেজ ও শাহারিয়ার আল হাসানকে দিয়ে নিজের অবৈধ কাজ গুলো করাতেন। আর জুলাই হত্যা মামলার বিষয়টি সাইফুল নিজে দেখবেন এই আশ্বাস দেন। সাইফুল হাসানের আশ্বাস পেয়েই জুলাই হত্যা মামলার ২ আসামি মোশাররফ হোসেন পারভেজ ও শাহারিয়ার আল হাসান নিরাপদে অফিস করছেন এবং সাইফুল হাসানকে দুর্নীতিতে সহযোগিতা করছেন মর্মে কথা প্রচলিত আছে। ফ্যাসিস্ট আমলের এই দুই কর্মকর্তা সাইফুল হাসানের জন্য এখনো হাই-টেক পার্কের গুরুত্বপূর্ণ শাখায় নিয়োজিত আছেন।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আওয়ামী লীগ-জাতীয় পার্টি থেকে বিএনপি—সর্বদলীয় প্রভাবের অভিযোগ

আইসিটিতে তিন পদে বহাল সাইফুল হাসান!

আপডেট সময় : ১১:৫১:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

অন্তবর্তী সরকারের বিশেষ সহকারী ফায়েজ তৈয়ব আহমেদ ও সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী তাঁদের দলপন্থী (রাজনৈতিক) হিসেবে পরিচিত আইসিটি বিভাগের যুগ্মসচিব মো: সাইফুল হাসানকে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করেন এবং আইসিটি টাওয়ারে সচিবের পরে তার একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। সেগুলো হলো- তিনি একাধারে মন্ত্রনালয়ের (১) প্রশাসন অধিশাখার প্রধান; হাই-টেক পার্কের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অর্থাৎ (২) সদস্য (প্রশাসন ও কারিগরি), (৩) সদস্য (বিনিয়োগ ও পার্ক সমন্বয়), এবং (৪) জেলা পর্যায়ে আইটি ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন প্রকল্পের (১৪টি জেলায়) প্রকল্প পরিচালকের (প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতাসহ) দায়িত্ব গ্রহণ। ২৯/০১/২০২৫ তারিখে উপসচিব থাকা অবস্থায় তিনি এ দায়িত্ব গ্রহন করেন, যে আদেশে (১১৫ নং স্মারক) তিনি নিজেই স্বাক্ষর করেছেন।

পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ ও দুই-তৃতীয়াংশ আসনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করলে; বাবার মত দল/মত পাল্টিয়ে (অন্তবর্তী সরকারের সময়ের নিজের পরিচয় পাল্টিয়ে) তার পিতা সাবেক এমপি (১৯৭৩ এ আওয়ামীলীগের শেখ মুজিব সরকারের এমপি, ১৯৮৬ তে স্বতন্ত্র এমপি, ১৯৮৮ তে জাতীয় পার্টির এমপি ও ২০০১ সালে বিএনপি হতে নমিনেশন নিয়ে এমপি নির্বাচিত) অধ্যাপক মরহুম ইউনুস সাহেবের পরিচয় ভাঙ্গিয়ে দাপট দেখিয়ে ও প্রশাসন অধিশাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে ক্ষমতা খাটিয়ে আরও ১টি গুরুত্বপূর্ণ পদ আইসিটি অধিদপ্তরের মহা-পরিচালকের (ডিজি) দায়িত্ব নিতে নিজের নামে অফিস আদেশ করিয়ে নেন। অথচ এই সময়ে আইসিটি টাওয়ারে বিভিন্ন পদে ২জন অতিরিক্ত সচিব ও ৮ জন যুগ্ম-সচিব কর্মরত ছিলেন এবং আরো ৫-৬ সিনিয়র উপসচিব ছিলেন, অনেকেই তার ব্যাচমেট। এরপরও নিজের নামে অধিদপ্তরের মহা-পরিচালকের (ডিজি) (প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতাসহ) দায়িত্বের অর্ডার করিয়েছেন (অফিস আদেশ সংযুক্ত); এটি ক্ষমতার দাপট ও স্বার্থের সংঘাত ব্যতিত আর কিছুই না।

অর্থাৎ প্রথমে তিনি অন্তবর্তী সরকারের সময় ফায়েজ তৈয়ব আহমেদ ও সচিব শীষ হায়দার চৌধুরীর সাথে একই রাজনৈতিক পরিচয়ে ক্ষমতার দাপট দেখাতেন এবং এখন তার বাবার রাজনৈতিক পরিচয়ে ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছেন; এমনকি (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) একজন সিনিয়র কর্মকর্তা (অতিরিক্ত সচিব) কে কোন একমত পার্থক্যের কারণে দেখে নেয়ার হুমকিও দিয়েছেন।

