১১:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

সাতক্ষীরায় পুরুষ গলদা চিংড়ি চাষে সফলতা পাচ্ছেন চাষিরা

এস. এ টিভি
  • আপডেট সময় : ১২:০৭:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১৯২৮ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সাতক্ষীরায় অধিক লাভজনক পুরুষ গলদা চিংড়ি চাষে সাফল্য পাচ্ছেন চাষিরা। তুলনামূলক কম রোগের ঝুঁকি, অল্প সময়ে ভালো উৎপাদন এবং বাজারে বেশি দাম পাওয়ায় এই চাষে আগ্রহ বাড়ছে। পাশাপাশি অন্যান্য মাছের সঙ্গে একই ঘেরে পুরুষ গলদা চিংড়ি চাষ করা সম্ভব হওয়ায় উৎপাদন খরচও কমানো যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চাহিদা অনুযায়ী রেণু সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে সাতক্ষীরায় পুরুষ গলদা চিংড়ি চাষে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

চাষি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরায় চলতি বছর প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে গলদা চিংড়ি চাষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫০ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে পুরুষ প্রজাতির গলদা চিংড়ি। জেলার সাতক্ষীরা সদর, দেবহাটা ও আশাশুনি উপজেলায় এ চাষের পরিধি বাড়ছে।

রোগের ঝুঁকি কম, উৎপাদনে ভালো ফল

চিংড়ি চাষে রোগবালাই বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে বাগদা চিংড়ি চাষে রোগের ঝুঁকি ও উৎপাদনসংক্রান্ত নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয় চাষিদের। এ অবস্থায় তুলনামূলক কম রোগের ঝুঁকি এবং ভালো উৎপাদনের আশায় গলদা চিংড়ি চাষের দিকে ঝুঁকছেন অনেকে।

পুরুষ গলদা চিংড়ি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বল্প সময়ে বাজারজাত করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এতে চাষিরা তুলনামূলক কম সময়ে বিনিয়োগের অর্থ ফেরত পাওয়ার আশা করছেন। পাশাপাশি বাজারে এ চিংড়ির দাম বেশি হওয়ায় লাভের সম্ভাবনাও বাড়ছে।

চাষিদের ভাষ্য, সঠিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে পুরুষ গলদা চিংড়ি থেকে ভালো উৎপাদন পাওয়া সম্ভব। তবে উৎপাদনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে মানসম্মত রেণু, উপযুক্ত খাদ্য এবং পানির গুণগত মান নিশ্চিত করা জরুরি।

একই ঘেরে অন্যান্য মাছ চাষের সুযোগ

পুরুষ গলদা চিংড়ি চাষের অন্যতম সুবিধা হলো, উপযুক্ত ব্যবস্থাপনায় একই ঘেরে অন্যান্য মাছও চাষ করা যায়। ফলে একটি ঘর থেকে একাধিক ধরনের জলজ পণ্য উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হয়। এতে জমি ও ঘেরের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে।

কম বিনিয়োগে চাষ শুরু করা এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ার প্রত্যাশা থেকে সাতক্ষীরা সদর, দেবহাটা ও আশাশুনি উপজেলার চাষিরা এ পদ্ধতির প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন। স্থানীয় পর্যায়ে চিংড়ি চাষের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিক, খাদ্য সরবরাহকারী ও ব্যবসায়ীরাও এ খাতের প্রসারের মাধ্যমে উপকৃত হতে পারেন।

রেণু সরবরাহ বাড়ানোর দাবি চাষিদের

পুরুষ গলদা চিংড়ি চাষ সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত রেণু সরবরাহকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখছেন ঘেরমালিকেরা। তাঁদের মতে, চাহিদা অনুযায়ী মানসম্মত রেণু পাওয়া গেলে আরও বেশি জমিতে এ চিংড়ি চাষ করা সম্ভব হবে। এতে উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি চাষিদের আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।

চাষিদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা, পরামর্শ ও মানসম্মত রেণু সরবরাহ নিশ্চিত করা হলে এ খাতে বিনিয়োগ আরও বাড়বে।

এদিকে, গলদা চিংড়ি চাষের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও আশ্বাস দেওয়ার কথা জানিয়েছেন জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিকল্পিত চাষাবাদ, উন্নত ব্যবস্থাপনা এবং নিরবচ্ছিন্ন রেণু সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে সাতক্ষীরায় পুরুষ গলদা চিংড়ি চাষ আরও সম্প্রসারিত হতে পারে।

স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা

সাতক্ষীরার অর্থনীতিতে চিংড়ি চাষের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ অবস্থায় অধিক লাভজনক পুরুষ গলদা চিংড়ি চাষের সম্প্রসারণ স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। উৎপাদন বাড়লে চাষিদের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি বাজারজাতকরণ ও পরিবহন খাতেও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে এ সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে মানসম্মত পোনা সরবরাহ, রোগ প্রতিরোধ, সঠিক পরিচর্যা এবং বাজারব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে সাতক্ষীরায় পুরুষ গলদা চিংড়ি চাষ নতুন মাত্রা পাবে এবং চিংড়িশিল্পে সম্ভাবনাময় একটি খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

