বিশ্বের প্রথম ক্যান্সার টিকার ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় বড় সাফল্য
- আপডেট সময় : ০৪:২৯:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৪৫ বার পড়া হয়েছে
বিশ্বে ক্যান্সারের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে ব্যক্তিভিত্তিক এমআরএনএ (mRNA) টিকা। যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান মডার্নার তৈরি পরীক্ষামূলক ক্যান্সার টিকার তৃতীয় ধাপের আন্তর্জাতিক ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়া গেছে। গবেষণার ফল অনুযায়ী, ইমিউনোথেরাপির ওষুধের সঙ্গে এই টিকা প্রয়োগে রোগীদের ক্যান্সার ফিরে আসা এবং মৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
চলতি সপ্তাহান্তে ইউরোপিয়ান সোসাইটি ফর মেডিক্যাল অনকোলজির (ESMO) বার্ষিক সম্মেলনে পরীক্ষার ফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করার কথা রয়েছে।
দুই বছর পরও ক্যান্সারমুক্ত ৮২ শতাংশ রোগী
মডার্নার তৈরি ইনটিসমেরান (intismeran) নামের পরীক্ষামূলক থেরাপিউটিক ক্যান্সার টিকাটি নিয়ে পরিচালিত গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। পেমব্রোলিজুমাব (pembrolizumab) নামের ইমিউনোথেরাপির ওষুধের সঙ্গে টিকাটি প্রয়োগ করা হয়।
গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, চিকিৎসা নেওয়ার দুই বছর পর ৮২ শতাংশ রোগীর ক্যান্সারমুক্ত সময়কাল বজায় ছিল। অর্থাৎ, এই সময়ের মধ্যে তাঁদের ক্যান্সার ফিরে আসেনি।
এ ছাড়া রোগীদের ক্ষেত্রে দুই বছরের মধ্যে ক্যান্সার শরীরের দূরবর্তী স্থানে ছড়িয়ে না পড়ার হার ছিল ৮৮ দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থাৎ, প্রায় ১০ জনের মধ্যে ৯ জনের ক্ষেত্রে এ সময়ে ক্যান্সার দূরবর্তী স্থানে ছড়িয়ে পড়েনি।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, প্রচলিত চিকিৎসার তুলনায় টিকাটি ব্যবহারে ক্যান্সার ফিরে আসা অথবা মৃত্যুর সম্মিলিত ঝুঁকি ৪২ শতাংশ কমেছে।
কীভাবে কাজ করে এই ক্যান্সার টিকা?
এটি সাধারণ প্রতিরোধমূলক টিকার মতো নয়। বরং, এটি একটি থেরাপিউটিক ক্যান্সার টিকা, যা রোগীর শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ক্যান্সার কোষ শনাক্ত করতে এবং সেগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া গড়ে তুলতে সাহায্য করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
এমআরএনএ প্রযুক্তির মাধ্যমে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে নির্দিষ্ট ক্যান্সার-সম্পর্কিত বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। অন্যদিকে, পেমব্রোলিজুমাব রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর ক্যান্সার কোষের তৈরি কিছু বাধা কমাতে সাহায্য করে। ফলে দুটি চিকিৎসা একসঙ্গে প্রয়োগ করলে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিরোধক্ষমতা বাড়তে পারে।
তবে এই টিকা সব ধরনের ক্যান্সারের জন্য কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ এখনো নেই। গবেষণার ফলাফল নির্দিষ্ট রোগী ও ক্যান্সারের ধরন বিবেচনায় মূল্যায়ন করতে হবে।
গবেষকের চোখে নতুন সম্ভাবনা
গবেষণার প্রধান অনুসন্ধানকারী অধ্যাপক জর্জিনা লং অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম দ্য অস্ট্রেলিয়ান-কে বলেন, এটি যেন প্রথমবারের মতো উড়োজাহাজের উড্ডয়ন। তাঁর মতে, এই গবেষণার প্রভাব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। শুধু মেলানোমায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য নয়, ভবিষ্যতে অন্যান্য ধরনের ক্যান্সারের চিকিৎসার ক্ষেত্রেও এ প্রযুক্তি সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
মেলানোমা হলো ত্বকের এক ধরনের ক্যান্সার, যা মেলানোসাইট নামের রঞ্জক উৎপাদনকারী কোষ থেকে সৃষ্টি হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা করা সম্ভব হলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে এটি শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
ক্যান্সার চিকিৎসায় কতটা পরিবর্তন আনবে এই টিকা?
এমআরএনএ প্রযুক্তি করোনাভাইরাসের টিকা তৈরির মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়েছে। এখন একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ক্যান্সারের চিকিৎসায় নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবনের চেষ্টা চলছে।
ব্যক্তিভিত্তিক ক্যান্সার টিকার লক্ষ্য হলো রোগীর ক্যান্সারের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় করা। এতে ভবিষ্যতে অস্ত্রোপচার বা অন্যান্য চিকিৎসার পর ক্যান্সার ফিরে আসার ঝুঁকি কমানোর নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে আশাব্যঞ্জক ফলাফল পাওয়া মানেই টিকাটি ইতিমধ্যে অনুমোদন পেয়েছে বা সবার জন্য ব্যবহারের উপযোগী হয়েছে, এমন নয়। এর নিরাপত্তা, দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা, অনুমোদন এবং বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারে প্রয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আরও তথ্য প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন ও পরবর্তী গবেষণার ফলই নির্ধারণ করবে, ক্যান্সার চিকিৎসায় এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে কতটা বিস্তৃত ভূমিকা রাখতে পারবে।
সূত্র: নিউজ ডটকম ডট এইউ।


