আইসিটি মন্ত্রী মহোদয় কে প্রশ্ন করা হলে তিনি ৫টি গুরুত্ব পূর্ণ দায়িত্ব একজন কর্মকর্তাকে প্রদানের বিষয়টি অবগত নন মর্ম জানান। অর্থাৎ মন্ত্রী মহোদয়কে এবিষয়ে পরিষ্কার ধরণা না দিয়েই অনলাইন নথির মাধ্যমে দায়িত্ব বন্টনের ফাইলটি অনুমোদন নেন।
তবে পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য বিভিন্ন বিষয়ে তার অবদান তুলে ধরার জন্য যোগাযোগ করা হলে গত ২৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে হাই-টেক পার্কের ২টি সদস্য পদ হতে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন; কিন্তু চতুর এই কর্মকর্তা লাভজনক ১৪টি জেলায় আইটি ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন প্রকল্প ও ডিজি-আইসিটি অধিদপ্তরের দায়িত্ব ঠিক-ই নিজের কব্জায় ধরে রেখেছেন; যেখানে প্রায় ৭০০ জনবলের আইসিটি অধিদপ্তরের প্রতিটি উপজেলায় অফিস রয়েছে সেই দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি ১টি বৃহৎ প্রকল্পের দায়িত্বও নিজের কব্জায় রেখেছেন; অতিপারদর্শী কোন কর্মকর্তার পক্ষেও সঠিকভাবে এতগুলো দায়িত্ব পালন করা সম্ভব না। এখন আইসিটি বিভাগে দায়িত্ব দেয়ার মত অনেক যোগ্য কর্মকর্তা রয়েছেন, যাদের অনেকের কাজের পরিধি কম বলে জানা যায়, তাদের মধ্য হতে এই দায়িত্ব বন্টন করা যেত।

বর্তমানে সাইফুল হাসান ৩টি ভিন্ন ভিন্ন দপ্তরের ৩টি লাভজনক পদ দখল করে আছেন- (১) ডিজি, আইসিটি অধিদপ্তর, (২) হাই-টেক পার্কের ১টি প্রকল্পের পিডি, যে প্রকল্পে সাইট ১৪টি জেলায়, যার প্রচুর কাজ করতে হয় (৩) আইসিটি মন্ত্রনালয়ের প্রশাসন অধিশাখার দায়িত্ব, এই পদে থেকে প্রথম ২টি পদের মনিটরিং ও খবরদারি করা হয়; এধরণের দায়িত্ব পালন স্বার্থের সংঘাত হিসেবে বিবেচিত হয়। তিনি একাধারে মন্ত্রনালয়ের প্রশাসনের প্রধান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের প্রধান এবং হাই-টেক পার্কের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড ছিলেন।

এসকল দায়িত্ব বন্টন প্রক্রিয়াকরণ ও অনুমোদনের ক্ষেত্রে যুগ্মসচিব সাইফুল হাসান নিজে সরাসরি জড়িত; কারণ তার অধিশাখার মাধ্যমেই দায়িত্ব বন্টনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। সাইফুল হাসান আইসিটি বিভাগের যুগ্ম-সচিব (প্রশাসন) এর দায়িত্বে থাকার কারণে তিনি নিজ নামে অতিরিক্ত ৫টি দায়িত্বে অফিস আদেশ জারী করে নিজে দায়িত্ব গ্রহণ করতে সক্ষম হয়েছেন।

