০৪:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

বাঁচতে চায় শিশু ফাতেমা, শেষ অস্ত্রোপচারে প্রয়োজন ১০ লাখ টাকা

আওলাদ রুবেল, ময়মনসিংহ
  • আপডেট সময় : ০৩:৪১:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৬৪ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বয়স মাত্র পাঁচ বছর। যে বয়সে সমবয়সীদের সঙ্গে ছুটে বেড়ানোর কথা, সেই বয়সে বিছানায় শুয়েই দিন কাটছে শিশু ফাতেমার। জন্মের মাত্র সাত দিনের মাথায় ধরা পড়ে বৃহদান্ত্রের জটিলতা। এরপর থেকে শুরু হয় চিকিৎসার দীর্ঘ পথচলা। কয়েক দফা অস্ত্রোপচার করেও পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেনি শিশুটি। এখন শেষ অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজন আরও ১০ লাখ টাকা। কিন্তু পরিবারের হাতে নেই সেই অর্থ। তাই টাকার অভাবে এক বছর ধরে বন্ধ রয়েছে ফাতেমার চিকিৎসা। সন্তানকে বাঁচাতে সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন তার অসহায় বাবা-মা।

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার রাওনা ইউনিয়নের রাওনা গ্রামের বাসিন্দা নাসিমা আক্তার। পাঁচ বছর আগে তাঁর ঘরে জন্ম নেয় তৃতীয় সন্তান ফাতেমা। জন্মের সাত দিনের মাথায় চিকিৎসকেরা শিশুটির বৃহদান্ত্রে জটিলতা শনাক্ত করেন। এরপর শুরু হয় চিকিৎসা। মেয়েকে সুস্থ করে তুলতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করানোর পাশাপাশি ভারতে নিয়ে যান তার বাবা-মা।

চিকিৎসার জন্য বিক্রি করেছেন জমি, করেছেন ঋণ

ফাতেমার চিকিৎসার জন্য একের পর এক অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। কয়েক দফা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার পেট কেটে মলত্যাগের বিকল্প পথ তৈরি করা হয়। দীর্ঘ চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের পরও শিশুটি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেনি। অস্ত্রোপচারজনিত জটিলতায় মস্তিষ্কে চাপ পড়ার কারণে ফাতেমা এখন শারীরিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধিতার মধ্যে রয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

মেয়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে ইতোমধ্যে জমিজমা বিক্রি করেছেন তার বাবা-মা। পাশাপাশি ধারদেনাও করতে হয়েছে তাঁদের। দেশে ও ভারতে ফাতেমার চিকিৎসায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। কিন্তু এত অর্থ খরচ করেও মেয়েকে সুস্থ করে তোলার স্বপ্ন পূরণ হয়নি তাঁদের।

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, ফাতেমার শেষ অস্ত্রোপচারের জন্য আরও ১০ লাখ টাকা প্রয়োজন। তবে আর্থিক সংকটের কারণে সেই অর্থ জোগাড় করতে পারছে না পরিবারটি। ফলে গত এক বছর ধরে বন্ধ রয়েছে তার চিকিৎসা।

বিছানায় কাটছে শৈশব, অপেক্ষা সুস্থ জীবনের

ফাতেমার বয়সী শিশুরা যখন খেলাধুলা, হাসি-আনন্দ আর ছোটাছুটিতে মেতে থাকে, তখন অসুস্থতার কারণে বিছানায় শুয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে তাকে। মেয়ের এমন কষ্ট দেখে অসহায় হয়ে পড়েছেন মা নাসিমা আক্তার। সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে দুশ্চিন্তায় কাটছে তাঁর দিন। অর্থের অভাবে মেয়ের চিকিৎসা করাতে না পারার কষ্টও তাঁকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে।

পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনেরাও চান, ফাতেমা আবার সুস্থ জীবনে ফিরে আসুক। তবে বিপুল অঙ্কের চিকিৎসাব্যয় বহন করার সামর্থ্য তাঁদের নেই। এ অবস্থায় ফাতেমার চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও সহৃদয় মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন তাঁরা।

সহযোগিতার আশ্বাস উপজেলা প্রশাসনের

গফরগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ ইউসুফ জানিয়েছেন, ফাতেমার পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা চেয়ে আবেদন করা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে মেয়েকে সুস্থ করে তোলার আশায় এখনো অপেক্ষা করছেন ফাতেমার বাবা-মা। তাঁদের প্রত্যাশা, মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা হবে এবং ফাতেমার চিকিৎসা আবার শুরু করা সম্ভব হবে।

