সরকারি বাসা থেকে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ভাড়াটিয়া সরানোর নির্দেশ
- আপডেট সময় : ০১:৪৪:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৬৪ বার পড়া হয়েছে
সরকারি বাসা বা ফ্ল্যাটের কোনো অংশ কিংবা সম্পূর্ণ বাসা অন্যের কাছে ভাড়া বা সাবলেট দেওয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে সরকারি বাসায় থাকা ভাড়াটিয়া ও সাবলেটগ্রহীতাদের আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভাড়াটিয়া না সরালে সংশ্লিষ্ট সরকারি বাসার বরাদ্দ বাতিল করা হবে। একই সঙ্গে বরাদ্দপ্রাপকের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত ২৯ অক্টোবর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন সরকারি আবাসন পরিদপ্তর এ সংক্রান্ত জরুরি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। পরিদপ্তরের পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম খান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি বাসা ও ফ্ল্যাটের বরাদ্দপ্রাপকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পরিদর্শনে মিলেছে সাবলেট দেওয়ার তথ্য
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিদর্শন দলের প্রতিবেদনে সরকারি বাসা ও ফ্ল্যাট সাবলেট দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। কতিপয় বরাদ্দপ্রাপক তাঁদের নামে বরাদ্দ করা বাসার এক কক্ষ, দুই কক্ষ কিংবা সম্পূর্ণ বাসা অন্য ব্যক্তির কাছে ভাড়া দিয়েছেন।
পরিদপ্তরের মতে, এ ধরনের কার্যক্রম বাংলাদেশ বরাদ্দ বিধিমালা, ১৯৮২-এর পরিপন্থী। তাই সরকারি আবাসনের কোনো অংশ অন্যের কাছে ভাড়া বা সাবলেট না দেওয়ার জন্য বরাদ্দপ্রাপকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সময়সীমার পর পাওয়া গেলে বরাদ্দ বাতিল
বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে সরকারি বাসা থেকে সব ভাড়াটিয়া ও সাবলেটগ্রহীতাকে সরিয়ে নিতে হবে।
নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর কোনো সরকারি বাসা বা ফ্ল্যাটে ভাড়াটিয়া কিংবা সাবলেটগ্রহীতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বরাদ্দপ্রাপকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে নতুন করে কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে না।
শুধু বরাদ্দ বাতিলই নয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ও আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি তাঁর অফিসপ্রধান ও নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হবে। তাঁদের মাধ্যমে বিভাগীয় শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হবে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরকেও জানানো হয়েছে
সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে গণপূর্ত অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রকৌশলীদের অবহিত করা হয়েছে।
গণবিজ্ঞপ্তির অনুলিপি গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী, সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী ও উপবিভাগীয় প্রকৌশলীর কাছে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের ঢাকা ও চট্টগ্রামের উপপরিচালকদেরও বিষয়টি জানানো হয়েছে।
কেন নেওয়া হয়েছে এ উদ্যোগ?
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে নির্ধারিত নিয়মে বাসা ও ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়। বরাদ্দপ্রাপক নিজে বসবাসের উদ্দেশ্যেই এ সুবিধা পেয়ে থাকেন।
তবে কিছু বরাদ্দপ্রাপক বাসার এক বা একাধিক কক্ষ কিংবা সম্পূর্ণ বাসা অন্যের কাছে ভাড়া দিয়ে আর্থিক সুবিধা নিচ্ছেন। এতে সরকারি আবাসন বরাদ্দের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি প্রকৃত আবাসন সুবিধাপ্রত্যাশীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে সরকারি বাসা ও ফ্ল্যাটের ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং অননুমোদিত সাবলেট বন্ধে তদারকি জোরদার করছে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর। নতুন নির্দেশনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি আবাসন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
























