বিচারকশূন্য সাতক্ষীরার নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল
- আপডেট সময় : ০৪:১০:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫৭২ বার পড়া হয়েছে
দীর্ঘ এক বছর ধরে বিচারকশূন্য রয়েছে সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। বিচারক না থাকায় ট্রাইব্যুনালটিতে জমেছে সাড়ে চার হাজারের বেশি মামলা। ফলে বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ যেমন বেড়েছে, তেমনি তৈরি হয়েছে তীব্র মামলাজট। দ্রুত একজন বিচারক পদায়নের দাবি জানিয়েছেন বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী ও সংশ্লিষ্টরা।
মামলার জট নিরসন এবং দ্রুত বিচারক পদায়নের দাবিতে গত ২৩ আগস্ট বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে লিখিত আবেদন করেছে সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতি।
আইনজীবী সমিতি সূত্রে জানা গেছে, ট্রাইব্যুনালে বিচারক পদায়নের বিষয়ে ইতোমধ্যে আইন মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তাব ও সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বিচারক না থাকায় থমকে বিচার কার্যক্রম
আদালত সূত্রে জানা যায়, নারী ও শিশু নির্যাতন-সংক্রান্ত সংবেদনশীল মামলার দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে সাতক্ষীরার এই ট্রাইব্যুনালটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু প্রায় এক বছর ধরে বিচারকের পদ শূন্য থাকায় মামলাগুলোর বিচার কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। বর্তমানে ট্রাইব্যুনালটিতে সাড়ে চার হাজারেরও বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
বিচারপ্রার্থী কবিতা ও মুক্ত সরকার বলেন, গত এক বছর ধরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে কোনো বিচারক নেই। ফলে ভুক্তভোগী নারী, শিশু ও তাদের স্বজনরা বিচারের আশায় আদালতে এসে দিনের পর দিন অপেক্ষা করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না।
তাদের অভিযোগ, মামলার দীর্ঘসূত্রতার কারণে বিচারপ্রার্থীরা আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। একই সঙ্গে বিলম্বিত হচ্ছে ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রক্রিয়া।
দ্রুত বিচারক পদায়নের দাবি
সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. নুরুল আমিন বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা অত্যন্ত জরুরি। ট্রাইব্যুনালের অচলাবস্থা দূর করতে জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে বিচারক পদায়নের জন্য আবেদন করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট শেখ আলমগীর আশরাফ বলেন, মানবিক দিক বিবেচনায় এবং বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত একজন যোগ্য বিচারক পদায়ন করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন-সংক্রান্ত মামলাগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল। এসব মামলার সঠিক ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে মানবিক কারণেই ট্রাইব্যুনালে দ্রুত বিচারক দেওয়া দরকার।
জরুরি ভিত্তিতে নতুন বিচারক পদায়ন করা হলে দীর্ঘদিন ধরে থমকে থাকা বিচার কার্যক্রম আবারও গতিশীল হবে—এমন প্রত্যাশা ভুক্তভোগী, বিচারপ্রার্থী ও স্থানীয় আইনজীবীদের।