সাতক্ষীরায় পুরুষ গলদা চিংড়ি চাষে সফলতা পাচ্ছেন চাষিরা

আপডেট সময় : ১২:০৭:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

সাতক্ষীরায় অধিক লাভজনক পুরুষ গলদা চিংড়ি চাষে সাফল্য পাচ্ছেন চাষিরা। তুলনামূলক কম রোগের ঝুঁকি, অল্প সময়ে ভালো উৎপাদন এবং বাজারে বেশি দাম পাওয়ায় এই চাষে আগ্রহ বাড়ছে। পাশাপাশি অন্যান্য মাছের সঙ্গে একই ঘেরে পুরুষ গলদা চিংড়ি চাষ করা সম্ভব হওয়ায় উৎপাদন খরচও কমানো যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চাহিদা অনুযায়ী রেণু সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে সাতক্ষীরায় পুরুষ গলদা চিংড়ি চাষে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

চাষি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরায় চলতি বছর প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে গলদা চিংড়ি চাষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫০ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে পুরুষ প্রজাতির গলদা চিংড়ি। জেলার সাতক্ষীরা সদর, দেবহাটা ও আশাশুনি উপজেলায় এ চাষের পরিধি বাড়ছে।

রোগের ঝুঁকি কম, উৎপাদনে ভালো ফল

চিংড়ি চাষে রোগবালাই বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে বাগদা চিংড়ি চাষে রোগের ঝুঁকি ও উৎপাদনসংক্রান্ত নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয় চাষিদের। এ অবস্থায় তুলনামূলক কম রোগের ঝুঁকি এবং ভালো উৎপাদনের আশায় গলদা চিংড়ি চাষের দিকে ঝুঁকছেন অনেকে।

পুরুষ গলদা চিংড়ি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বল্প সময়ে বাজারজাত করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এতে চাষিরা তুলনামূলক কম সময়ে বিনিয়োগের অর্থ ফেরত পাওয়ার আশা করছেন। পাশাপাশি বাজারে এ চিংড়ির দাম বেশি হওয়ায় লাভের সম্ভাবনাও বাড়ছে।

চাষিদের ভাষ্য, সঠিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে পুরুষ গলদা চিংড়ি থেকে ভালো উৎপাদন পাওয়া সম্ভব। তবে উৎপাদনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে মানসম্মত রেণু, উপযুক্ত খাদ্য এবং পানির গুণগত মান নিশ্চিত করা জরুরি।

একই ঘেরে অন্যান্য মাছ চাষের সুযোগ

পুরুষ গলদা চিংড়ি চাষের অন্যতম সুবিধা হলো, উপযুক্ত ব্যবস্থাপনায় একই ঘেরে অন্যান্য মাছও চাষ করা যায়। ফলে একটি ঘর থেকে একাধিক ধরনের জলজ পণ্য উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হয়। এতে জমি ও ঘেরের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে।

কম বিনিয়োগে চাষ শুরু করা এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ার প্রত্যাশা থেকে সাতক্ষীরা সদর, দেবহাটা ও আশাশুনি উপজেলার চাষিরা এ পদ্ধতির প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন। স্থানীয় পর্যায়ে চিংড়ি চাষের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিক, খাদ্য সরবরাহকারী ও ব্যবসায়ীরাও এ খাতের প্রসারের মাধ্যমে উপকৃত হতে পারেন।

রেণু সরবরাহ বাড়ানোর দাবি চাষিদের

পুরুষ গলদা চিংড়ি চাষ সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত রেণু সরবরাহকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখছেন ঘেরমালিকেরা। তাঁদের মতে, চাহিদা অনুযায়ী মানসম্মত রেণু পাওয়া গেলে আরও বেশি জমিতে এ চিংড়ি চাষ করা সম্ভব হবে। এতে উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি চাষিদের আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।

চাষিদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা, পরামর্শ ও মানসম্মত রেণু সরবরাহ নিশ্চিত করা হলে এ খাতে বিনিয়োগ আরও বাড়বে।

এদিকে, গলদা চিংড়ি চাষের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও আশ্বাস দেওয়ার কথা জানিয়েছেন জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিকল্পিত চাষাবাদ, উন্নত ব্যবস্থাপনা এবং নিরবচ্ছিন্ন রেণু সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে সাতক্ষীরায় পুরুষ গলদা চিংড়ি চাষ আরও সম্প্রসারিত হতে পারে।

স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা

সাতক্ষীরার অর্থনীতিতে চিংড়ি চাষের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ অবস্থায় অধিক লাভজনক পুরুষ গলদা চিংড়ি চাষের সম্প্রসারণ স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। উৎপাদন বাড়লে চাষিদের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি বাজারজাতকরণ ও পরিবহন খাতেও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে এ সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে মানসম্মত পোনা সরবরাহ, রোগ প্রতিরোধ, সঠিক পরিচর্যা এবং বাজারব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে সাতক্ষীরায় পুরুষ গলদা চিংড়ি চাষ নতুন মাত্রা পাবে এবং চিংড়িশিল্পে সম্ভাবনাময় একটি খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।