ভালুকায় বিষাক্ত সাপের কামড়ে গৃহবধূর মৃত্যু
- আপডেট সময় : ০৩:৪৩:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৯৪ বার পড়া হয়েছে
ময়মনসিংহের ভালুকায় ঘুমন্ত অবস্থায় বিষাক্ত সাপের কামড়ে মোছা. মোছলেহা খাতুন (৪০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে নিজ বাড়িতে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় তাঁর বাম হাতে সাপে কামড় দেয়। পরে তাঁকে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত মোছলেহা খাতুন ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পাড়াগাঁও পাঁচপাই গ্রামের বাঁশবাড়ি এলাকার বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার মো. সানোয়ার ওরফে ছনু মিয়ার স্ত্রী। তাঁর সংসারে এক ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে। পরিবারটি অত্যন্ত দরিদ্র। দিনমজুরের কাজ করে কোনোরকমে তাঁদের সংসার চলে।
ঘুমের মধ্যে বাম হাতে সাপের কামড়
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে মোছলেহা খাতুন ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় একটি বিষাক্ত সাপ তাঁর বাম হাতে কামড় দেয়। বিষয়টি বুঝতে পেরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁকে চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালে নেওয়ার পর রাত ৪টার দিকে তাঁকে সাপের বিষের প্রতিষেধক ইনজেকশন দেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা তাঁকে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা করেন। তবে প্রতিষেধক দেওয়ার পরও তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
দুই দফা প্রতিষেধক দেওয়ার পরও বাঁচানো যায়নি
পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে ভর্তির পর মোছলেহা খাতুনের চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় বুধবার সকাল ৯টার দিকে তাঁকে আবারও সাপের বিষের প্রতিষেধক ইনজেকশন দেওয়া হয়।
এরপরও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। সকাল ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। আকস্মিক এ ঘটনায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
দিনমজুরের সংসারে নেমে এসেছে শোক
মোছলেহা খাতুনের পরিবারটি আর্থিকভাবে অসচ্ছল। তাঁর স্বামী মো. সানোয়ার ওরফে ছনু মিয়া দিনমজুরের কাজ করে পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণ করেন। তাঁদের এক ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে। পরিবারের একজন সদস্যকে হারিয়ে তাঁরা এখন গভীর শোকের মধ্যে রয়েছেন।
গ্রামীণ এলাকায় রাতে ঘুমানোর সময় সাপের কামড়ের ঘটনা অনেক সময় প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে সাপে কামড়ানোর পর দ্রুত সঠিক চিকিৎসা পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের ঘটনায় দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন।
ইউপি সদস্যের সত্যতা নিশ্চিত
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মোনতাজ উদ্দিন মোছলেহা খাতুনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
