জনগণের সম্পদের অপচয় ও অদক্ষ ব্যবস্থাপনা: হাই-টেক পার্কের ৩টি পদের – (ক) সদস্য (বিনিয়োগ), (খ) সদস্য (প্রশাসন ও কারিগরি), (ঘ) প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব ও মন্ত্রনালয়ের প্রশাসন শাখার গ্রহণের পর প্রত্যেক দায়িত্বের জন্য সজ্জিত অফিস কক্ষ থাকার পরও প্রায় ৯.৮০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে প্রায় ১২৫/১৫০ বর্গফুটের অফিস রুম ডেকুরেশন বাবদ খরচ করেছেন; অথচ এই রুমটি প্রায় ৫ লক্ষ টাকায় সুসজ্জিত ছিল। এছাড়াও প্রকল্প অফিসে (আগারগাওস্থ পর্যটন ভবনে) পিডির জন্য বিদ্যমান সজ্জিত রুমটিও ৮ লক্ষ টাকা দিয়ে পুনরায় সজ্জিত করেছেন; আইসিটি বিভাগের প্রশাসন অধিশাখার সেট পরিবর্তন করতে খরচ করেছেন। যেখানে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী একজন এমপির অফিস সজ্জার জন্য মাত্র ৬ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন (১৭ জুন ২০২৬, সমকাল) সেখানে এই কর্মকর্তা অপ্রয়োজনে পূর্বের সাজ-সজ্জা ভেঙ্গে নতুন করে খরচ করেছেন। অর্থাৎ জনগণের টেক্সের টাকা/ সম্পদের প্রতি উনার কোন বিন্দুমাত্র দরদ বা জবাবদিহিতা নেই; আর এ কাজটি RFQ এর মাধ্যমে পছন্দের লোককে দিয়ে করিয়েছেন। এই সমপরিমান টাকা দিয়ে গ্রামের মানুষ ৩ রুমের একটি আবাসিক বাড়ি নির্মাণ করতে পারবে। অথচ এই খরচ না করেও তিনি আইসিটি টাওয়ারের ৪র্থ তলায় উনার মূল দায়িত্বের জন্য বরাদ্দকৃত রুমে বসেই সকল কাজ সম্পন্ন করতে পারতেন।

এছাড়ও আইসিটি বিভাগের প্রশাসন অধিশাখার কর্মকর্তা হওয়ায় আইসিটি বিভাগ ও এর আওতায় বিভিন্ন সংস্থার লাভজনক কমিটিতে (ক্রয়, মূল্যায়ন, নিয়োগ-পদোন্নতি ইত্যাদি) নিজেকে মনোনয়ন প্রদান করেছেন।

সর্বশেষ ২২-২৬ জুলাই ২০২৬ সাইফুল হাসানের নেতৃত্বে ০৫ সদস্যের একটি টিম সিঙ্গাপুরে ভ্রমণে গিয়েছেন; কিন্তু ০৬/০৭/২০২৬ তারিখে বিদেশ ভ্রমণ সংক্রান্ত আদেশটি জারী করা হলেও আইসিটি বিভাগের ওয়েব সাইটে প্রকাশ করা হয়নি। পরে সিঙ্গপুর যাওয়ার বিমানে উঠার কিছুক্ষণ আগে বিদেশ ভ্রমণ আদেশটি প্রকাশ করা হয়। এখানে সাইফুল হাসান (যুগ্ম সচিব) আইসিটি বিভাগের প্রশাসন শাখার দায়িত্বে থাকার কারনে জিও-টি দেরিতে প্রকাশ করে; যা চাকুরিপনা ও দূরভিসন্ধির নামান্তর।

যুগ্মসচিব সাইফুল হাসানের হাতে একইসাথে প্রশাসন, প্রকল্প পরিচালক, হাইটেক পার্ক ও আইসিটি অধিদপ্তর সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রেখে ক্ষমতাকে কেন্দ্রীকরণ করা হয়েছে; অথচ আইসিটি টাওয়ারে আরো সিনিয়র উপসচিব ও যুগ্মসচিব আছেন, তাদেরকে দায়িত্ব দেয়া যেত; কিন্তু সাইফুল হাসান একা-ই সব পদ দখল করেছেন। যা Conflict of Interest সৃষ্টি করছে।

 

অন্তবর্তী সরকারের বিশেষ সহকারী ফায়েজ তৈয়ব আহমেদ ও সচিব শীষ হায়দার চৌধুরীর সময় উপসচিব থাকাকালীন হাই-টেক পার্কে পরিচালক (বিনিয়োগ) হিসেবে এবং জেলা পর্যায়ে আইটি ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন প্রকল্পের (১৪টি জেলায়) প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব (প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতাসহ) দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এসংক্রান্ত ২৯/০১/২০২৫ তারিখের ৫৬.০০.০০০০.০৩৬.০৫.০০১.১৬.১১৫ নং স্মারকের ১টি অফিস আদেশ পাওয়া গেছে যেটাতে সাইফুল হাসান নিজেই স্বাক্ষর করেছেন। সর্বশেষ ২৯/০৯/২০২৬ তারিখের দায়িত্ব বন্টনের যে অফিস আদেশটি জারী করা হয়েছে, সেটি মন্ত্রী মহোদয়কে মৌখিকভাবে পরিষ্কার ধরণা দিয়ে অনুমোদন নেয়া হয়েছে কি-না, মন্ত্রীমহোদয়কে প্রশ্ন করা হলে, তিনি এ বিষয় অবগত নন মর্মে জানান।

