০২:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

সৌদিতে সোফা কারখানায় ভয়াবহ আগুন, আত্রাইয়ের ১৩ প্রবাসীর মৃত্যু

এস. এ টিভি
  • আপডেট সময় : ১১:৫৯:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৫৭০ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সৌদি আরবের একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার অন্তত ১৩ জন প্রবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। তাঁদের বেশির ভাগই জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে গিয়ে ওই কারখানায় কাজ করছিলেন। এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান। নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামও আত্রাই উপজেলার ১৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। তবে নিহতদের পরিচয় যাচাই-বাছাইয়ের কাজ এখনো চলছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার (৯ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় আনুমানিক বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সৌদি আরবের রিয়াদের খোরদাম শহরের একটি সোফা তৈরির কারখানায় আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এতে কারখানায় কর্মরত বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি শ্রমিক হতাহত হন।

প্রাথমিকভাবে আত্রাই উপজেলার যে ১৩ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে, তাঁরা হলেন—পারকাসুন্দা গ্রামের মৃত তমেজ উদ্দিনের ছেলে মো. জালাল, ডুবাই গ্রামের বাদলের ছেলে মো. সুমন হোসেন, একই গ্রামের চঞ্চলের ছেলে মো. হাসিবুল হাসান শুভ, গন্ডগোহালী গ্রামের গুফফার প্রামাণিকের ছেলে মো. মোহন প্রামাণিক ও মো. সুমুন প্রামাণিক, একই গ্রামের জান্নারের ছেলে মো. রুবেল হোসেন, ফজলুর ছেলে মো. কলিউদ্দিন প্রামাণিক, সাধনগর গ্রামের মো. সাগর হোসেন, উদনপৈ গ্রামের ময়েন শেখের ছেলে মো. ফরিদ শেখ, মাদবপুর গ্রামের মজনু মিয়ার ছেলে মো. মজিদুল ইসলাম, ডুবাই গ্রামের সোহেল রানা, মধ্যেবোয়ালিয়া গ্রামের মো. মিনহাজ এবং খরসতী গ্রামের মো. মহিদুল ইসলাম।

নিহতদের মধ্যে চারজন গন্ডগোহালী গ্রামের, তিনজন ডুবাই গ্রামের এবং বাকি ছয়জন উপজেলার পারকাসুন্দা, সাধনগর, উদনপৈ, মাদবপুর, মধ্যেবোয়ালিয়া ও খরসতী গ্রামের বাসিন্দা বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের বাবার নামও এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে উপজেলার ১৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তাঁদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, সৌদি আরবের ওই অগ্নিকাণ্ডে আত্রাই উপজেলার ১৩ জনের মৃত্যুর খবর এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাঁদের পরিচয় যাচাইসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।

এদিকে স্বজনদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেক পরিবার এখনো সৌদি আরব থেকে স্বজনদের পরিচয় ও মৃত্যুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তার অপেক্ষায় রয়েছে। নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছেন স্বজনরা।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সৌদিতে সোফা কারখানায় ভয়াবহ আগুন, আত্রাইয়ের ১৩ প্রবাসীর মৃত্যু

আপডেট সময় : ১১:৫৯:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

সৌদি আরবের একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার অন্তত ১৩ জন প্রবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। তাঁদের বেশির ভাগই জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে গিয়ে ওই কারখানায় কাজ করছিলেন। এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান। নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামও আত্রাই উপজেলার ১৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। তবে নিহতদের পরিচয় যাচাই-বাছাইয়ের কাজ এখনো চলছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার (৯ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় আনুমানিক বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সৌদি আরবের রিয়াদের খোরদাম শহরের একটি সোফা তৈরির কারখানায় আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এতে কারখানায় কর্মরত বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি শ্রমিক হতাহত হন।

প্রাথমিকভাবে আত্রাই উপজেলার যে ১৩ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে, তাঁরা হলেন—পারকাসুন্দা গ্রামের মৃত তমেজ উদ্দিনের ছেলে মো. জালাল, ডুবাই গ্রামের বাদলের ছেলে মো. সুমন হোসেন, একই গ্রামের চঞ্চলের ছেলে মো. হাসিবুল হাসান শুভ, গন্ডগোহালী গ্রামের গুফফার প্রামাণিকের ছেলে মো. মোহন প্রামাণিক ও মো. সুমুন প্রামাণিক, একই গ্রামের জান্নারের ছেলে মো. রুবেল হোসেন, ফজলুর ছেলে মো. কলিউদ্দিন প্রামাণিক, সাধনগর গ্রামের মো. সাগর হোসেন, উদনপৈ গ্রামের ময়েন শেখের ছেলে মো. ফরিদ শেখ, মাদবপুর গ্রামের মজনু মিয়ার ছেলে মো. মজিদুল ইসলাম, ডুবাই গ্রামের সোহেল রানা, মধ্যেবোয়ালিয়া গ্রামের মো. মিনহাজ এবং খরসতী গ্রামের মো. মহিদুল ইসলাম।

নিহতদের মধ্যে চারজন গন্ডগোহালী গ্রামের, তিনজন ডুবাই গ্রামের এবং বাকি ছয়জন উপজেলার পারকাসুন্দা, সাধনগর, উদনপৈ, মাদবপুর, মধ্যেবোয়ালিয়া ও খরসতী গ্রামের বাসিন্দা বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের বাবার নামও এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে উপজেলার ১৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তাঁদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, সৌদি আরবের ওই অগ্নিকাণ্ডে আত্রাই উপজেলার ১৩ জনের মৃত্যুর খবর এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাঁদের পরিচয় যাচাইসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।

এদিকে স্বজনদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেক পরিবার এখনো সৌদি আরব থেকে স্বজনদের পরিচয় ও মৃত্যুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তার অপেক্ষায় রয়েছে। নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছেন স্বজনরা।