০৩:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬

বাঁশের খুঁটিতে ভর করে টিকে আছে কংক্রিটের সেতু

কুমিল্লা প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১২:৩৩:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৫৯১ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুমিল্লার দাউদকান্দির গোলাপের চরে গোমতী নদীর শাখা খালের উপর প্রায় ৩০ বছর আগে নির্মিত একটি কংক্রিটের সেতু দাঁড়িয়ে আছে বাঁশের খুঁটিতে ভর করে। মৃত্যুফাঁদে পরিণত হওয়া গোলাপের চর নামে পরিচিত সেতুর মাঝের অংশ দেবে গিয়ে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে, পিলারগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে, রেলিং থেকে খসে পড়েছে পলেস্তারা। আর মরিচাধরা রড বেরিয়ে এসেছে বাইরে। এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় সেতুটি টিকিয়ে রাখতে স্থানীয়রাই শতাধিক বাঁশের খুঁটি গে়ঁথে অস্থায়ীভাবে ধরে রেখেছেন।

বন্ধ রাখতে হয়েছে সব ধরনের যান চলাচল। সাইকেল বা মোটরসাইকেল থেকে নেমেও হেঁটে সেতু পার হচ্ছেন সবাই। এই সেতু হয়ে শুধু দাউদকান্দির উত্তরের গ্রাম গোলাপের চর নয়, বরং মেঘনা উপজেলাতে যাবার সহজ পথ সংযুক্ত। তাই সেতুটি ভগ্নদশায় থাকায় দুই উপজেলার সাত গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় দুই পাশের সড়ক এসে যেন থেমে গেছে সেতুর মুখে। অটোরিকশাসহ কোনো যানবাহনই আর সেতু পার হতে পারছে না। মাঝের অংশ দেবে যাওয়ায় বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ওপরের অংশে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। সেতুর পুরো কাঠামো নড়বড়ে হয়ে যাওয়ায়, স্থানীয় বাসিন্দারা শতাধিক বাঁশের খুঁটি গেড়ে সেতুটি কোনোভাবে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন।

জানা যায়, দাউদকান্দি সদর উত্তর ইউনিয়নের গোমতী নদীর গোলাপেরচর পাড় থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার পাকা সড়কটি চেঙ্গাকান্দি উত্তর পাড়ায় গিয়ে শেষ হয়েছে। এই সড়কের মাঝখানেই গোমতীর শাখা খালের ওপর নির্মিত সেতুটি অবস্থিত। প্রায় ৩০ বছর আগে নির্মিত এই সেতুর পিলারগুলো বর্তমানে দুর্বল হয়ে পড়েছে। মাঝের অংশের পিলার দেবে যাওয়ায় সেতুতে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে বাঁশের খুঁটি বসিয়ে সেতুটি রক্ষার চেষ্টা করছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, এটি দাউদকান্দি সদর উত্তর ইউনিয়নের গোলাপেরচর গ্রামের গোমতীর শাখা খালের ওপর থাকা একমাত্র সেতু। সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় দুই উপজেলার সাত গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষক ও সাধারণ মানুষ প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হন এই সেতুর কারণে।
দাউদকান্দি আদর্শ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আয়েশা আক্তার বলেন এখন ব্রীজ পার হই ভয়ে ভয়ে। আর যদি এটা ভেঙ্গে যায় নৌকা ছাড়া উপায় নাই। অসুস্থ মানুষজন সবচেয়ে বিপদে পরবে।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন কলেজের শিক্ষার্থী আবদুল আজিজ ফারহান বলেন, ব্রীজ ভেঙ্গে গেলে নৌকা ছাড়া উপায় নাই। গোলাপের চরের মানুষের দাউদকান্দি উপজেলার সাথে স্থলপথে একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম এই ব্রীজটি। এটা ভেঙ্গে পরলে অকল্পনীয় ভোগান্তি হবে। তার আগেই বিকল্প সেতু নির্মান করার দাবি জানাই।

অটোচালক মো. খালেক জানান ব্রীজের এমন অবস্থায় এই পার থেকে ওই পারে যাওয়াও যায় না। অসুস্থ মানুষ হলে হেঁটে ব্রীজ পার হতে হয়। সব সময়ই একটা ভয় কাজ করে।
স্থানীয় বাসিন্দা ব্যবসায়ি মফিজুল ইসলাম জানান, ব্রীজটা ভেঙ্গে গেছে। এখন জোড়াতালি দিয়ে তো ব্রীজের মত বড় স্থাপনা রাখা সম্ভব না। এটা একটা মরণফাঁদ।

দাউদকান্দি উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, সরেজমিনে পরিদর্শন করে জনসাধারণকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সেতুটি নতুন করে নির্মাণের জন্য অধিদপ্তরে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। আশা আমরা খুব দ্রুত সেতু দুইটি নিয়ে ভালো কোন খবর পাবো।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বাঁশের খুঁটিতে ভর করে টিকে আছে কংক্রিটের সেতু

