ইউরোপের বাজারে নিম্নমুখী বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি
- আপডেট সময় : ০৩:১২:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
- / ১৫৫২ বার পড়া হয়েছে
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ প্রান্তে এসেও ইউরোপের বাজারে নিম্নমুখী বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি। অর্থবছরের ১১ মাসে ইইউর বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে প্রায় সাড়ে তিন শতাংশ। বৈশ্বিক সংকটের পাশাপাশি দেশে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং কাস্টমস ও বন্ড ব্যবস্থাপনায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে প্রতিযোগী দেশগুলোর সাথে সক্ষমতায় পিছিয়ে পড়ার কথা জানিয়েছেন চট্টগ্রামের রপ্তানিকারকরা।
পতনের বৃত্তেই ঘুরপাক খাচ্ছে দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত– তৈরি পোশাকের রপ্তানি আয়। ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগী দেশ চীন, ভিয়েতনাম কিংবা তুরস্ক যেখানে নিজেদের আধিপত্য বাড়াচ্ছে, সেখানে ক্রমাগত কমছে এ দেশের পোশাকের বাজার।
মে মাসে সাড়ে ১৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে সাময়িকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও, অর্থ বছরের ১১ মাস শেষে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে কোনোভাবেই স্বস্তিতে নেই বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত।
ইপিবির তথ্য বলছে, গত জুলাই থেকে মে মাস পর্যন্ত ইইউভুক্ত দেশগুলোতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১ হাজার ৭৩৬ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি ডলার। অথচ পুরো ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই বাজারে রপ্তানি ৯ শতাংশ বেড়ে পৌঁছেছিল ১ হাজার ৯৭১ কোটি ডলারে।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাজার- ইউরোপের জার্মানিতে মে মাসে রপ্তানি কিছুটা বাড়লেও, তা আগের সর্বোচ্চ স্তরের চেয়ে এখনো অনেক কম। একই চিত্র স্পেন, ফ্রান্স ও ইতালির বাজারেও। ব্যবসায়ীরা বলছেন, গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিতে উৎপাদন খরচ বাড়ার পাশাপাশি কাস্টমস ও বন্ডের আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় নাকাল হতে হচ্ছে তাদের।
ইউরোপের বাজারে পোশাক খাতের এই নেতিবাচক পরিস্থিতি এড়াতে কাস্টমস ও বন্ড ব্যবস্থার জরুরি আধুনিকায়ন, দীর্ঘমেয়াদী নীতিগত সংস্কার এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দ্রুত দূর করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
























