প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের হাতাহাতি, সাংবাদিকদের ওপর হামলা
- আপডেট সময় : ০৩:৫০:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৬৯ বার পড়া হয়েছে
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন স্টার নিউজের কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি জহুরুল ইসলাম এবং প্রতিদিনের বাংলাদেশের কুমারখালী প্রতিনিধি মমিন ইসলাম। তাঁদের গালিগালাজ করার পাশাপাশি মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের কর্মীদের বিরুদ্ধে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাক্কির হোসেন রাব্বির হস্তক্ষেপে সাংবাদিকদের দুটি মোবাইল ফোন ফেরত দেওয়া হয়।
সেতু নির্মাণের স্থান পরিদর্শনে যান প্রতিমন্ত্রী
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম কুমারখালী উপজেলার গড়াই নদের ওপর প্রস্তাবিত শহীদ আবরার ফাহাদ সেতু নির্মাণের স্থান পরিদর্শনে যান। এর আগে তিনি রায়ডাঙ্গায় শহীদ আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত করেন।
কবর জিয়ারত শেষে প্রতিমন্ত্রী গাড়িতে উঠতে গেলে সেখানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকেরা ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাঁদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভিডিও ধারণ করায় সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা যায়, ছাত্রদলের দুই গ্রুপের হাতাহাতির দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করছিলেন স্টার নিউজের কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি জহুরুল ইসলাম। এ সময় জেলা ছাত্রদলের কর্মী মুন্না তাঁর ওপর হামলা চালান এবং মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
জহুরুল ইসলাম নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেওয়ার পরও তাঁকে গালিগালাজ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ভিডিও ধারণের কারণ জানতে চেয়ে তাঁকে অপমানজনক ভাষায় কথা বলা হয়। একপর্যায়ে আরেক ছাত্রদল কর্মী তাঁকে ধরে নিয়ে যান বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকার কুমারখালী প্রতিনিধি মমিন ইসলাম। তিনি পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলেন। সাংবাদিক জহুরুল ইসলামের ওপর হামলার দৃশ্য দেখতে পেয়ে মমিন ইসলামও ঘটনার ভিডিও ধারণের চেষ্টা করেন। তখন তাঁর ওপরও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। হামলাকারীরা তাঁকে কিল-ঘুষি মারার পাশাপাশি তাঁর মোবাইল ফোনটিও কেড়ে নেয়।
যুবদল নেতার হস্তক্ষেপে ফোন ফেরত
ঘটনার পর জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাক্কির হোসেন রাব্বি হস্তক্ষেপ করেন। তাঁর হস্তক্ষেপে সাংবাদিক জহুরুল ইসলাম ও মমিন ইসলামের কেড়ে নেওয়া দুটি মোবাইল ফোন ফেরত দেওয়া হয়।
তবে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে এমন বিশৃঙ্খলা এবং সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি
এ ঘটনায় কুষ্টিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সংবাদকর্মীরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছাত্রদল কর্মীদের শনাক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনকালে তাঁদের ওপর হামলা, গালিগালাজ ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তেরও দাবি উঠেছে।
তবে এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বক্তব্য, ছাত্রদলের সংশ্লিষ্ট নেতাদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
























