মাছ, মুরগি ও ডিমের বাজারে স্বস্তি নেই
- আপডেট সময় : ১১:৩৩:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৪০ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর বাজারে মাছ, মুরগি ও ডিমের দামে এখনো স্বস্তি ফেরেনি। কিছু পণ্যের দাম সামান্য কমলেও সার্বিক বাজারে বড় পরিবর্তন নেই। বরং সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দাম বেড়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন নিম্নবিত্ত ও সীমিত আয়ের মানুষ।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বেড়েছে ডিমের দাম
বাজারে এক ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায়। গত সপ্তাহে একই ডিমের দাম ছিল ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডজনপ্রতি দাম বেড়েছে প্রায় ১০ টাকা।
এক ডজন ডিম কিনতে এখন ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে সর্বোচ্চ ১৫৫ টাকা।
মুরগির দামে বড় পরিবর্তন নেই
ব্রয়লার মুরগির দাম গত সপ্তাহের মতোই রয়েছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায়।
তবে সোনালি, হাইব্রিড ও লেয়ার মুরগির দামে কিছুটা কমতি দেখা গেছে। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩১০ থেকে ৩২০ টাকায়। হাইব্রিড মুরগির দাম ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা। আর লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা কেজি দরে।
এক বিক্রেতা জানান, গত সপ্তাহের তুলনায় মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। তবে ক্রেতাদের স্বস্তি ফেরার মতো কমেনি।
মাছের বাজারেও অস্থিরতা
মাছের বাজারে দাম মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও প্রতিদিনই ওঠানামা করছে। কোনো কোনো মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। আবার কিছু মাছের দাম ১০ থেকে ২০ টাকা কমেছে।
পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২৩০ টাকায়। তেলাপিয়ার দাম ২৬০ টাকা। মাঝারি আকারের রুই মিলছে ২৭০ থেকে ৩৫০ টাকায়। বড় রুইয়ের দাম ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা।
এ ছাড়া পাবদা ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা এবং মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
চাষের কইয়ের দাম ৩০০ টাকা। দেশি কই বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়। বাইমের দাম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা। শোল মাছের দাম ৭০০ টাকা পর্যন্ত।
চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা কেজি। অন্যদিকে রূপচাঁদা ও কিছু সামুদ্রিক মাছ কিনতে কেজিপ্রতি গুনতে হচ্ছে ১ হাজার টাকার বেশি।
চাপে নিম্নবিত্ত পরিবার
মাছের দাম বাড়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্নবিত্ত ও সীমিত আয়ের মানুষ। তুলনামূলক কম দামের পাঙাশ ও তেলাপিয়াও এখন অনেকের বাজেটের বাইরে চলে যাচ্ছে।
ক্রেতাদের ভাষ্য, বাড়তি দামের কারণে মাছ কেনার পরিমাণ কমাতে হচ্ছে। কেউ কেউ নিয়মিত মাছ কেনাও বন্ধ করেছেন।
রায়ের বাজারের ক্রেতা মৌসুমি আখতার বলেন, মাসিক বাজারের জন্য রুই, শিং ও ট্যাংরা কিনেছেন। তিন ধরনের মাছ কিনতেই তাকে প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকা খরচ করতে হয়েছে।
দিনমজুর আবুল হোসেন বলেন, আগে পাঙাশ ও তেলাপিয়া কিনতেন। এখন এসব মাছের দামও বেশি। প্রতিদিনই দাম বাড়ছে। কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
ডিম ব্যবসায়ী মাছুম জানান, ডিমের দাম কমেনি। বর্তমানে প্রতি ডজন ডিম ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।




















