০১:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

বিদিশা এরশাদ গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১২:৩২:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৫২২ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা এরশাদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এর আগে গত ২০ মে প্রতারণার অভিযোগে রাজধানীর গুলশান থানায় করা

সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা এরশাদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ২০০৮ সালে রাজধানীর গুলশান থানায় করা একটি প্রতারণা মামলায় আদালতের দেওয়া দুই বছরের কারাদণ্ডের পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর গুলশানের একটি রেস্টুরেন্ট থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে গুলশান থানা পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাউদ হোসেন।

দুই বছরের কারাদণ্ড

ফ্ল্যাট বিক্রির নামে প্রতারণার অভিযোগে করা মামলায় গত ২০ মে বিদিশা এরশাদকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলম। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার টাকা পরিশোধ না করলে আরও এক মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। রায় ঘোষণার সময় বিদিশা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। পরে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, আদালতের ওই পরোয়ানার ভিত্তিতেই মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গুলশান থানার ওসি দাউদ হোসেন বলেন, প্রতারণার মামলায় দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় আদালত থেকে পরোয়ানা পাওয়ার পর বিদিশাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

যে অভিযোগে মামলা

মামলার নথি ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঢাকার ব্যবসায়ী এ কে এম মোশাররফ হোসেন সিকদার বারিধারায় একটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য বিদিশার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০১ সালের ১ জুলাই বিদিশা তাকে রাজধানীর বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট দেখান এবং সেটি বিক্রির প্রস্তাব দেন।

পরে ফ্ল্যাটটি ৮০ লাখ টাকায় বিক্রির বিষয়ে চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, নির্ধারিত প্রক্রিয়া শেষে ফ্ল্যাটটি ক্রেতার কাছে হস্তান্তরের কথা ছিল। অভিযোগে বলা হয়, ২০০১ সালের ১০ জুলাই মোশাররফ হোসেন বিদিশার মনোনীত ব্যক্তি আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দেন। পরে এ বিষয়ে বায়নানামাও সম্পাদন করা হয়।

তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফ্ল্যাটটি বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন মামলার বাদী। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর তিনি টাকা ফেরত চাইলে বিদিশা টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, পরে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়। কিন্তু ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় চেকটি ডিজঅনার হয়। এরপর টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করেও সমাধান না হওয়ায় আইনি পদক্ষেপ নেন ওই ব্যবসায়ী।

২০০৮ সালে মামলা

ফ্ল্যাট বিক্রির নামে প্রতারণার অভিযোগে মোশাররফ হোসেন সিকদার ২০০৮ সালে গুলশান থানায় মামলা করেন। মামলাটি দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় করা হয়। পরে তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলায় ছয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

মামলার বিচার শেষে চলতি বছরের ২০ মে আদালত বিদিশাকে দোষী সাব্যস্ত করে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়। আদালতের রায়ের পর তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি থাকায় মঙ্গলবার রাতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচিত ছিলেন বিদিশা

হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে বিদিশা এরশাদ দীর্ঘদিন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত ছিলেন। এরশাদের সঙ্গে তার সম্পর্ক ও পরবর্তী সময়ে জাতীয় পার্টির রাজনীতিকে ঘিরে বিভিন্ন সময় সংবাদমাধ্যমে তার বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড উঠে এসেছে।

এরশাদের মৃত্যুর পরও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে বিদিশার বক্তব্য আলোচনায় এসেছে। তবে এবার একটি পুরোনো প্রতারণা মামলায় আদালতের সাজা কার্যকরের অংশ হিসেবে গ্রেপ্তার হলেন তিনি।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আদালতের পরোয়ানা অনুযায়ী তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী তার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বিদিশা এরশাদ গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ১২:৩২:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা এরশাদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এর আগে গত ২০ মে প্রতারণার অভিযোগে রাজধানীর গুলশান থানায় করা

সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা এরশাদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ২০০৮ সালে রাজধানীর গুলশান থানায় করা একটি প্রতারণা মামলায় আদালতের দেওয়া দুই বছরের কারাদণ্ডের পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর গুলশানের একটি রেস্টুরেন্ট থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে গুলশান থানা পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাউদ হোসেন।

দুই বছরের কারাদণ্ড

ফ্ল্যাট বিক্রির নামে প্রতারণার অভিযোগে করা মামলায় গত ২০ মে বিদিশা এরশাদকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলম। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার টাকা পরিশোধ না করলে আরও এক মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। রায় ঘোষণার সময় বিদিশা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। পরে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, আদালতের ওই পরোয়ানার ভিত্তিতেই মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গুলশান থানার ওসি দাউদ হোসেন বলেন, প্রতারণার মামলায় দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় আদালত থেকে পরোয়ানা পাওয়ার পর বিদিশাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

যে অভিযোগে মামলা

মামলার নথি ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঢাকার ব্যবসায়ী এ কে এম মোশাররফ হোসেন সিকদার বারিধারায় একটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য বিদিশার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০১ সালের ১ জুলাই বিদিশা তাকে রাজধানীর বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট দেখান এবং সেটি বিক্রির প্রস্তাব দেন।

পরে ফ্ল্যাটটি ৮০ লাখ টাকায় বিক্রির বিষয়ে চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, নির্ধারিত প্রক্রিয়া শেষে ফ্ল্যাটটি ক্রেতার কাছে হস্তান্তরের কথা ছিল। অভিযোগে বলা হয়, ২০০১ সালের ১০ জুলাই মোশাররফ হোসেন বিদিশার মনোনীত ব্যক্তি আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দেন। পরে এ বিষয়ে বায়নানামাও সম্পাদন করা হয়।

তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফ্ল্যাটটি বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন মামলার বাদী। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর তিনি টাকা ফেরত চাইলে বিদিশা টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, পরে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়। কিন্তু ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় চেকটি ডিজঅনার হয়। এরপর টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করেও সমাধান না হওয়ায় আইনি পদক্ষেপ নেন ওই ব্যবসায়ী।

২০০৮ সালে মামলা

ফ্ল্যাট বিক্রির নামে প্রতারণার অভিযোগে মোশাররফ হোসেন সিকদার ২০০৮ সালে গুলশান থানায় মামলা করেন। মামলাটি দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় করা হয়। পরে তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলায় ছয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

মামলার বিচার শেষে চলতি বছরের ২০ মে আদালত বিদিশাকে দোষী সাব্যস্ত করে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়। আদালতের রায়ের পর তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি থাকায় মঙ্গলবার রাতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচিত ছিলেন বিদিশা

হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে বিদিশা এরশাদ দীর্ঘদিন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত ছিলেন। এরশাদের সঙ্গে তার সম্পর্ক ও পরবর্তী সময়ে জাতীয় পার্টির রাজনীতিকে ঘিরে বিভিন্ন সময় সংবাদমাধ্যমে তার বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড উঠে এসেছে।

এরশাদের মৃত্যুর পরও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে বিদিশার বক্তব্য আলোচনায় এসেছে। তবে এবার একটি পুরোনো প্রতারণা মামলায় আদালতের সাজা কার্যকরের অংশ হিসেবে গ্রেপ্তার হলেন তিনি।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আদালতের পরোয়ানা অনুযায়ী তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী তার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।