মুহুর্তেই পোশাক বদলে আন্দোলনকারীদের সাথে মিশে যান এসএসএফ সদস্যরা
- আপডেট সময় : ১২:০৩:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৭১৯ বার পড়া হয়েছে
৫ আগস্ট ২০২৪, গণভবনে নিযুক্ত থাকা বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ) সদস্যদের জন্য দিনটি ছিলো ভয়ার্ত একটি দিন। প্রাণে বাঁচলেও তারা হারিয়েছে অত্যন্ত আধুনিক নানা অস্ত্র গোলাবারুদ ও বিশেষ সরঞ্জাম। কাটিয়েছে শ্বাসরুদ্ধকর সময়।
ঐতিহাসিক এই দিনে, শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে যাওয়ার পরপরই হাজার-হাজার মানুষ তার (প্রধানমন্ত্রীর) রাষ্ট্রীয় বাসভবনে ঢুকে পড়েন, তখন প্রাণরক্ষার জন্য পালাতে মাত্র ‘পাঁচ মিনিট’ সময় ছিল সেখানে পেশাগত অঙ্গিকারে অটল থাকা এসএসএফ সদস্যদের হাতে। তবে তাদের সিদ্ধান্ত ছিলো, তারা ছাত্রজনতার ওপর গুলি চালাবে না। কিন্তু ভয়ের বিষয় হলো বিক্ষুব্ধ লাখো জনতা! যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে।
গণভবনের বিভিন্ন ধরনের ট্যাক্টিক্যাল অস্ত্র, গোলাবারুদ, সাজসরঞ্জাম, বেতার যোগাযোগ ও অপারেশনাল সরঞ্জামাদির মজুত ছিল এসএসএফের। কিন্তু, হাতে সময় একদমই না থাকায়, এসব রেখে শুধু নিজেদের সঙ্গে ছোট আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বিভিন্নভাবে গণভবন থেকে সংসদ ভবনে প্রবেশ করেন তারা।
ছাত্র-জনতা যখন সংসদ ভবনেও ঢুকে পড়ে, তখন এসএসএফ সদস্যরা দ্রুত নিজেদের অস্ত্র ও পোশাক খুলে সংসদ ভবনের ভল্টে রেখে সাধারণ পোশাকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে মিশে গেলে প্রাণরক্ষা হয়।
পরবর্তীতে পরিদর্শন করে গণভবন ও সংসদ ভবনে থাকা ভল্টগুলো আর পাওয়া যায়নি, যা আন্দোলনকারীদের মধ্যে মিয়ে থাকা দুষ্কৃতিকারীরা পরিকল্পিত ভাবে নিয়ে গেছে বলে মনে করছে এসএসএফ।
তাদের ক্ষয়ক্ষতি সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন ধরনের অপারেশনাল সরঞ্জাম যেমন অত্যাধুনিক অ্যাসল্ট রাইফেল, স্নাইপার রাইফেল, ফ্ল্যাশব্যাং গ্রেনেড, অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম, বেতার যোগাযোগের ডিভাইস ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ, যার মূল্য পাঁচ কোটি টাকারও বেশি, সেদিন গণভবন ও সংসদ থেকে লুট হয়েছে এবং কিছু নষ্ট করা হয়েছে।
ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানে এসএসএফ এর অস্ত্র, গোলাবারুদ, অপারেশনরাল সরঞ্জামাদি ও বিবিধ দ্রবাদির ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করতে সংস্থাটি তিনটি তদন্ত পর্ষদ গঠন করে।
এসব পর্ষদ তিনটি প্রতিবেদন তৈরি করে এসএসএফ এর প্রধান কার্যালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠিয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক হিসাব করে সংস্থাটি জানায়, ৫ আগস্টের ঘটনায় এসএসএফ এর বিভিন্ন অস্ত্র ও দ্রব্য লুট ও ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ অন্তত ৫ কোটি ২৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে অস্ত্র ও ম্যাগাজিনের ক্ষতি ১১ লাখ ৬২ হাজার টাকা; গোলাবারুদ ও গ্রেনেড খোয়া যাওয়ায় ক্ষতি ১১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। যোগাযোগ ও অপারেশনাল সরঞ্জামাদি বাবদ ক্ষতি প্রায় ২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা; আইটি ও গোয়েন্দা সরঞ্জামাদি বাবদ ক্ষতি প্রায় ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, যানবাহনে ক্ষতি প্রায় ১৪ লাখ টাকা এবং অন্যান্য দ্রব্যাদিতে ক্ষতি প্রায় ৭৪ লাখ টাকা।

























