০৫:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

ফরিদপুরে ‘জিনের বাদশা’ চক্রের দুই সদস্য গ্রেপ্তার

ফরিদপুর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৩:৩২:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৬৮৯ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সুলভ মূল্যে ৩৩ টন চাল বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ফরিদপুর। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মোহাম্মদ রাজিব (২৮) ও মো. সুমন (২৬)। তাঁরা ‘জিনের বাদশা’ পরিচয়ে প্রতারণা করা একটি চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে জানিয়েছে পিবিআই।

বুধবার (২১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে পিবিআই ফরিদপুর কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংস্থাটির ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম।

পরিচিত ব্যক্তির পরিচয়ে প্রতারণা

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ী জেলার বাসিন্দা রশিদুলের সঙ্গে সুলভ মূল্যে চাল বিক্রির কথা বলে যোগাযোগ করে প্রতারক চক্রটি। একপর্যায়ে বিজয় বাবু নামের এক ব্যক্তির মোবাইল নম্বর ক্লোন করে তাঁর পরিচিত ব্যক্তি সেজে রশিদুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরে কম দামে ৩৩ টন চাল বিক্রির প্রলোভন দেখানো হয়।

এরপর ‘জিনের বাদশা’ পরিচয়ে অলৌকিক ক্ষমতার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন কৌশলে রশিদুলের কাছ থেকে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রের সদস্যরা।

প্রতারণার শিকার হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে রশিদুল ২০২৪ সালের ২৫ মার্চ থেকে টাকা উদ্ধারের চেষ্টা করেন। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে ওই বছরের ২১ অক্টোবর অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে রাজবাড়ী সদর থানায় দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় মামলা করেন।

যেভাবে শনাক্ত হয় প্রতারক চক্র

মামলাটি তদন্ত করে প্রায় আট মাসেও রহস্য উদ্‌ঘাটন করতে পারেনি রাজবাড়ী জেলা পুলিশ। পরে বাদীর নারাজির পর আদালত মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পিবিআই ফরিদপুরকে দেন। ২০২৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি পিবিআই সদর দপ্তরের স্মারকের মাধ্যমে মামলাটি ফরিদপুর কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়। এরপর তদন্ত শুরু করেন পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) মাজিদুল হক খান।

পিবিআই জানায়, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্লেষণ এবং অর্থ লেনদেনের ধারাবাহিকতা পর্যালোচনার মাধ্যমে চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করা হয়। পরে সোমবার দুপুরে ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কুঞ্জের হাট বাজারের আশপাশ থেকে রাজিব ও সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁরা আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

‘জিনের বাদশা’ পরিচয়ে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চক্রটির সদস্যরা ভুয়া পরিচয়ে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রতারণা করতেন। প্রতারণায় ব্যবহৃত সিম একবার ব্যবহারের পর ফেলে দেওয়াও ছিল তাঁদের কৌশলের অংশ।

কখনো ‘জিনের বাদশা’ পরিচয়ে গভীর রাতে, বিশেষ করে নারীদের ফোন করে ভয়ভীতি দেখাতেন তাঁরা। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অদ্ভুত শব্দ সৃষ্টি করে ভুক্তভোগীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানো হতো। এরপর মূল্যবান জিনিসপত্র হারানো কিংবা জীবনের ঝুঁকির আশঙ্কা দেখিয়ে বিপদ থেকে মুক্তির আশ্বাস দেওয়া হতো। এভাবে ভয় ও অসহায়ত্বকে কাজে লাগিয়ে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিত চক্রটি।

এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তান্ত্রিক ও স্বনামধন্য কবিরাজ পরিচয়ে বিজ্ঞাপন দিয়ে কঠিন ও গোপন রোগের চিকিৎসা, প্রেমে সফলতা এবং দাম্পত্য জীবনের সমস্যা সমাধানের প্রলোভন দেখানো হতো। পাশাপাশি ব্যবসায়ীর পরিচয়ে কম দামে পণ্য বিক্রির প্রস্তাব দিয়েও সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করতেন চক্রের সদস্যরা।

