সাভারে এসআই আলতাফ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ৯
- আপডেট সময় : ০৩:২৯:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৫২ বার পড়া হয়েছে
ঢাকার সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আরও আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর আগে মামলার প্রধান আসামি জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। ফলে এ মামলায় এখন পর্যন্ত মোট নয়জন গ্রেপ্তার হয়েছেন।
রোববার রাত থেকে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল পর্যন্ত সাভার, আশুলিয়া ও মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম। একই দিন র্যাবের পক্ষ থেকেও সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তারের তথ্য জানানো হয়।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তার আটজনই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। এর মধ্যে র্যাব-১০ মুন্সিগঞ্জ সদর থানার লঞ্চঘাট এলাকা থেকে চারজন এবং র্যাব-৪ সাভারের আমিনবাজার এলাকা থেকে আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করে।
মুন্সিগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার চারজন হলেন আলাউদ্দিন (২৬), আপন (৩০), জিহাদ (২০) ও ইমরান (২৬)। তাদের সবার বাড়ি সাভারের আমিনবাজার এলাকায়। র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, আপন সাভার থানায় দায়ের হওয়া তিনটি মাদক মামলার আসামি।
অন্যদিকে, আমিনবাজার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে নূর মোহাম্মদ রুদ্র (২৪), রাকিব মিয়া (২৮), ছাব্বির আহম্মেদ (২৪) ও ওয়াসিম (৪০)।
যেভাবে হত্যা করা হয় এসআই আলতাফকে
র্যাবের প্রাথমিক অনুসন্ধান অনুযায়ী, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টা থেকে ১১টার মধ্যে সাভারের আমিনবাজারের বরদেশী এলাকায় একটি অটোরিকশা রাখা নিয়ে একটি গ্যারেজের বৃদ্ধ মালিককে মারধর করা হয়। বিষয়টির প্রতিবাদ করেন এসআই আলতাফ হোসেন।
এ সময় হামলাকারীদের সঙ্গে আলতাফ ও তার ছেলে আরিফুলের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আলতাফ নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। এতে হামলাকারীরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
পরে প্রাণ বাঁচাতে ছেলে আরিফুলের পোশাক কারখানায় আশ্রয় নেন আলতাফ। তবে হামলাকারীরা সেখানে গিয়েও তাদের ওপর হামলা চালায়। তারা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে ডেকে এনে কারখানার গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।
এরপর দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা দিয়ে আলতাফ ও তার ছেলে আরিফুলকে মারধর করা হয়। একই সময়ে কারখানার মেশিন ও আসবাবপত্রও ভাঙচুর করা হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেন। সেখানে চিকিৎসক এসআই আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়।
এর আগে মামলার প্রধান আসামি জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়।
পুলিশ ও র্যাব জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

























