স্বাস্থ্যখাতের অগ্রযাত্রা শুরু করেছে সরকার: রাষ্ট্রপতি
- আপডেট সময় : ১২:৪৩:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৭৭ বার পড়া হয়েছে
বর্তমান সরকার ধ্বংসস্তূপ থেকে কাজ শুরু করেছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যখাতে অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, আধুনিক ও জনমুখী করতে পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ সোসাইটি অব কোলন অ্যান্ড রেক্টাল সার্জনস আয়োজিত ‘বিএসসিআরএস কংগ্রেস ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বিগত সময়ে অপরিকল্পিত ব্যবস্থা ও দুর্নীতির কারণে দেশের স্বাস্থ্যখাত কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। বর্তমান সরকার একটি কঠিন পরিস্থিতি থেকে কাজ শুরু করেছে। সেই বিবেচনায় স্বাস্থ্যখাতে অগ্রযাত্রা অনেক ভালো হচ্ছে। তবে এই অগ্রযাত্রাকে টেকসই করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর সমাধান বের করতে হবে।
স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে
রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না। বরং এই খাতে ব্যয় করা প্রতিটি অর্থের যথাযথ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, যথাযথতা ও জবাবদিহি বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দের অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে চিকিৎসাসেবার মান বাড়বে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষ আরও উন্নত ও মানসম্মত চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে পরিকল্পিত উদ্যোগের পাশাপাশি হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসাসেবার অবকাঠামো এবং জনবল ব্যবস্থাপনার বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানের ওপরও গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি।
অর্থের অভাবে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হওয়া চলবে না
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে কোনো মানুষ যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, চিকিৎসা মানুষের মৌলিক প্রয়োজনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। তাই অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে কেউ যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে দুর্ভোগের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
এ জন্য স্বাস্থ্যসেবাকে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি চিকিৎসা ব্যয় ও সেবাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা কমাতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষের চিকিৎসার সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্য কমানো সম্ভব হবে।
বিশেষায়িত চিকিৎসায় সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ
দেশের মানুষের জন্য উন্নত ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য মানুষকে যেন অপ্রয়োজনীয়ভাবে বিদেশমুখী হতে না হয়, সে লক্ষ্যে দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
এ জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসার অবকাঠামো উন্নয়ন, দক্ষ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী তৈরি এবং আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতির প্রসার ঘটানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে চিকিৎসকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সমৃদ্ধ করতে হবে।
রাষ্ট্রপতি বিশেষ করে কোলন ও রেক্টাল সার্জারির মতো বিশেষায়িত চিকিৎসাক্ষেত্রে দক্ষ জনবল তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, এ ধরনের চিকিৎসায় সক্ষমতা বাড়ানো গেলে দেশের রোগীরা নিজ দেশেই উন্নত চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
নতুন প্রজন্মের চিকিৎসকদের প্রতি প্রত্যাশা
অনুষ্ঠানে নতুন প্রজন্মের সার্জন ও চিকিৎসকদের প্রতি প্রত্যাশা ব্যক্ত করে রাষ্ট্রপতি বলেন, তাঁদের হাত ধরেই দেশের স্বাস্থ্যখাত আরও এগিয়ে যাবে। দক্ষতা, পেশাগত দায়িত্ববোধ ও আধুনিক চিকিৎসাজ্ঞানের সমন্বয়ে তাঁরা জনগণকে উন্নত চিকিৎসাসেবা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।
তিনি বলেন, চিকিৎসকদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য পেশাগত সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে চিকিৎসাবিজ্ঞানের নতুন অগ্রগতি সম্পর্কে জানা যায় এবং চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়।
বাংলাদেশ সোসাইটি অব কোলন অ্যান্ড রেক্টাল সার্জনস আয়োজিত বিএসসিআরএস কংগ্রেস ২০২৬ চিকিৎসকদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়, আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়ে আলোচনা এবং বিশেষায়িত সার্জারির অগ্রগতি তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করেছে।
রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে স্বাস্থ্যখাতের অগ্রগতি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সুশাসন, অর্থের কার্যকর ব্যবহার, চিকিৎসাসেবায় সমতা এবং বিশেষায়িত চিকিৎসার সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। এসব ক্ষেত্রে পরিকল্পিত উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের সাধারণ মানুষের জন্য মানসম্মত ও সহজলভ্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পথ আরও সুগম হবে।






















