প্রধানমন্ত্রীর বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি, ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন
- আপডেট সময় : ০১:০০:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৬৭ বার পড়া হয়েছে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজে যান্ত্রিক ত্রুটির ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড্ডয়নের আগে উড়োজাহাজটিতে ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিমান কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রশাসন ও মানবসম্পদ পরিদপ্তরের পরিচালক এয়ার কমডোর নিয়ামুল কবীর স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে আগামী চার কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত কমিটির চার সদস্য যারা
অফিস আদেশ অনুযায়ী, বিমানের চিফ (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিডিউলিং) তদন্ত কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন-
১. চিফ ইঞ্জিনিয়ার (ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোডাকশন)।
২. ডেপুটি চিফ (ফ্লাইট সেফটি)।
৩. ব্যবস্থাপক (আইনবিষয়ক), যিনি সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
কমিটিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
যেসব বিষয় খতিয়ে দেখবে কমিটি
তদন্ত কমিটিকে উড়োজাহাজের যান্ত্রিক ত্রুটির প্রকৃত কারণ ও ধরন উদ্ঘাটনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উড়োজাহাজটির উড্ডয়ন উপযোগিতা নিশ্চিত করতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, তা পর্যালোচনা করবে কমিটি।
এ ঘটনায় ফ্লাইট বিলম্বের কারণ, যাত্রীদের ভোগান্তি এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তির ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়েছে, সেটিও তদন্তের আওতায় থাকবে।
পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কারও দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না, কিংবা নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণে কোনো ত্রুটি হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে। তদন্তে কোনো অনিয়ম বা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের দায়দায়িত্ব নির্ধারণের বিষয়টিও বিবেচনা করবে কমিটি।
এ ছাড়া ভবিষ্যতে এ ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটির ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেওয়ার দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে তদন্ত কমিটিকে।
যেভাবে বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে
উল্লেখ্য, চার দিনের জাপান সফর শেষে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সফরসঙ্গীদের নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল।
এ জন্য টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৩৭৭ ফ্লাইটটি। উড়োজাহাজটি রানওয়ের দিকে ট্যাক্সি করার সময় ককপিটে স্পয়লার-সংক্রান্ত ত্রুটির সংকেত দেখতে পান পাইলট।
বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর নিরাপত্তার স্বার্থে উড্ডয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের দেশে ফেরার যাত্রা বিলম্বিত হয়।
পরবর্তী সময়ে উড়োজাহাজটির কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। ত্রুটি মেরামত ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শেষে উড্ডয়নের উপযোগিতা নিশ্চিত করে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে বিমানটি।
এ ঘটনায় যাত্রীদের নিরাপত্তা, উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলো নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণ ও দায়িত্বে কোনো অবহেলা ছিল কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য উঠে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।





















