ভিডিও নিয়ে ক্ষোভ, জবাবদিহি চাইলেন পরীমনি
- আপডেট সময় : ০৩:৩৮:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৬০৮ বার পড়া হয়েছে
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি অভিনেত্রী পরীমনির আপত্তিকর বিকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। ভিডিওটি মাছরাঙা টেলিভিশনের ইনস্টাগ্রাম পেজ থেকে ছড়িয়ে পড়ার পর চ্যানেল কর্তৃপক্ষ দুঃখ প্রকাশ করলেও তাতে সন্তুষ্ট নন এই অভিনেত্রী। তার অভিযোগ, একটি দুঃখ প্রকাশের ফটোকার্ড দিয়ে এত বড় ঘটনার দায় এড়ানো যায় না। এ ঘটনায় তার স্বাভাবিক জীবন, পেশাগত কাজ ও মানসিক শান্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মাছরাঙা টেলিভিশনের কাছে জবাবদিহি দাবি করেন পরীমনি। এর আগে শুক্রবার রাতে ফেসবুক লাইভে এসেও ঘটনাটি নিয়ে নিজের ক্ষোভের কথা জানান ‘স্বপ্নজাল’ সিনেমার এই অভিনেত্রী।
ফেসবুক লাইভে চ্যানেল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
সম্প্রতি মাছরাঙা টেলিভিশনের ইনস্টাগ্রাম পেজে দুই তারকা অভিনেত্রীর আপত্তিকর ও বিকৃত ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ভিডিওগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে চ্যানেল কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের ইনস্টাগ্রাম পেজ হ্যাক হয়েছিল এবং হ্যাকাররা ওই ভিডিও প্রকাশ করেছে।
এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষ। তবে পরীমনির প্রশ্ন, একটি প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ দীর্ঘ সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকলেও কেন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হলো না।
ফেসবুক লাইভে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ওরা এতবড় পাওয়ারফুল একটা মিডিয়া, ১১ ঘণ্টা তো ঝুলেই ছিল। তো প্রমাণ করতে পারল না? নিজেদের কন্ট্রোলে নিতে পারল না? আইন, এত প্রশাসন এগুলো দিয়ে কি সম্ভব ছিল না? এর বিপরীতে আপনি মোটেও বলতে পারেন না, পেজ হ্যাক হয়েছে। তাহলে আমিও বলি, আমার পেজ হ্যাক হয়েছে!’
পরীমনির বক্তব্যে স্পষ্ট, শুধু পেজ হ্যাক হওয়ার ব্যাখ্যা বা দুঃখ প্রকাশ নয়, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা দেখতে চান তিনি।
নেতিবাচক মন্তব্যে ক্ষুব্ধ পরীমনি
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে নেতিবাচক আলোচনা, কটূক্তি ও নানা মন্তব্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন পরীমনি। যারা ভিডিওটি নিয়ে অতিরিক্ত মাতামাতি করছেন, তাদেরও সমালোচনা করেন তিনি।
ক্ষোভের সঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, ‘তোমরা যখন ভিডিওটি নিয়ে এত মাতামাতি করছিলে, তখন আমার ইচ্ছে হচ্ছিল একটি খোলামেলা ফটোশুট করে ফেলি।’
তার মতে, অনেকেই ভিডিওটি দেখার পর বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন। কিন্তু কিছু মানুষ ভিডিওটি নিয়ে অনলাইনে এমনভাবে আলোচনা করেছেন, যা ভুক্তভোগীর জন্য আরও বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
এ প্রসঙ্গে পরীমনি বলেন, ‘দিনশেষে ভিডিওটা আমিও দেখলাম, সবাই দেখল। দেখার পর যারা এভয়েড করার দরকার, তারা স্কিপ করেছে। আর যারা এই ভিডিওকে নিজেদের জীবন, যৌবন, নিঃশ্বাস বানিয়ে ফেলেছে, তারা অনলাইনে এসেই এটা নিয়ে কথা বলছে।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন ব্যক্তির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের মন্তব্যের ঘরেও ভিডিওটির লিংক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এমনকি অন্য বিষয় নিয়ে করা পোস্টেও এ ধরনের মন্তব্য দেখা গেছে বলে জানান তিনি।
সন্তানদের নিয়েও নেতিবাচক মন্তব্যের অভিযোগ
ফেসবুক লাইভের পর শনিবার দুপুরে মাছরাঙা টেলিভিশনকে উদ্দেশ করে নিজের ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন পরীমনি। সেখানে নিজের ব্যক্তিগত জীবন, কাজ এবং সন্তানদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক মন্তব্যের বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।
পোস্টে পরীমনি লেখেন, ‘ডিয়ার মাছরাঙা টেলিভিশন, আপনাদের এই জাস্ট একটা ফটো কার্ডের দুঃখ প্রকাশ কোনো কাজে দিচ্ছে না একদমই। এই যে আমার স্বাভাবিক জীবনটা এইভাবে আবার দুর্বিষহ করে দিয়েছেন এর সম্পূর্ণ দায়ভার আপনাদের।’
তিনি আরও লেখেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের কাজ কিংবা ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে স্বাভাবিকভাবে পোস্ট করতে পারছেন না। এমনকি সন্তানদের ছবিতেও হাজার হাজার নেতিবাচক মন্তব্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন এই অভিনেত্রী।
পরীমনির ভাষ্য, ‘আমার জীবনের মানসিক শান্তি নষ্ট করে দিলেন! আমার কাজ নষ্ট করে দিলেন। এরপর কি বাকি থাকল আর।’
অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি
পরীমনির অভিযোগ, মাছরাঙা টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর পদক্ষেপের বিষয়ে তিনি সন্তুষ্ট নন। তার মতে, এ ধরনের ঘটনায় শুধু দুঃখ প্রকাশ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। বরং কীভাবে ভিডিওটি প্রকাশিত হলো, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেসব বিষয়ে স্পষ্ট জবাব প্রয়োজন।
পোস্টে তিনি বলেন, ‘আপনারা বলেছেন অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসবেন। আর কবে আনবেন সেটা। আমার কাছে অপরাধী তো এখন আপনারা।’
এ ঘটনায় পরীমনি চ্যানেল কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহি দাবি করেছেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ও সন্তানদের লক্ষ্য করে করা নেতিবাচক মন্তব্যের কারণে যে মানসিক চাপ তৈরি হয়েছে, সেটিও তুলে ধরেছেন।
এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া ও বিকৃত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ব্যক্তির সম্মান, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও পেশাগত জীবনে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, পরীমনির বক্তব্যে তা উঠে এসেছে। তবে ভিডিও প্রকাশের ঘটনায় কারা জড়িত, সে বিষয়ে তদন্তের ফলাফল বা দায়ীদের বিরুদ্ধে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে চূড়ান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।



























