০৪:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

প্রথম ধাপে ফিরবেন ১,৫০০ জন

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ মালয়েশিয়ার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:২৬:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৫৪২ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসনের প্রথম ধাপ চূড়ান্ত করেছে মালয়েশিয়া। দেশটির ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর ১ হাজার ৫০০ রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হবে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মালয়েশিয়া সরকার এ তথ্য জানায়। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে মিয়ানমারের সামরিক সরকার ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।

মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রত্যাবাসন কার্যক্রমে মিয়ানমারের দুটি নৌযুদ্ধজাহাজ ও একটি হাসপাতাল জাহাজ ব্যবহার করা হবে। এ প্রক্রিয়ায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ৪ হাজারের বেশি মানুষকে শরণার্থী নিবন্ধন নথি (ডিপিপি) কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। মিয়ানমারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, মোট ৫ হাজার মানুষ স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসনের আওতায় যাবেন।

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে, আগস্টের মাঝামাঝি দেশটির আটককেন্দ্রগুলোতে ১০ হাজার ৩৮৮ জন মিয়ানমারের নাগরিক ছিলেন। তবে তাদের সবাইকে শরণার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। আটক ব্যক্তিদের পরিচয়, নাগরিকত্ব, অভিবাসন অবস্থা, আশ্রয়ের আবেদন ও নিরাপত্তাজনিত বিষয় যাচাই করা হচ্ছে। এ যাচাই প্রক্রিয়া চলতি বছরের শেষ নাগাদ শেষ হওয়ার কথা।

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

মালয়েশিয়া সরকার জানিয়েছে, প্রত্যাবাসনের পর কোনো শরণার্থীর জীবন ঝুঁকিতে পড়লে বা নির্যাতনের আশঙ্কা থাকলে তাদের ফেরত পাঠানো হবে না। দেশটির যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাদজিল বলেন, মানবিক বিবেচনায় জীবন হুমকির মুখে থাকা কোনো শরণার্থীকে মিয়ানমারে পাঠানো হবে না।

তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, বর্তমানে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। সংস্থাটির দাবি, দেশটির সামরিক বাহিনী এখনও যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে আসছে মালয়েশিয়া। যদিও দেশটি ১৯৫১ সালের জাতিসংঘ শরণার্থী কনভেনশনের সদস্য নয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে শরণার্থীদের স্বীকৃতিও দেয় না। তারপরও দেশটিতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বড় শরণার্থী জনগোষ্ঠীর বসবাস।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় ২ লাখ ১৫ হাজারের বেশি নিবন্ধিত শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা রয়েছেন ১ লাখ ২৬ হাজারের বেশি।

২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযানের পর লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে পালিয়ে যায়। বর্তমানে বাংলাদেশে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। গত ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার নয় বছর পূর্ণ হয়েছে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

প্রথম ধাপে ফিরবেন ১,৫০০ জন

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ মালয়েশিয়ার

আপডেট সময় : ০১:২৬:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসনের প্রথম ধাপ চূড়ান্ত করেছে মালয়েশিয়া। দেশটির ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর ১ হাজার ৫০০ রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হবে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মালয়েশিয়া সরকার এ তথ্য জানায়। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে মিয়ানমারের সামরিক সরকার ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।

মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রত্যাবাসন কার্যক্রমে মিয়ানমারের দুটি নৌযুদ্ধজাহাজ ও একটি হাসপাতাল জাহাজ ব্যবহার করা হবে। এ প্রক্রিয়ায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ৪ হাজারের বেশি মানুষকে শরণার্থী নিবন্ধন নথি (ডিপিপি) কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। মিয়ানমারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, মোট ৫ হাজার মানুষ স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসনের আওতায় যাবেন।

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে, আগস্টের মাঝামাঝি দেশটির আটককেন্দ্রগুলোতে ১০ হাজার ৩৮৮ জন মিয়ানমারের নাগরিক ছিলেন। তবে তাদের সবাইকে শরণার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। আটক ব্যক্তিদের পরিচয়, নাগরিকত্ব, অভিবাসন অবস্থা, আশ্রয়ের আবেদন ও নিরাপত্তাজনিত বিষয় যাচাই করা হচ্ছে। এ যাচাই প্রক্রিয়া চলতি বছরের শেষ নাগাদ শেষ হওয়ার কথা।

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

মালয়েশিয়া সরকার জানিয়েছে, প্রত্যাবাসনের পর কোনো শরণার্থীর জীবন ঝুঁকিতে পড়লে বা নির্যাতনের আশঙ্কা থাকলে তাদের ফেরত পাঠানো হবে না। দেশটির যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাদজিল বলেন, মানবিক বিবেচনায় জীবন হুমকির মুখে থাকা কোনো শরণার্থীকে মিয়ানমারে পাঠানো হবে না।

তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, বর্তমানে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। সংস্থাটির দাবি, দেশটির সামরিক বাহিনী এখনও যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে আসছে মালয়েশিয়া। যদিও দেশটি ১৯৫১ সালের জাতিসংঘ শরণার্থী কনভেনশনের সদস্য নয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে শরণার্থীদের স্বীকৃতিও দেয় না। তারপরও দেশটিতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বড় শরণার্থী জনগোষ্ঠীর বসবাস।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় ২ লাখ ১৫ হাজারের বেশি নিবন্ধিত শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা রয়েছেন ১ লাখ ২৬ হাজারের বেশি।

২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযানের পর লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে পালিয়ে যায়। বর্তমানে বাংলাদেশে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। গত ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার নয় বছর পূর্ণ হয়েছে।