প্রতিদিন জেগে ওঠে কুমিল্লার ‘সুপ্রভাত মঞ্চ’
- আপডেট সময় : ১২:২৪:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫৩৯ বার পড়া হয়েছে
কুমিল্লার ঐতিহাসিক ধর্মসাগর পাড়ের প্রতিটি ভোর এখন শুধু সূর্যোদয়ের সৌন্দর্যে নয়, লোকসংগীত, স্বাস্থ্যচর্চা ও মানবিক সম্প্রীতির অনন্য এক আয়োজনেও মুখর হয়ে ওঠে। প্রতিদিন ভোরে অনুষ্ঠিত ‘সুপ্রভাত মঞ্চ’ এখন কুমিল্লার অন্যতম ব্যতিক্রমী সাংস্কৃতিক ও সামাজিক উদ্যোগ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
ভোরের আলো ফোটার আগেই ধর্মসাগর পাড়ে জড়ো হতে শুরু করেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। কেউ হাঁটেন, কেউ ব্যায়াম করেন, কেউ প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করেন। ব্যায়াম শেষে শুরু হয় বাংলার লোকসংগীতের আসর। একতারা, ঢোল, হারমোনিয়াম ও অন্যান্য বাদ্যযন্ত্রের সুরে জারি, সারি, ভাটিয়ালি, ভান্ডারি ও লালনগীতি পরিবেশিত হয়, যা উপস্থিত সবার সকালকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
এই আয়োজনের অন্যতম প্রাণপুরুষ সুপ্রভাত মঞ্চের মুখপাত্র অধ্যক্ষ তাপস কুমার বকসী। তাঁর কণ্ঠে পরিবেশিত লোকসংগীত শুধু বিনোদন নয়, বাংলার ঐতিহ্য, গ্রামীণ জীবন ও মানবিক মূল্যবোধের বার্তা তুলে ধরে। অনেকেই গান শুনে কিছু সময়ের জন্য ভুলে যান নগরজীবনের ব্যস্ততা ও ক্লান্তি।
আয়োজনকে আরও সমৃদ্ধ করেন অ্যাডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার। তাঁর ঢোল ও একতারার তালে লোকসংগীতের আবহ আরও প্রাণ পায়। হারমোনিয়াম ও কিবোর্ডে সঙ্গত করেন কণ্ঠশিল্পী ভূষণ সূত্রধর। এছাড়া সুজন চন্দ্র সরকার, অধ্যক্ষ নিখিল চন্দ্র রায়, গৌতম চন্দ্র দাশ, নেপাল চন্দ্র দাশ, অধ্যাপক অনুকূল চন্দ্র দাশ এবং প্রফেসর মৃনাল কান্তি গোস্বামীসহ একদল সংস্কৃতিপ্রেমী নিয়মিত এই আয়োজনকে সমৃদ্ধ করছেন।
সুপ্রভাত মঞ্চের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এখানে সামাজিক বা রাজনৈতিক কোনো বিভাজন নেই। আইনজীবী, চিকিৎসক, শিক্ষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, ব্যাংকার, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে প্রবীণ নাগরিক—সবাই একসঙ্গে অংশ নেন। স্বাস্থ্যচর্চা ও সংস্কৃতির মাধ্যমে গড়ে উঠেছে এক অনন্য সম্প্রীতির পরিবেশ।
ধর্মসাগরের সকালের এই ব্যতিক্রমী আয়োজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। কনটেন্ট ক্রিয়েটর সুমন চন্দ্র দেবনাথ, মো. সাইফুল ইসলাম ও মো. এনামুল হক রুদ্র নিয়মিত ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ করছেন। ফলে দেশ-বিদেশে বসবাসরত অসংখ্য মানুষও এই আয়োজন সম্পর্কে জানতে পারছেন এবং প্রশংসা করছেন।
হাঁটা ও ব্যায়াম শেষে অনেকেই ধর্মসাগর পাড়ের আশপাশের রেস্টুরেন্টে বসে নাস্তা করেন। চায়ের আড্ডায় ভাগাভাগি করেন জীবনের নানা অভিজ্ঞতা। ফলে পুরো এলাকাটি প্রতিদিন সকালে এক প্রাণবন্ত সামাজিক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
স্থানীয়দের মতে, প্রকৃতি, স্বাস্থ্যচর্চা, লোকসংগীত ও সামাজিক বন্ধনের সমন্বয়ে ধর্মসাগরের ‘সুপ্রভাত মঞ্চ’ কুমিল্লার একটি অনন্য পরিচয়ে পরিণত হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হবে এবং নতুন প্রজন্মকে বাংলা লোকসংগীত ও সুস্থ জীবনচর্চার প্রতি আরও বেশি আকৃষ্ট করবে।

























