হ্যালোইন ঘিরে ফ্রান্সে সহিংস বিক্ষোভের আশঙ্কা
- আপডেট সময় : ১২:৩৬:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৫৫ বার পড়া হয়েছে
হ্যালোইন উৎসবকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সে নতুন করে সহিংস বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। সম্ভাব্য সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাট ঠেকাতে বড় শহরগুলোতে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা। একই সঙ্গে আগাম সতর্কতা হিসেবে বিভিন্ন এলাকার দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) তৃতীয় সপ্তাহের মতো বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিচ্ছেন আন্দোলনকারীরা। হ্যালোইন উৎসবের রাতে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগমকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিশেষ করে মুখোশ পরে উৎসবে অংশ নেওয়া মানুষের ভিড়ে বিক্ষোভকারীরা সহজে মিশে গিয়ে সহিংসতা ঘটাতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সহিংসতা ঠেকাতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা
গত ১৭ অক্টোবরের সহিংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে ফ্রান্সের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ৪০টিরও বেশি মেট্রো স্টেশন ও ট্রাম পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, আগের মতো এবারও বিভিন্ন সড়কে সংঘর্ষ, দোকানপাটে লুটপাট এবং সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটতে পারে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের উচ্চ ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে সতর্কতা জারি করেন। তিনি জানান, শহরের কেন্দ্রস্থলে বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হবে না। পাশাপাশি বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মুখ ঢেকে মাস্ক পরার বিষয়েও নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা জানান তিনি।
রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে বিক্ষোভ
ফ্রান্সের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই বিক্ষোভ বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। দেশটিতে ছয় মাস পরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। বিভিন্ন জনমত জরিপে কট্টর ডানপন্থী নেত্রী মেরিন লে পেন এগিয়ে রয়েছেন।
এমন পরিস্থিতিতে দেশটির চলমান অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি এমানুয়েল ম্যাখো। তিনি বলেছেন, নির্বাচনের এত কাছাকাছি সময়ে ফ্রান্সের এমন অস্থিতিশীল অবস্থায় থাকা স্বাভাবিক নয়।
জীবনযাত্রার ব্যয় থেকে নাগরিক অধিকার
প্রাথমিকভাবে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, সামাজিক বৈষম্য এবং শিক্ষাব্যবস্থার অবনতির প্রতিবাদে এই আন্দোলন শুরু হয়। এতে ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনের কর্মী, বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
তবে সময়ের সঙ্গে আন্দোলনের দাবিতে পরিবর্তন আসে। নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়ন এবং বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েকজন আহত হওয়ার পর নাগরিক স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার রক্ষার দাবিও যুক্ত হয়।
ব্যবসায়ীদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ
সম্ভাব্য সহিংসতা নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি অ্যালাইন ডি ক্রেসেনজো জানান, হ্যালোইন উৎসবের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। কারণ, উৎসবে অংশ নেওয়া মানুষের মুখে মাস্ক থাকায় বিক্ষোভকারীদের শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে।
ইতিমধ্যে প্যারিসের অনেক দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিজেদের নিরাপত্তায় বাড়তি ব্যবস্থা নিয়েছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান কাঠের বোর্ড দিয়ে দোকানের সামনের অংশ ঢেকে রেখেছে, যাতে ভাঙচুর বা হামলার ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি কমানো যায়।
প্যারিসের কয়েকটি এলাকায় রাতের কারফিউ
নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় প্যারিসের রিপাবলিক ও শাতেলে-লেস হাল এলাকায় শনিবার ও রবিবার রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছে। এ সময় নির্দিষ্ট এলাকায় চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ থাকবে।
এ ছাড়া শহরের পরিচ্ছন্নতা ও বিক্ষোভ-পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দিতে এক হাজারের বেশি পৌরকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, হ্যালোইন উৎসব ও বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে যেন নতুন করে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ কিংবা ব্যাপক সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি না ঘটে।
সব মিলিয়ে উৎসবের আনন্দের মধ্যেও ফ্রান্সজুড়ে বিরাজ করছে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিরাপত্তা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।






