এখানে ক্রয় বা টেন্ডার হয়েছে, নাকি হয় নি; তা গুরুত্বপূর্ণ না; গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সাইফুল হাসানের অনেক গুলো পদে দায়িত্ব থাকার কারণে ১.৫ বছরেও প্রকল্পটির খুব একটা অগ্রগতি হয়নি। ফলে এপ্রকল্প বাস্তবায়নে প্রকল্প ব্যয় স্বাভাবিক ভাবেই বাড়বে; আর যদি প্রকল্প ব্যয় বাড়ানো না হয় তাহলে বিদ্যমান ঠিকাদারগণ নিম্নমানের পণ্য দিয়ে ব্যয় সমন্নয় করার চেষ্টা করবে। কাজেই পিডির পদে নিজেকে ধরে রেখে তিনি রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় বাড়িয়েছেন এবং প্রকল্পটি বিলম্বিত হওয়ার কারণে উপকারভোগীরাও বঞ্চিত হয়েছেন। অথচ এই সময়ে আইসিটি টাওয়ারে কর্মরত বিভিন্ন পদে ২জন অতিরিক্ত সচিব ও ৮ জন যুগ্ম-সচিব কর্মরত ছিলেন এবং আরো ৮-১০ সিনিয়র উপসচিব ছিলেন; তাদের দায়িত্ব দিয়ে প্রকল্পের কাজটি ত্বরান্বিত করা যেত।

আইসিটি টাওয়ারের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীগণের সাথে আলাপ করে জানা যায় ইভেন্ট আয়োজনে ক্রয় প্রক্রিয়ার জামেলা থাকায় এর বিল প্রদান করতে বিলম্ব হয়েছে, প্রায় জুন’২০২৬ এ এসে বিল দেয়া হয়েছে; অথচ ইভেন্ট হয়েছিল জানুয়ারি মাসে। এছাড়াও আইসিটি বিভাগের কিছু কর্মচারীর কাছ হতে জানা যায় সাইফুল হাসান পদ ও ক্ষমতার প্রভাব কাটিয়ে ইভেন্ট কোম্পানীর অনেক কাজ হাই-টেকের কর্মচারীদের দিয়ে করিয়েছেন। যেমন-দাওয়াত খাম গোছানো ও বিলি করা; এর জন্য ইভেন্ট ফার্মকে বিল দেয়া হয়েছে; অথচ এই একই কারণে কর্মচারীদেরকেও হাই-টেক হতে TA বিল দেয়া হয়েছে। এছাড়াও ব্রান্ডিং, প্রকাশনা, লিফলেট, ইভেন্ট চলাকালীন স্ন্যাকস ব্যবস্থাকরণ ইত্যাদি অনেক কাজ না করেই বিল দেয়া হয়েছে। ইভেন্ট এর কিছু কিছু কাজ আছে যেগুলো ইভেন্ট শেষ হয়ে যাওয়ার পর আর ট্রেস করা যায় না। আর ইভেন্ট বুঝে নেয়ার যে কমিটি করা হয়েছে, তাদের ৩জনের ২জন-ই সরাসরি ইভেন্ট আয়োজনে জড়িত ছিলেন না; তাহলে উনারা কিভাবে ইভেন্টের জন্য BOQ ভুক্ত কম্পোনেন্ট গুলো বুঝে নিবেন, যা তিনি দেখেন-ই না।

হাই-টেক পার্কের ৩টি পদের- (ক) সদস্য (বিনিয়োগ), (খ) সদস্য (প্রশাসন ও কারিগরি), (ঘ) প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব ও মন্ত্রনালয়ের প্রশাসন শাখার গ্রহণের পর প্রত্যেক দায়িত্বের জন্য সজ্জিত অফিস কক্ষ থাকার পরও প্রায় ৯.৮০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে প্রায় ১২৫/১৫০ বর্গফুটের অফিস রুম ডেকুরেশন বাবদ খরচ করেছেন; অথচ এই রুমটি প্রায় ৫ লক্ষ টাকায় সুসজ্জিত ছিল। এছাড়াও প্রকল্প অফিসে (আগারগাওস্থ পর্যটন ভবনে) পিডির জন্য বিদ্যমান সজ্জিত রুমটিও ৮ লক্ষ টাকা দিয়ে পুনরায় সজ্জিত করেছেন; আইসিটি বিভাগের প্রশাসন অধিশাখার সেট পরিবর্তন করতে খরচ করেছেন। যেখানে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী একজন এমপির অফিস সজ্জার জন্য মাত্র ৬ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন (১৭ জুন ২০২৬, সমকাল) সেখানে এই কর্মকর্তা অপ্রয়োজনে পূর্বের সাজ-সজ্জা ভেঙ্গে নতুন করে খরচ করেছেন। অর্থাৎ জনগণের টেক্সের টাকা/ সম্পদের প্রতি উনার কোন বিন্দুমাত্র দরদ বা জবাবদিহিতা নেই; আর এ কাজটি RFQ এর মাধ্যমে পছন্দের লোককে দিয়ে করিয়েছেন। এই সমপরিমান টাকা দিয়ে গ্রামের মানুষ ৩ রুমের একটি আবাসিক বাড়ি নির্মাণ করতে পারবে। অথচ এই খরচ না করেও তিনি আইসিটি টাওয়ারের ৪র্থ তলায় উনার মূল দায়িত্বের জন্য বরাদ্দকৃত রুমে বসেই সকল কাজ সম্পন্ন করতে পারতেন।

