০৬:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

স্থানীয় নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি: জামায়াত আমির

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৪:২২:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৮৮ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এখনো সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনের আগে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানাবে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসের হলরুমে সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারি বরাদ্দ নিয়ে বক্তব্যের সমালোচনা

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে এখনো ভালো কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ, যিনি সংসদে শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করেন, তিনি নিজ এলাকায় গিয়ে বলেছেন, বিএনপির প্রার্থী যে এলাকায় বিজয়ী হবেন না, সেখানে সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হবে না। এ ধরনের বক্তব্য অত্যন্ত লজ্জাজনক।

তিনি বলেন, এ বক্তব্যের মাধ্যমে নির্বাচনের আগেই জনগণকে ভয় দেখানো হচ্ছে। এতে ভোটারদের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন

জামায়াত আমির নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির একজন অবসরপ্রাপ্ত ক্যাডারকে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে একজন দলীয় ব্যক্তিকে কেন দায়িত্ব দিতে হবে, তা নিয়ে জনগণের প্রশ্ন রয়েছে। নির্বাচন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ, সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি মানুষের আস্থা থাকা প্রয়োজন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে তাঁরা অবশ্যই নির্বাচনী পরিবেশ উন্নত করার চেষ্টা করবেন। সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানাবেন। যখন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের নিশ্চয়তা পাওয়া যাবে, তখন তাঁরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁরা লড়াই করতে চান বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ

মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু মাদক নিয়ন্ত্রণ, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ কিংবা সমাজে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।

তাঁর অভিযোগ, রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান কোনো উন্নতি হয়নি। এ অবস্থায় জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রসঙ্গ

সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, সংবাদপত্র সমাজের আয়না। সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন দোষ-ত্রুটি ও অসংগতি প্রকাশ পায়। তাই গণতান্ত্রিক সমাজে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, স্বাধীনতার পর ওই সময়ে সংবাদমাধ্যম ও রাজনীতির ওপর আঘাত এসেছিল। বহুদলীয় গণতন্ত্রের পরিবর্তে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তখন সরকার সংবাদমাধ্যমের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে এবং চারটি সংবাদমাধ্যম ছাড়া অন্যগুলোর অস্তিত্ব রাখা হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জামায়াত নেতাদের উপস্থিতি

এর আগে শনিবার সকালে ডা. শফিকুর রহমান মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসে পৌঁছালে স্থানীয় জামায়াত নেতারা তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের আমির প্রকৌশলী মো. শাহেদ আলী, হবিগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা কাজী মখলিছুর রহমান, মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. ইয়ামীর আলী, হবিগঞ্জ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি কাজী মহসিন আহমদ এবং ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি ফরিদ উদ্দিনসহ অন্য নেতারা।

পরে পুলিশের একটি চৌকস দল তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।

মতবিনিময় সভায় স্থানীয় নির্বাচন, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দাবিও জানান জামায়াতে ইসলামীর আমির।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

স্থানীয় নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি: জামায়াত আমির

আপডেট সময় : ০৪:২২:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এখনো সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনের আগে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানাবে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসের হলরুমে সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারি বরাদ্দ নিয়ে বক্তব্যের সমালোচনা

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে এখনো ভালো কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ, যিনি সংসদে শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করেন, তিনি নিজ এলাকায় গিয়ে বলেছেন, বিএনপির প্রার্থী যে এলাকায় বিজয়ী হবেন না, সেখানে সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হবে না। এ ধরনের বক্তব্য অত্যন্ত লজ্জাজনক।

তিনি বলেন, এ বক্তব্যের মাধ্যমে নির্বাচনের আগেই জনগণকে ভয় দেখানো হচ্ছে। এতে ভোটারদের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন

জামায়াত আমির নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির একজন অবসরপ্রাপ্ত ক্যাডারকে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে একজন দলীয় ব্যক্তিকে কেন দায়িত্ব দিতে হবে, তা নিয়ে জনগণের প্রশ্ন রয়েছে। নির্বাচন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ, সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি মানুষের আস্থা থাকা প্রয়োজন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে তাঁরা অবশ্যই নির্বাচনী পরিবেশ উন্নত করার চেষ্টা করবেন। সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানাবেন। যখন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের নিশ্চয়তা পাওয়া যাবে, তখন তাঁরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁরা লড়াই করতে চান বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ

মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু মাদক নিয়ন্ত্রণ, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ কিংবা সমাজে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।

তাঁর অভিযোগ, রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান কোনো উন্নতি হয়নি। এ অবস্থায় জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রসঙ্গ

সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, সংবাদপত্র সমাজের আয়না। সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন দোষ-ত্রুটি ও অসংগতি প্রকাশ পায়। তাই গণতান্ত্রিক সমাজে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, স্বাধীনতার পর ওই সময়ে সংবাদমাধ্যম ও রাজনীতির ওপর আঘাত এসেছিল। বহুদলীয় গণতন্ত্রের পরিবর্তে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তখন সরকার সংবাদমাধ্যমের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে এবং চারটি সংবাদমাধ্যম ছাড়া অন্যগুলোর অস্তিত্ব রাখা হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জামায়াত নেতাদের উপস্থিতি

এর আগে শনিবার সকালে ডা. শফিকুর রহমান মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসে পৌঁছালে স্থানীয় জামায়াত নেতারা তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের আমির প্রকৌশলী মো. শাহেদ আলী, হবিগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা কাজী মখলিছুর রহমান, মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. ইয়ামীর আলী, হবিগঞ্জ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি কাজী মহসিন আহমদ এবং ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি ফরিদ উদ্দিনসহ অন্য নেতারা।

পরে পুলিশের একটি চৌকস দল তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।

মতবিনিময় সভায় স্থানীয় নির্বাচন, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দাবিও জানান জামায়াতে ইসলামীর আমির।