পাঁচ বছরের এই শিশুটির সামনে রয়েছে সুস্থ জীবনে ফিরে আসার স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন পূরণে এখন প্রয়োজন সবার মানবিক সহযোগিতা।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বাঁচতে চায় শিশু ফাতেমা, শেষ অস্ত্রোপচারে প্রয়োজন ১০ লাখ টাকা

আপডেট সময় : ০৩:৪১:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

বয়স মাত্র পাঁচ বছর। যে বয়সে সমবয়সীদের সঙ্গে ছুটে বেড়ানোর কথা, সেই বয়সে বিছানায় শুয়েই দিন কাটছে শিশু ফাতেমার। জন্মের মাত্র সাত দিনের মাথায় ধরা পড়ে বৃহদান্ত্রের জটিলতা। এরপর থেকে শুরু হয় চিকিৎসার দীর্ঘ পথচলা। কয়েক দফা অস্ত্রোপচার করেও পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেনি শিশুটি। এখন শেষ অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজন আরও ১০ লাখ টাকা। কিন্তু পরিবারের হাতে নেই সেই অর্থ। তাই টাকার অভাবে এক বছর ধরে বন্ধ রয়েছে ফাতেমার চিকিৎসা। সন্তানকে বাঁচাতে সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন তার অসহায় বাবা-মা।

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার রাওনা ইউনিয়নের রাওনা গ্রামের বাসিন্দা নাসিমা আক্তার। পাঁচ বছর আগে তাঁর ঘরে জন্ম নেয় তৃতীয় সন্তান ফাতেমা। জন্মের সাত দিনের মাথায় চিকিৎসকেরা শিশুটির বৃহদান্ত্রে জটিলতা শনাক্ত করেন। এরপর শুরু হয় চিকিৎসা। মেয়েকে সুস্থ করে তুলতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করানোর পাশাপাশি ভারতে নিয়ে যান তার বাবা-মা।

চিকিৎসার জন্য বিক্রি করেছেন জমি, করেছেন ঋণ

ফাতেমার চিকিৎসার জন্য একের পর এক অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। কয়েক দফা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার পেট কেটে মলত্যাগের বিকল্প পথ তৈরি করা হয়। দীর্ঘ চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের পরও শিশুটি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেনি। অস্ত্রোপচারজনিত জটিলতায় মস্তিষ্কে চাপ পড়ার কারণে ফাতেমা এখন শারীরিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধিতার মধ্যে রয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

মেয়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে ইতোমধ্যে জমিজমা বিক্রি করেছেন তার বাবা-মা। পাশাপাশি ধারদেনাও করতে হয়েছে তাঁদের। দেশে ও ভারতে ফাতেমার চিকিৎসায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। কিন্তু এত অর্থ খরচ করেও মেয়েকে সুস্থ করে তোলার স্বপ্ন পূরণ হয়নি তাঁদের।

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, ফাতেমার শেষ অস্ত্রোপচারের জন্য আরও ১০ লাখ টাকা প্রয়োজন। তবে আর্থিক সংকটের কারণে সেই অর্থ জোগাড় করতে পারছে না পরিবারটি। ফলে গত এক বছর ধরে বন্ধ রয়েছে তার চিকিৎসা।

বিছানায় কাটছে শৈশব, অপেক্ষা সুস্থ জীবনের

ফাতেমার বয়সী শিশুরা যখন খেলাধুলা, হাসি-আনন্দ আর ছোটাছুটিতে মেতে থাকে, তখন অসুস্থতার কারণে বিছানায় শুয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে তাকে। মেয়ের এমন কষ্ট দেখে অসহায় হয়ে পড়েছেন মা নাসিমা আক্তার। সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে দুশ্চিন্তায় কাটছে তাঁর দিন। অর্থের অভাবে মেয়ের চিকিৎসা করাতে না পারার কষ্টও তাঁকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে।

পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনেরাও চান, ফাতেমা আবার সুস্থ জীবনে ফিরে আসুক। তবে বিপুল অঙ্কের চিকিৎসাব্যয় বহন করার সামর্থ্য তাঁদের নেই। এ অবস্থায় ফাতেমার চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও সহৃদয় মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন তাঁরা।

সহযোগিতার আশ্বাস উপজেলা প্রশাসনের

গফরগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ ইউসুফ জানিয়েছেন, ফাতেমার পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা চেয়ে আবেদন করা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে মেয়েকে সুস্থ করে তোলার আশায় এখনো অপেক্ষা করছেন ফাতেমার বাবা-মা। তাঁদের প্রত্যাশা, মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা হবে এবং ফাতেমার চিকিৎসা আবার শুরু করা সম্ভব হবে।

পাঁচ বছরের এই শিশুটির সামনে রয়েছে সুস্থ জীবনে ফিরে আসার স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন পূরণে এখন প্রয়োজন সবার মানবিক সহযোগিতা।