বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য এল-১ ভিসা নিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম ইউএসজিআইএসের
- আপডেট সময় : ০৮:০৪:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৩১ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং পরিবারসহ নতুন সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে এল-১ ভিসা নিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অভিবাসন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড স্টেটস গ্লোবাল ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসজিআইএস)।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শেখ গালিব রহমান, ইউএসজিআইএসের চিফ ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্ট ও ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের সাবেক ভিসা প্রধান ড্যানিয়েল ট্রিপের নেতৃত্বে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালনা করছেন কান্ট্রি ম্যানেজার শেখ দোদুল।
ইউএসজিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, প্রযুক্তি ও ব্যবসা খাতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন উদ্যোক্তা শেখ গালিব রহমান প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন ড্যানিয়েল ট্রিপ। তিনি দীর্ঘদিন ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসে ভিসা প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে চিফ ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্ট হিসেবে তিনি বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের এল-১ ভিসা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি এবং আবেদন প্রক্রিয়ায় প্রস্তুতির বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, মার্কিন দূতাবাসের ভিসা সাক্ষাৎকার ও অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে ড্যানিয়েল ট্রিপের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা আবেদনকারীদের যথাযথ প্রস্তুতি নিতে সহায়তা করবে।
ইউএসজিআইএসের দাবি, বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে তাদের সহায়তায় এল-১ ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা সম্প্রসারণ করেছে। এর মধ্যে আলিফ ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেল, আস্থা আইটি এবং বিজেআইটির নাম উল্লেখ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তারা শুধু ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় সহায়তা নয়, কোম্পানি নিবন্ধন, আইনগত পরামর্শ, হিসাবরক্ষণ, ব্যাংকিং সহায়তা, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা প্রস্তুত, অফিস স্থাপন এবং পরিবারের স্থানান্তরসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে থাকে।
এল-১ ভিসা মূলত এমন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য, যারা যুক্তরাষ্ট্রে নতুন অফিস স্থাপন করতে চায় অথবা বিদেশে থাকা প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী বা ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের কর্মকর্তাকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তর করতে চায়। সাধারণভাবে আবেদনকারীর গত তিন বছরের মধ্যে অন্তত এক বছর নির্বাহী বা ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। পাশাপাশি বিদেশি ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নির্ধারিত করপোরেট সম্পর্ক থাকতে হয়।
ইউএসজিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, নতুন অফিসের ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে এক বছরের অনুমোদন দেওয়া হয়। বিদ্যমান অফিসের ক্ষেত্রে অনুমোদনের মেয়াদ তিন বছর হতে পারে এবং নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে তা সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব।
এল-১ ভিসাধারীর স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানরাও এল-২ ভিসার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেন। নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী স্বামী বা স্ত্রী কাজের অনুমতি পাওয়ার সুযোগ পান এবং সন্তানরা যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করতে পারে। যোগ্যতা ও অন্যান্য শর্ত পূরণ হলে পরবর্তী সময়ে ইবি-১সি ক্যাটাগরির মাধ্যমে স্থায়ী বসবাসের সুযোগের জন্য আবেদন করার পথও তৈরি হতে পারে।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ইউএসজিআইএস আবেদনকারীদের কোম্পানি নিবন্ধন, অফিস স্থাপন, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা প্রস্তুত, ভিসা আবেদন, সাক্ষাৎকার প্রস্তুতি এবং গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন ধাপে সহায়তা দিয়ে থাকে। প্রিমিয়াম প্রসেসিংয়ের ক্ষেত্রে প্রায় ১৫ দিনের মধ্যে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত পাওয়া যেতে পারে বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে। নিয়মিত প্রক্রিয়ায় সাধারণত তিন থেকে পাঁচ মাস সময় লাগতে পারে বলেও তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
ইউএসজিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, ২৫ বছরের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিকভাবে অভিবাসন-সংক্রান্ত সেবা দিয়ে আসছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের ১৬টি এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৩০টি অফিস রয়েছে। ঢাকা, লন্ডন, দুবাই, কানাডা, সিঙ্গাপুর ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা সম্প্রসারণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক ও পারিবারিক পরিকল্পনার ক্ষেত্রে এল-১ ভিসা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হতে পারে। এ বিষয়ে উদ্যোক্তাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতেই তাদের এই উদ্যোগ।



