অথচ এই রুম গুলো ডেকুরেশন না করেও তিনি ৪র্থ তলায় তার মুল দায়িত্ব প্রশাসন অধিশাখার রুমে বসে সবগুলো দায়িত্ব পালন করতে পারতেন এবং ৯০% সময় তিনি ৪র্থ তলায় থেকেই সকল কাজ করেছেন।

৫টি পদের দায়িত্ব পালনের পর তিনি তার রুমে বসে টিভি দেখার সময় পেতেন কি ভাবে? এগুলা জনগনের সম্পদের অদক্ষ ব্যবহারের নামান্তর, যা একজন অদক্ষ ও ইনটেগ্রিটি বিহীন কর্মকর্তার দ্বারাই সম্ভব।

ওয়ার্কসপ সেমিনার ও প্রশিক্ষণের ফাইল ঘাটলে পাওয়া যাবে। এমনকি দপ্তরগুলোর এসংক্রান্ত ফাইল ঘাটলে পাওয়া যাবে যে একই দিনে তিনি দিনব্যাপী সেমিনার/ওয়ার্কসপের একাধিক সম্মানী গ্রহণ করেছেন।

কুমিল্লাতে ১৪টি জেলায় আইটি ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন প্রকল্পের কোন প্রজেক্ট সাইট নেই। কিন্তু হাইটেক কর্তৃপক্ষের অধিন অন্য প্রকল্পের ৮আইটি সাইট নির্মান চলমান আছে। কাজেই একই প্রকৃতির যে প্রকল্প চলমান আছে সে প্রকল্প হতে সেমিনার আয়োজন না করে নিজ দায়িত্ব থাকা প্রকল্প হতে এই সেমিনার আয়োজন করায় সংশ্লিটি প্রকল্পটির প্রকল্প এলাকার উপকারভোগীরা বঞ্চিত হবে। এছাড়াও কুমিল্লা তার বাবার রাজনৈতিক এলাকা, সেখানে এই সেমিনারগুলো আয়োজন করে তিনি রাজনৈতিক ভাবে জনপ্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন, এছাড়া আর কিছু নয়।

আগের এমডি এ.কে. এম আমিরুল ইসলাম খুব শান্ত ও নিরীহ প্রকৃতির মানুষ ছিলেন; সাইফুল হাসান ফায়েজ তৈয়ব ও শীষ হায়দারের ক্ষমতা ব্যবহার করে শিবির সমন্বয়কদের সাথে আতাত করে এক অফিস আদেশের মাধ্যমে ঢাকায় আনা হয়, তখন সাইফুল হাসান এমডির রুটিন দায়িত্বে ছিলেন। পরবর্তীতে এমডি আমিরুল সাহেব হজ হতে ফিরে এসে আবার পারভেজকে বরিশাল বদলি করেন। কিন্তু সাইফুল হাসান আবার ডিজিটাল ডিভাইস ইনোভেশ এক্সপোর কথা বলে ঢাকায় বদলি করান।
কথিত আছে যে, মুলত: সাইফুল হাসান, মোশাররফ হোসেন পারভেজ ও শাহারিয়ার আল হাসানকে দিয়ে নিজের অবৈধ কাজ গুলো করাতেন। আর জুলাই হত্যা মামলার বিষয়টি সাইফুল নিজে দেখবেন এই আশ্বাস দেন। সাইফুল হাসানের আশ্বাস পেয়েই জুলাই হত্যা মামলার ২ আসামি মোশাররফ হোসেন পারভেজ ও শাহারিয়ার আল হাসান নিরাপদে অফিস করছেন এবং সাইফুল হাসানকে দুর্নীতিতে সহযোগিতা করছেন মর্মে কথা প্রচলিত আছে। ফ্যাসিস্ট আমলের এই দুই কর্মকর্তা সাইফুল হাসানের জন্য এখনো হাই-টেক পার্কের গুরুত্বপূর্ণ শাখায় নিয়োজিত আছেন।