০৬:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফিটনেসবিহীন চালকের কারণে বাড়ছে দুর্ঘটনা: সড়কমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০২:০২:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৭৫৬ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের অধিকাংশ চালকই ফিটনেসবিহীন বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, অনেক চালক হেলপার হিসেবে কাজ শুরু করার পর পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা অর্জন না করেই সরাসরি চালকের আসনে বসছেন। এতে সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সড়ক ভবনে জরুরি চিকিৎসায় অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেল সার্ভিস উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রশিক্ষণের ঘাটতি দূর করার তাগিদ

সড়কমন্ত্রী বলেন, দেশের সড়ক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে চালকদের দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অনেক চালকের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নেই। হেলপার থেকে সরাসরি চালক হয়ে যাওয়ার প্রবণতার কারণে তাদের মধ্যে পেশাগত দক্ষতার ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, চালকদের পাশাপাশি পথচারীদেরও সড়ক ব্যবহারের বিষয়ে সচেতন হতে হবে। শুধু আইন প্রয়োগ করে দুর্ঘটনা পুরোপুরি কমানো সম্ভব নয়। এজন্য আইন প্রয়োগের পাশাপাশি চালক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বছরে প্রাণ যাচ্ছে প্রায় ৫ হাজার মানুষের

শেখ রবিউল আলম বলেন, দেশে প্রতি বছর প্রায় ৫ হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছেন। এই প্রাণহানি কমাতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। চালক ও পথচারীদের সচেতন করা গেলে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা অর্ধেকে নামিয়ে আনা সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার পর আহতদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া গেলে অনেক প্রাণ বাঁচানো সম্ভব। তাই দুর্ঘটনার পর দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

হাইওয়ের পাশে হাসপাতালগুলোতে আলাদা ইউনিট

সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত চিকিৎসা দিতে হাইওয়ের পাশের হাসপাতালগুলোতে আলাদা ইউনিট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী। এসব ইউনিটে দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।

পাশাপাশি মহাসড়কে জরুরি চিকিৎসা সেবা আরও সহজলভ্য করতে প্রতি ১০ কিলোমিটারের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এতে দুর্ঘটনার পর আহত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হবে।

২০২৭ সালের মধ্যে নতুন নিরাপদ সড়ক আইন

সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে আইন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, ২০২৭ সালের মধ্যে নতুন নিরাপদ সড়ক আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন আইনের মাধ্যমে সড়ক নিরাপত্তা জোরদার এবং দুর্ঘটনা কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১৮০টি যান উদ্বোধন

অনুষ্ঠানে দুর্ঘটনার পর জরুরি চিকিৎসা সেবা বাড়াতে মোট ৬০টি বেসিক লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স উদ্বোধন করা হয়। একই সঙ্গে ৪০টি মোটরসাইকেল অ্যাম্বুলেন্স এবং হাইওয়ে পুলিশের জন্য ৮০টি পেট্রোল মোটরসাইকেল চালু করা হয়।

এসব যান দুর্ঘটনাকবলিত এলাকায় দ্রুত পৌঁছাতে এবং জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। বিশেষ করে যানজটপূর্ণ বা দুর্গম এলাকায় মোটরসাইকেল অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত পৌঁছে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করবে।

সরকারের লক্ষ্য হলো সড়ক দুর্ঘটনা কমানোর পাশাপাশি দুর্ঘটনার পর আহত ব্যক্তিদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা। এর মাধ্যমে সড়কে প্রাণহানি কমিয়ে নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ আরও জোরদার করা হবে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ফিটনেসবিহীন চালকের কারণে বাড়ছে দুর্ঘটনা: সড়কমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০২:০২:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

দেশের অধিকাংশ চালকই ফিটনেসবিহীন বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, অনেক চালক হেলপার হিসেবে কাজ শুরু করার পর পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা অর্জন না করেই সরাসরি চালকের আসনে বসছেন। এতে সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সড়ক ভবনে জরুরি চিকিৎসায় অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেল সার্ভিস উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রশিক্ষণের ঘাটতি দূর করার তাগিদ

সড়কমন্ত্রী বলেন, দেশের সড়ক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে চালকদের দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অনেক চালকের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নেই। হেলপার থেকে সরাসরি চালক হয়ে যাওয়ার প্রবণতার কারণে তাদের মধ্যে পেশাগত দক্ষতার ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, চালকদের পাশাপাশি পথচারীদেরও সড়ক ব্যবহারের বিষয়ে সচেতন হতে হবে। শুধু আইন প্রয়োগ করে দুর্ঘটনা পুরোপুরি কমানো সম্ভব নয়। এজন্য আইন প্রয়োগের পাশাপাশি চালক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বছরে প্রাণ যাচ্ছে প্রায় ৫ হাজার মানুষের

শেখ রবিউল আলম বলেন, দেশে প্রতি বছর প্রায় ৫ হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছেন। এই প্রাণহানি কমাতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। চালক ও পথচারীদের সচেতন করা গেলে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা অর্ধেকে নামিয়ে আনা সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার পর আহতদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া গেলে অনেক প্রাণ বাঁচানো সম্ভব। তাই দুর্ঘটনার পর দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

হাইওয়ের পাশে হাসপাতালগুলোতে আলাদা ইউনিট

সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত চিকিৎসা দিতে হাইওয়ের পাশের হাসপাতালগুলোতে আলাদা ইউনিট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী। এসব ইউনিটে দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।

পাশাপাশি মহাসড়কে জরুরি চিকিৎসা সেবা আরও সহজলভ্য করতে প্রতি ১০ কিলোমিটারের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এতে দুর্ঘটনার পর আহত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হবে।

২০২৭ সালের মধ্যে নতুন নিরাপদ সড়ক আইন

সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে আইন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, ২০২৭ সালের মধ্যে নতুন নিরাপদ সড়ক আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন আইনের মাধ্যমে সড়ক নিরাপত্তা জোরদার এবং দুর্ঘটনা কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১৮০টি যান উদ্বোধন

অনুষ্ঠানে দুর্ঘটনার পর জরুরি চিকিৎসা সেবা বাড়াতে মোট ৬০টি বেসিক লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স উদ্বোধন করা হয়। একই সঙ্গে ৪০টি মোটরসাইকেল অ্যাম্বুলেন্স এবং হাইওয়ে পুলিশের জন্য ৮০টি পেট্রোল মোটরসাইকেল চালু করা হয়।

এসব যান দুর্ঘটনাকবলিত এলাকায় দ্রুত পৌঁছাতে এবং জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। বিশেষ করে যানজটপূর্ণ বা দুর্গম এলাকায় মোটরসাইকেল অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত পৌঁছে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করবে।

সরকারের লক্ষ্য হলো সড়ক দুর্ঘটনা কমানোর পাশাপাশি দুর্ঘটনার পর আহত ব্যক্তিদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা। এর মাধ্যমে সড়কে প্রাণহানি কমিয়ে নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ আরও জোরদার করা হবে।