আপডেট সময় : ১২:৩৩:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

কুমিল্লার দাউদকান্দির গোলাপের চরে গোমতী নদীর শাখা খালের উপর প্রায় ৩০ বছর আগে নির্মিত একটি কংক্রিটের সেতু দাঁড়িয়ে আছে বাঁশের খুঁটিতে ভর করে। মৃত্যুফাঁদে পরিণত হওয়া গোলাপের চর নামে পরিচিত সেতুর মাঝের অংশ দেবে গিয়ে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে, পিলারগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে, রেলিং থেকে খসে পড়েছে পলেস্তারা। আর মরিচাধরা রড বেরিয়ে এসেছে বাইরে। এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় সেতুটি টিকিয়ে রাখতে স্থানীয়রাই শতাধিক বাঁশের খুঁটি গে়ঁথে অস্থায়ীভাবে ধরে রেখেছেন।

বন্ধ রাখতে হয়েছে সব ধরনের যান চলাচল। সাইকেল বা মোটরসাইকেল থেকে নেমেও হেঁটে সেতু পার হচ্ছেন সবাই। এই সেতু হয়ে শুধু দাউদকান্দির উত্তরের গ্রাম গোলাপের চর নয়, বরং মেঘনা উপজেলাতে যাবার সহজ পথ সংযুক্ত। তাই সেতুটি ভগ্নদশায় থাকায় দুই উপজেলার সাত গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় দুই পাশের সড়ক এসে যেন থেমে গেছে সেতুর মুখে। অটোরিকশাসহ কোনো যানবাহনই আর সেতু পার হতে পারছে না। মাঝের অংশ দেবে যাওয়ায় বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ওপরের অংশে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। সেতুর পুরো কাঠামো নড়বড়ে হয়ে যাওয়ায়, স্থানীয় বাসিন্দারা শতাধিক বাঁশের খুঁটি গেড়ে সেতুটি কোনোভাবে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন।

জানা যায়, দাউদকান্দি সদর উত্তর ইউনিয়নের গোমতী নদীর গোলাপেরচর পাড় থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার পাকা সড়কটি চেঙ্গাকান্দি উত্তর পাড়ায় গিয়ে শেষ হয়েছে। এই সড়কের মাঝখানেই গোমতীর শাখা খালের ওপর নির্মিত সেতুটি অবস্থিত। প্রায় ৩০ বছর আগে নির্মিত এই সেতুর পিলারগুলো বর্তমানে দুর্বল হয়ে পড়েছে। মাঝের অংশের পিলার দেবে যাওয়ায় সেতুতে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে বাঁশের খুঁটি বসিয়ে সেতুটি রক্ষার চেষ্টা করছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, এটি দাউদকান্দি সদর উত্তর ইউনিয়নের গোলাপেরচর গ্রামের গোমতীর শাখা খালের ওপর থাকা একমাত্র সেতু। সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় দুই উপজেলার সাত গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষক ও সাধারণ মানুষ প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হন এই সেতুর কারণে।
দাউদকান্দি আদর্শ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আয়েশা আক্তার বলেন এখন ব্রীজ পার হই ভয়ে ভয়ে। আর যদি এটা ভেঙ্গে যায় নৌকা ছাড়া উপায় নাই। অসুস্থ মানুষজন সবচেয়ে বিপদে পরবে।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন কলেজের শিক্ষার্থী আবদুল আজিজ ফারহান বলেন, ব্রীজ ভেঙ্গে গেলে নৌকা ছাড়া উপায় নাই। গোলাপের চরের মানুষের দাউদকান্দি উপজেলার সাথে স্থলপথে একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম এই ব্রীজটি। এটা ভেঙ্গে পরলে অকল্পনীয় ভোগান্তি হবে। তার আগেই বিকল্প সেতু নির্মান করার দাবি জানাই।

অটোচালক মো. খালেক জানান ব্রীজের এমন অবস্থায় এই পার থেকে ওই পারে যাওয়াও যায় না। অসুস্থ মানুষ হলে হেঁটে ব্রীজ পার হতে হয়। সব সময়ই একটা ভয় কাজ করে।
স্থানীয় বাসিন্দা ব্যবসায়ি মফিজুল ইসলাম জানান, ব্রীজটা ভেঙ্গে গেছে। এখন জোড়াতালি দিয়ে তো ব্রীজের মত বড় স্থাপনা রাখা সম্ভব না। এটা একটা মরণফাঁদ।

দাউদকান্দি উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, সরেজমিনে পরিদর্শন করে জনসাধারণকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সেতুটি নতুন করে নির্মাণের জন্য অধিদপ্তরে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। আশা আমরা খুব দ্রুত সেতু দুইটি নিয়ে ভালো কোন খবর পাবো।