লাব্বাইকের শহরে নীরব পরিবর্তনের গল্প
- আপডেট সময় : ০৫:০৯:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
- / ১৫৩১ বার পড়া হয়েছে
পবিত্র নগরী মক্কা—যেখানে প্রতিদিন পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে মানুষের পদচারণা মিশে যায় একটাই কেন্দ্রে—মসজিদুল হারাম—সেখানে সময় যেন থেমে নেই, বরং প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে পাথর, দেয়াল আর আকাশরেখা।
গত কয়েক দশকে এই নগরী সাক্ষী হয়েছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অবকাঠামো পরিবর্তনের। একদিকে কোটি কোটি মানুষের আগমন সামলানোর চাপ, অন্যদিকে আধ্যাত্মিক কেন্দ্রকে আধুনিক নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় ঢেলে সাজানোর রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা—এই দুইয়ের মাঝখানে বদলে গেছে মক্কার চেহারা।
সরকারি উন্নয়ন পরিকল্পনায় শত শত বিলিয়ন রিয়াল ব্যয়ে মসজিদুল হারামকে সম্প্রসারণ করা হয়েছে বহু ধাপে। নতুন বহুতল নামাজের জায়গা, বিশাল ছায়াঘেরা করিডোর, উন্নত প্রবেশপথ—সবকিছুই তৈরি হয়েছে একটাই লক্ষ্য নিয়ে: হজ মৌসুমে আগত লক্ষ লক্ষ মানুষের নিরাপদ ও দ্রুত চলাচল নিশ্চিত করা।
কিন্তু এই আধুনিকতার আলো ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে উঠেছে প্রশ্নও। ইতিহাসবিদদের একাংশ বলছেন, এই সম্প্রসারণের ফলে বহু শতাব্দী পুরোনো স্থাপত্যচিহ্ন হারিয়ে গেছে—যা ছিল ইসলামের প্রাথমিক ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষ্য।
নাটকীয় বাস্তবতা এখানেই থেমে নেই। ১৯শ শতকের শেষ দিকের মক্কার ছবিতে দেখা যায়, আজকের মতো ঘন নগরায়ণ তখন ছিল না। বিশেষ করে সাফা ও মারওয়া—সাফা ও মারওয়া—ছিল উন্মুক্ত পাহাড়ি পথ। সেখানে হাজেরা (আ.)-এর পানির খোঁজে ছুটে চলার স্মৃতি ধারণ করে হজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ “সাঈ” সম্পন্ন হতো খোলা পরিবেশে।
আজ সেই পথ আর খোলা প্রান্তর নয়—বরং বিশাল মার্বেল ঘেরা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত করিডোরের ভেতর দিয়ে হাজারো মানুষ একই আধ্যাত্মিক যাত্রা সম্পন্ন করছেন। কেউ একে বলছেন “প্রয়োজনীয় আধুনিকীকরণ”, আবার কেউ বলছেন “ইতিহাসের উপর নীরব পরিবর্তনের ছাপ”।
ইসলামের দুটি প্রধান উৎসবের অন্যতম ঈদুল আযহা চলতি সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে অনুষ্ঠিত হবে এবং এটি হজের চূড়ান্ত পর্যায়কে চিহ্নিত করে। হজ হলো এমন একটি তীর্থযাত্রা যা লক্ষ লক্ষ মুসলমান মক্কায় পালন করেন, যেখানে তারা ইসলামের নবী মুহাম্মদ (সা.) কর্তৃক ১৪ শতাব্দী আগে তাঁর অনুসারীদের শেখানো ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানগুলো সম্পন্ন করেন।
তবু সব পরিবর্তনের মাঝেও একটি দৃশ্য অপরিবর্তিত—কাবাকে ঘিরে মানুষের অবিরাম তাওয়াফ। সাদা ইহরামের ঢেউ, অশ্রুসিক্ত দোয়া, আর লাখো কণ্ঠের একসঙ্গে উচ্চারিত “লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক”—এসবের ভেতরেই যেন মক্কার প্রকৃত পরিচয় লুকিয়ে আছে
























