আরেকটি বিপ্লব দরজায় কড়া নাড়ছে: শফিকুর রহমান
- আপডেট সময় : ০১:০৫:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৩৬ বার পড়া হয়েছে
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করলে বিএনপি সরকারকে চড়া মূল্য দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, যুবসমাজকে বিভ্রান্ত না হয়ে জনগণের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আরেকটি বিপ্লব দরজায় কড়া নাড়ছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেট থেকে ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া অভিমুখে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ শুরু হয়। লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘তোমরা কারও ছলনায় কান দিও না। আরেকটি বিপ্লব আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে।’
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি
শফিকুর রহমান বলেন, তারা কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে রাজপথে নামেননি। বরং জনগণের অধিকার ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবি আদায়ের লক্ষ্যেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর আগে জনগণের সহযোগিতায় তাদের দুটি লংমার্চ সফল হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
১১ দলীয় ঐক্যের সাত দফা দাবির মধ্যে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি হিসেবে উল্লেখ করেন জামায়াত আমির। তার ভাষ্য, এই একটি দাবি বাস্তবায়ন করা হলে বাকি ছয়টি দাবি সামনে আনার প্রয়োজন হতো না।
বিএনপি সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে এবং তাদের আশাহত করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিএনপি অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা না নিয়ে নতুন করে সংকট তৈরি করছে বলেও মন্তব্য করেন শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘আমরা পরিষ্কার বলে দিচ্ছি, আপনারা আমাদের দাবি মেনে নেন। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করুন। আমাদের দাবি আদায় করে আমরা ছাড়ব।’
মাতারবাড়ী বন্দর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ব্যাখ্যা দাবি
সমাবেশে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির। প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চার দিনের বিদেশ সফরের উদ্দেশ্য ও ফলাফল জাতির সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, কানেকটিভিটির নামে বাংলাদেশকে কোনো দেশের কাছে ইজারা দেওয়া যাবে না। বিশেষ করে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নিয়ে কোনো ধরনের গোপন সমঝোতা হচ্ছে কি না, তা জনগণকে পরিষ্কারভাবে জানাতে হবে।
জনগণকে লংমার্চ সফল করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অতীতে যারা দাসত্ব স্বীকার করেছে, তাদের পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে।
বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে অন্য নেতাদের অভিযোগ
সমাবেশে বক্তব্য দেন এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। তিনি বলেন, দেশ পরিচালনায় সুশাসন ও কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দলীয় কার্যালয়ে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দরপত্র নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন অলি আহমদ।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, জুলাই বিপ্লবের প্রতি তাদের অঙ্গীকার অটুট রয়েছে। তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চান। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মামুনুল হক আরও বলেন, গণভোট অবৈধ হলে সরকার ও সংসদও বৈধ হতে পারে না। দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, তেল ও গ্যাসের সংকট এবং চাঁদাবাজি-সন্ত্রাস বৃদ্ধির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, বিএনপি ভুল পথে এগিয়ে ফ্যাসিবাদের দিকে যাচ্ছে। সংবিধান সংস্কারের পরিবর্তে সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করে সরকার একদলীয় শাসনের পথে এগোচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
লংমার্চে এনসিপির শীর্ষ নেতারা অনুপস্থিত
শনিবার সকাল ৭টায় শুরু হওয়া উদ্বোধনী সমাবেশে প্রাথমিক বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি জনগণের দাবি আদায়ে লংমার্চের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার কমিটি গঠনের দাবি জানান।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম ছোবহানী, জাগপার সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
এ ছাড়া জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল ও মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম এবং ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বক্তব্য দেন।
তবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেনসহ দলটির কোনো নেতাকে সমাবেশে দেখা যায়নি।
খুলনা, যশোর হয়ে কুষ্টিয়ায় শেষ হবে লংমার্চ
উদ্বোধনী সমাবেশ শেষে সকাল ৮টার দিকে লংমার্চের বহর খুলনা, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়ার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। পথে শরীয়তপুরের জাজিরা, বাগেরহাটের ফকিরহাট, খুলনা মহানগরী, যশোরের মুড়লী ও ঝিনাইদহে পথসভা করার কর্মসূচি রয়েছে।
লংমার্চের শেষ পর্যায়ে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
১১ দলীয় ঐক্যের সাত দফা দাবি
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান থেকে দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে এই লংমার্চের আয়োজন করেছে ১১ দলীয় ঐক্য।
এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম অভিমুখে এবং ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর অভিমুখে দুটি লংমার্চ কর্মসূচি পালন করে জোটটি।




















