শেষ মুহূর্তের বেচাকেনায় ব্যস্ত চট্টগ্রাম কামারপাড়া
- আপডেট সময় : ০২:৩৪:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
- / ১৫৫৫ বার পড়া হয়েছে
কোরবানির পশুর চামড়া ছাড়িয়ে মাংস কাটাকাটির জন্য শেষ মুহূর্তের বেচাকেনায় ব্যস্ত চট্টগ্রাম কামারপাড়া। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত লোহা পেটানোর টুং টাং শব্দে মুখর বন্দর নগরীর জেলরোড, চকবাজার তেলিপট্টি, ফিরিঙ্গিবাজার, মোগলটুলি ও আশপাশের কামারপাড়াগুলো। বংশ পরম্পরায় এ পেশায় থাকলেও অর্থনৈতিক চাপে আগের মতো ব্যবসা নেই বলে জানিয়েছেন কামাররা।
পবিত্র ঈদুল আজহায় পশু কোরবানিকে কেন্দ্র করে চাহিদা বাড়ে ছুরি, চাপাতি, দা, বঁটি, কুড়ালের। তাই ব্যস্ততা বেড়েছে চট্টগ্রামে কামারপাড়াগুলোতে। কেউ হাঁপর টানছেন। কেউ জ্বলন্ত আগুনে কয়লা ঢালছেন। কেউবা টুং টাং শব্দে তপ্ত লোহা পিটিয়ে দা-বটি বানাচ্ছেন।
কামাররা জানান, মূলত দুই ধরনের লোহা দিয়ে এসব সরঞ্জাম তৈরি করা হয়- স্প্রিং লোহা ও কাঁচা লোহা। এর মধ্যে স্প্রিং লোহার তৈরি দা, ছুরি, বটি ও চাপাতি বেশি টেকসই ও ধারালো হওয়ায় চাহিদা বেশি। তবে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির কারণে এবার এসব সরঞ্জামের দামও বেড়েছে। আর দাম বাড়ার পাশাপাশি বেচাকেনাও কম বলে জানান কামার শিল্পীরা।
এছাড়া রেডিমেড দা-বটি ও ছুরি কেনার পাশাপাশি পুরোনো সরঞ্জামে শান দিতে আসা ক্রেতাদের সংখ্যাও অনেক। তবে শিল্পায়নের যুগে নিত্য প্রয়োজনীয় অনেক পণ্যের পাশাপাশি কর্মকার শিল্পের তৈজসপত্রগুলোর অনেক জিনিস এখন দেশের কল-কারখানায় তৈরি হচ্ছে। যার কারণে কামার পাড়াগুলোতে এখন নেই আগের সেই জৌলুস। যতদিন যাচ্ছে ব্যবসা ততই কমছে বলে জানিয়েছেন কামার শিল্পে থাকা মানুষগুলো।
বর্তমানে ব্যবসায় চরম মন্দা বিরাজ করা এই শিল্পে সরকারি ব্যবস্থাপনায় সহজ শর্তে মৌসুমী ঋণের ব্যবস্থা থাকলে আগের জৌলুস ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন কামাররা।

























