বান্দরবান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মুসলিম-হিন্দু শিক্ষার্থী, নেই সংশ্লিষ্ট ধর্মের শিক্ষক
- আপডেট সময় : ০৪:৩৭:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৬৪৩ বার পড়া হয়েছে
বান্দরবান সদর উপজেলার বান্দরবান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। তাদের মধ্যে ২০ থেকে ২৫ জন মুসলিম এবং ৪০ থেকে ৪৫ জন সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থী রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টিতে মুসলিম ও হিন্দু ধর্মের কোনো শিক্ষক নেই। এতে ধর্মীয় শিক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নানা সমস্যা।
বিদ্যালয়ে কর্মরত ১৪ শিক্ষকই মারমা সম্প্রদায়ের
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষকসহ অনুমোদিত ৯ জন এবং সংযুক্তিতে ৫ জনসহ মোট ১৪ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। তাদের সবাই মারমা সম্প্রদায়ের।
মুসলিম ও হিন্দু শিক্ষার্থী থাকলেও সংশ্লিষ্ট ধর্মের শিক্ষক না থাকায় নিয়মিত ধর্মীয় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা।
নিয়মিত হয় না ধর্মীয় শিক্ষার ক্লাস
বিদ্যালয়ের কয়েকজন মুসলিম শিক্ষার্থী জানায়, ইসলাম ধর্ম শিক্ষার ক্লাস নিয়মিত হয় না। মাঝেমধ্যে মারমা সম্প্রদায়ের শিক্ষকরা তাদের ধর্মীয় শিক্ষা পড়ান। অনেক সময় নিজেদের উদ্যোগে বই পড়ে অথবা বাড়িতে পড়াশোনা করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হয়।
ধর্মীয় শিক্ষক না থাকায় বিভিন্ন বিষয় বুঝতে সমস্যা হয় বলেও জানায় তারা। একই সমস্যার কথা জানিয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরাও।
জেলা পরিষদে আবেদন করার কথা জানালেন প্রধান শিক্ষক
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক টিংম্যায়ী মারমা বলেন, মুসলিম শিক্ষক দেওয়ার জন্য অভিভাবকরা জেলা পরিষদে আবেদন করেছেন। তবে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আবেদন করা হয়নি।
তিনি বলেন, নতুন জেলা পরিষদ গঠন হয়েছে। বিষয়টি চেয়ারম্যানকে জানানো হবে।
দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস শিক্ষা কর্মকর্তার
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) পরিণয় চাকমা বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি আগে অবগত ছিলেন না। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেও তাকে কিছু জানানো হয়নি।
তিনি বলেন, আজ বিষয়টি জানতে পেরেছেন। আগামী রোববার বা সোমবারের মধ্যে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট ধর্মের শিক্ষক চায় অভিভাবকরা
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বান্দরবান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে মুসলিম ও হিন্দু শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করছে। কিন্তু তাদের ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ধর্মের কোনো শিক্ষক নেই।
তাদের দাবি, বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর ধর্মীয় শিক্ষা নিশ্চিত করতে দ্রুত মুসলিম ও হিন্দু ধর্মের শিক্ষক নিয়োগ অথবা প্রয়োজনীয় বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এতে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় শিক্ষা-সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান হবে।























