কৃষি যন্ত্রপাতি ও স্টিলের নামে ভিন্ন পণ্য আমদানি, জালিয়াতি শনাক্ত
- আপডেট সময় : ০৪:৪৯:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৫০ বার পড়া হয়েছে
চট্টগ্রাম বন্দরে কৃষি যন্ত্রপাতি, টুথপিক ও স্টেইনলেস স্টিলের নামে ভিন্ন পণ্য আমদানি করে কোটি কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা শনাক্ত করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। চীন ও পাকিস্তান থেকে আসা আটটি বড় চালানের পণ্য পরীক্ষা করে এ অনিয়মের সন্ধান পেয়েছে এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) ও চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) এনবিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, আমদানি করা পণ্যের প্রকৃত পরিচয় গোপন করে কম শুল্কের বা সাধারণ পণ্য হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা করা হয়েছে। এসব চালানে উচ্চ শুল্কের প্রসাধনী, বিএসটিআই নিষিদ্ধ ক্রিম, যৌন উত্তেজক স্প্রে, মোটরযানের যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন পণ্য পাওয়া গেছে।
কৃষি যন্ত্রপাতির ঘোষণায় স্টেজ লাইট ও প্রসাধনী
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, ‘ফরচুন গ্লোবাল ট্রেডিং’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান পাওয়ার স্প্রেয়ার মেশিন আমদানির ঘোষণা দিয়ে প্রায় আড়াই কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা করেছে। তবে চালানটি পরীক্ষা করে ঘোষিত কৃষি যন্ত্রপাতির পরিবর্তে স্টেজ লাইট ও প্রসাধনী সামগ্রী পাওয়া যায়।
আমদানি ঘোষণার সঙ্গে প্রকৃত পণ্যের এমন অমিলের মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজস্ব বোর্ড।
টুথপিকের নামে নিষিদ্ধ ক্রিম ও যৌন উত্তেজক স্প্রে
‘কাফ কর্পোরেশন’ নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানের চালানে আরও গুরুতর অনিয়ম শনাক্ত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি সাড়ে ২২ টন টুথপিক আমদানির ঘোষণা দিলেও কায়িক পরীক্ষায় পাওয়া যায় ১৫ দশমিক ৭ টন ক্ষতিকর ও বিএসটিআই নিষিদ্ধ ‘গোরি বিউটি ক্রিম’ এবং যৌন উত্তেজক স্প্রে।
এ চালানের মাধ্যমে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা করা হয়েছে বলে এনবিআরের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া কাফ কর্পোরেশনের বিরুদ্ধে জব্দ করা কনটেইনার অবৈধভাবে ছাড় করানোর চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে। এনবিআর জানায়, সিআইসি কর্তৃক লক করা একটি কনটেইনারের মূল সিল ভেঙে এবং কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জাল করে সেটি ছাড় করানোর চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হাতেনাতে ধরা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
মোটরপার্টস, ফ্লেক্স ব্যানার ও ভারী যন্ত্রাংশ আমদানি
আটটি চালানের মধ্যে আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পণ্যের ভুল ঘোষণা দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, ‘এইচ.আর এন্টারপ্রাইজ’ রবার বুশ আমদানির ঘোষণা দিয়ে ৪৪ লাখ টাকার মোটরপার্টস নিয়ে আসে। ‘নিউ ট্রাস্ট ট্রেডার্স’ হিট ট্রান্সফার পেপারের ঘোষণার আড়ালে ৪০ লাখ টাকার ফ্লেক্স ব্যানার আমদানি করে।
অন্যদিকে, ‘মোহাম্মাদীয়া ট্রেড’ স্টেইনলেস স্টিলের ঘোষণা দিয়ে ৩২ লাখ টাকার নাট ও বল্টু আমদানি করে। একই ধরনের ঘোষণার আড়ালে ‘নিউ রনি এন্টারপ্রাইজ’ নিয়ে আসে ৪২ লাখ টাকার ভারী রোলিং বিয়ারিং।
এসব ঘটনায় আমদানি ঘোষণায় পণ্যের প্রকৃত পরিচয় গোপন করা এবং শুল্ক নির্ধারণে অসংগতি তৈরির বিষয়টি সামনে এসেছে।
আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
এনবিআরের সিআইসি ও চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের যৌথ কায়িক পরীক্ষায় আটটি বড় চালানে অনিয়ম শনাক্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক ও ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কাস্টমস আইন, ২০২৩ অনুযায়ী কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এনবিআরের মতে, আমদানি পণ্যের প্রকৃত পরিচয় গোপন করে শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা রাষ্ট্রীয় রাজস্ব আদায় ও দেশীয় শিল্পের সুরক্ষার জন্য উদ্বেগজনক। এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে পণ্যের ঘোষণা, চালানের কাগজপত্র এবং প্রকৃত পণ্যের মধ্যে সামঞ্জস্য যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রাজস্ব বোর্ড আরও জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় রাজস্ব সুরক্ষা এবং দেশীয় শিল্পের স্বার্থ রক্ষায় শুল্ক ফাঁকির সঙ্গে জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে।

