পিবিআইয়ের সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির ফরিদপুর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও বিভিন্ন টেলিভিশন ও পত্রিকার সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ফরিদপুরে ‘জিনের বাদশা’ চক্রের দুই সদস্য গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০৩:৩২:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

সুলভ মূল্যে ৩৩ টন চাল বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ফরিদপুর। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মোহাম্মদ রাজিব (২৮) ও মো. সুমন (২৬)। তাঁরা ‘জিনের বাদশা’ পরিচয়ে প্রতারণা করা একটি চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে জানিয়েছে পিবিআই।

বুধবার (২১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে পিবিআই ফরিদপুর কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংস্থাটির ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম।

পরিচিত ব্যক্তির পরিচয়ে প্রতারণা

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ী জেলার বাসিন্দা রশিদুলের সঙ্গে সুলভ মূল্যে চাল বিক্রির কথা বলে যোগাযোগ করে প্রতারক চক্রটি। একপর্যায়ে বিজয় বাবু নামের এক ব্যক্তির মোবাইল নম্বর ক্লোন করে তাঁর পরিচিত ব্যক্তি সেজে রশিদুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরে কম দামে ৩৩ টন চাল বিক্রির প্রলোভন দেখানো হয়।

এরপর ‘জিনের বাদশা’ পরিচয়ে অলৌকিক ক্ষমতার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন কৌশলে রশিদুলের কাছ থেকে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রের সদস্যরা।

প্রতারণার শিকার হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে রশিদুল ২০২৪ সালের ২৫ মার্চ থেকে টাকা উদ্ধারের চেষ্টা করেন। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে ওই বছরের ২১ অক্টোবর অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে রাজবাড়ী সদর থানায় দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় মামলা করেন।

যেভাবে শনাক্ত হয় প্রতারক চক্র

মামলাটি তদন্ত করে প্রায় আট মাসেও রহস্য উদ্‌ঘাটন করতে পারেনি রাজবাড়ী জেলা পুলিশ। পরে বাদীর নারাজির পর আদালত মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পিবিআই ফরিদপুরকে দেন। ২০২৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি পিবিআই সদর দপ্তরের স্মারকের মাধ্যমে মামলাটি ফরিদপুর কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়। এরপর তদন্ত শুরু করেন পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) মাজিদুল হক খান।

পিবিআই জানায়, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্লেষণ এবং অর্থ লেনদেনের ধারাবাহিকতা পর্যালোচনার মাধ্যমে চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করা হয়। পরে সোমবার দুপুরে ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কুঞ্জের হাট বাজারের আশপাশ থেকে রাজিব ও সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁরা আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

‘জিনের বাদশা’ পরিচয়ে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চক্রটির সদস্যরা ভুয়া পরিচয়ে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রতারণা করতেন। প্রতারণায় ব্যবহৃত সিম একবার ব্যবহারের পর ফেলে দেওয়াও ছিল তাঁদের কৌশলের অংশ।

কখনো ‘জিনের বাদশা’ পরিচয়ে গভীর রাতে, বিশেষ করে নারীদের ফোন করে ভয়ভীতি দেখাতেন তাঁরা। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অদ্ভুত শব্দ সৃষ্টি করে ভুক্তভোগীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানো হতো। এরপর মূল্যবান জিনিসপত্র হারানো কিংবা জীবনের ঝুঁকির আশঙ্কা দেখিয়ে বিপদ থেকে মুক্তির আশ্বাস দেওয়া হতো। এভাবে ভয় ও অসহায়ত্বকে কাজে লাগিয়ে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিত চক্রটি।

এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তান্ত্রিক ও স্বনামধন্য কবিরাজ পরিচয়ে বিজ্ঞাপন দিয়ে কঠিন ও গোপন রোগের চিকিৎসা, প্রেমে সফলতা এবং দাম্পত্য জীবনের সমস্যা সমাধানের প্রলোভন দেখানো হতো। পাশাপাশি ব্যবসায়ীর পরিচয়ে কম দামে পণ্য বিক্রির প্রস্তাব দিয়েও সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করতেন চক্রের সদস্যরা।

পিবিআইয়ের সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির ফরিদপুর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও বিভিন্ন টেলিভিশন ও পত্রিকার সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।