টাঙ্গাইলে সেতুতে রডের বদলে বাঁশ, গ্রেপ্তার ১
- আপডেট সময় : ১২:৪৪:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৪২ বার পড়া হয়েছে
টাঙ্গাইলের বাসাইলে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাত স্ল্যাব তৈরিতে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাই দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় সাব-ঠিকাদার শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবির। এর আগে দুপুরে বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া সেতুর কাছ থেকে শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
দুইজনকে আসামি করে মামলা
বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় প্রধান ঠিকাদার এসএম জাহাঙ্গীর আলম ও সাব-ঠিকাদার শাহ আলমকে আসামি করা হয়েছে।
ওসি আলমগীর কবির জানান, মামলার এক আসামি শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধান আসামি এসএম জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
গ্রেপ্তার শাহ আলমের বয়স ৪৪ বছর। তিনি রংপুরের পীরগাছা উপজেলার বালাপাড়া এলাকার মৃত নবুর উদ্দিনের ছেলে।
রাতের আঁধারে বাঁশ দিয়ে ঢালাই
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়কে ৯০ দশমিক ৬ মিটার দৈর্ঘ্যের পিএসসি গার্ডার সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে।
সেতুটি নির্মাণের কাজ পায় মেসার্স ইউনুছ আল মামুন-মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ (জেবি)। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা।
২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরে সময় বাড়ানো হয়। বর্তমানে সেতুটির প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।
গত ২০ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন সেতুর ফুটপাত স্ল্যাব তৈরির জন্য রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাই শুরু করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয়রা বিষয়টি দেখতে পেয়ে বাধা দেন। পরে কাজ বন্ধ করা হয়। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন মোবাইল ফোনে ঢালাইয়ের ভিডিও ধারণ করেন। স্থানীয়রা চলে যাওয়ার পর আবারও রাতে কাজ শুরু করে সেটি শেষ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে স্থানীয়দের ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এরপর বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
তদন্ত কমিটি গঠন
ঘটনার তদন্তে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেনের স্বাক্ষরিত আদেশে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটিতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত) মো. আহাদি হোসেনকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন বাসাইল পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী রবিউল আলম ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আলতাব হোসেন।
কমিটিকে এক দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ত্রুটি সংশোধন এবং গাফিলতির বিষয়ে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের
মঙ্গলবার বিকেলে সেতুটি পরিদর্শনে যান স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ঢাকা অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল মনজুর মুহাম্মদ ছাদেক।
উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বলেন, নিয়ম অনুযায়ী সেতুর মূল কাজের আগে প্রি-ওয়ার্ক বা স্ল্যাবের নিচের অংশের ঢালাই করা হয়। পরে ফুটপাত বা ওয়াকওয়ের কাজ সম্পন্ন করা হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার এসএম জাহাঙ্গীর ও সহকারী ঠিকাদার শাহ আলম প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতিতে রাতের আঁধারে গোপনে ওয়াকওয়ে ও ফুটপাতের ঢালাইয়ের কাজ করেন।
কাজী ফাত্তাউর রহমান আরও বলেন, বিষয়টি নজরে আসার পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়। পরে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
তিনি জানান, ঢাকা অঞ্চল ও নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছে। পাশাপাশি ল্যাব টেস্টসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। এসব পর্যালোচনার পর বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। এরপর আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে গ্রেপ্তার সাব-ঠিকাদার শাহ আলম বাসাইল থানা গ্রেপ্তার করেছে। বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আলমগীর কবির বলেন, সেতুতে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাইয়ের ঘটনায় বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী বাদী হয়ে দুইজনের নামে উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছেন। দুইজনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়। এই মামলায় প্রধান আসামী ঠিকাদার এসএম জাহাঙ্গীর আলম ও সাব-ঠিকাদার শাহ আলম। এঘটনায় সাব-ঠিকাদার শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
























