মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় চীনা স্যাটেলাইট ছবির যোগসূত্রের দাবি
- আপডেট সময় : ১১:৩৪:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৪০ বার পড়া হয়েছে
জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে উচ্চ রেজল্যুশনের স্যাটেলাইট ছবি পেয়েছিল ইরান—এমন তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ওই স্যাটেলাইট ছবিগুলো হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে।
তবে চীন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোনো চীনা প্রতিষ্ঠান ইরানকে হামলার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করেছে—এমন অভিযোগের ভিত্তি নেই।
হামলায় নিহত তিন মার্কিন সেনা
গত ১৭ জুলাই জর্ডানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। ক্ষেপণাস্ত্রটি মার্কিন সেনাদের আবাসিক এলাকায় আঘাত হানে।
এ ঘটনায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হন। আহত হন আরও চারজন। একই সময়ে ঘাঁটিতে থাকা কয়েকটি চালক ও চালকবিহীন বিমানও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়।
মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ওই হামলার আগে ইরান চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে উচ্চ রেজল্যুশনের স্যাটেলাইট ছবি সংগ্রহ করেছিল। এসব ছবি মার্কিন সামরিক স্থাপনার অবস্থান ও অন্যান্য তথ্য জানতে ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে।
কয়েক মাস ধরে চীনকে সতর্ক করেছিল যুক্তরাষ্ট্র
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক মাস ধরেই ট্রাম্প প্রশাসন চীনকে সতর্ক করে আসছিল। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ ছিল, কিছু চীনা প্রতিষ্ঠান ইরানকে এমন তথ্য দিচ্ছে, যা লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে ব্যবহার করা সম্ভব।
তবে পরিস্থিতির পরিবর্তন না হওয়ায় মার্কিন গোয়েন্দারা বিষয়টি নিয়ে তথ্য প্রকাশ করে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি চীন সরকারকে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ করেনি।
অভিযোগ অস্বীকার বেইজিংয়ের
স্যাটেলাইট ছবির বিষয়ে চীনা কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রমাণ চেয়েছেন বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বেইজিং ওয়াশিংটনের উদ্বেগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে চীনা দূতাবাসও অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, ইরানকে চীনের সহযোগিতা আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সমালোচকেরা ইচ্ছাকৃতভাবে অন্য দেশকে সংঘাতে টেনে আনছে বলেও অভিযোগ করেছে বেইজিং।
এর আগে মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র তিনটি চীনা প্রতিষ্ঠান—মিজারভিশন, আর্থ এআই ও চাং গুয়াংয়ের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয়। এসব প্রতিষ্ঠান ইরানকে স্যাটেলাইট ছবি সরবরাহ করেছে বলে তখন অভিযোগ করেছিল ওয়াশিংটন।
চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে নতুন চাপের আশঙ্কা
ইরানের হামলায় স্যাটেলাইট তথ্যের সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ বাড়লেও বিষয়টি প্রকাশ্যে খুব বেশি গুরুত্ব দিতে চাইছে না ট্রাম্প প্রশাসন। কারণ, চীনের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখার পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখতে আগ্রহী।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, ইরানের গোয়েন্দা তৎপরতার অংশ হিসেবেই এসব স্যাটেলাইট ছবি ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। তবে ইরানের নিজস্ব স্যাটেলাইট, গুপ্তচর নেটওয়ার্ক এবং রাশিয়ার গোয়েন্দা তথ্যও দেশটির হামলা পরিকল্পনায় ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের মত।
এদিকে মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে আশঙ্কা বাড়ছে, চীন বা রাশিয়া মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য উচ্চ রেজল্যুশনের স্যাটেলাইট ছবি বা অন্যান্য লক্ষ্য নির্ধারণী তথ্য সরবরাহ করে থাকতে পারে।





















