পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি
- আপডেট সময় : ০৫:২৭:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
- / ১৫৬৯ বার পড়া হয়েছে
ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমনির জামিন বাতিল করে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রাহমান এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, বুধবার মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য ছিল। এদিন বাদীপক্ষ আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন করেন। অন্যদিকে, পরীমনির আইনজীবী আদালতে সময়ের আবেদন জানান। আবেদনে বলা হয়, অ্যালার্জিজনিত অসুস্থতার কারণে পরীমনি আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি।
পরে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত বাদীপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে পরীমনির জামিন বাতিল করে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।
আগেও পরীমনির বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি হয়েছিল
এ মামলায় এর আগেও পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। গত বছরের ২৬ জানুয়ারি আদালত মামলাটিতে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। ওই দিনই তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান পরীমনি।
এর আগে ২০২৪ সালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।
প্রতিবেদনে পরীমনি ও তাঁর কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়। তবে অপর আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।
পরে আদালত পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে পরীমনি ও জিমকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন। ওই সমনের পর ২০২৪ সালের ২৫ জুন তাঁরা ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিন পান।
২০২১ সালে মামলা করেন বোট ক্লাবের সভাপতি
২০২১ সালের ৬ জুলাই ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব হাসানের আদালতে মামলাটি করেন বোট ক্লাবের সভাপতি ও ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ। মামলায় পরীমনিসহ তিনজনকে আসামি করা হয়।
মামলার অন্য দুই আসামি হলেন পরীমনির সহযোগী ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি এবং কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিম।
মামলার এজাহারে নাসির উদ্দিন অভিযোগ করেন, পরীমনি ও তাঁর সহযোগীরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অভিজাত ক্লাবে গিয়ে অ্যালকোহল পান করতেন। এ ছাড়া পার্সেল নিয়ে মূল্য পরিশোধ করতেন না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরিচিত পুলিশ কর্মকর্তাদের দিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখানোর অভিযোগও আনা হয় এজাহারে।
বোট ক্লাবে কী ঘটেছিল
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৯ জুন রাত ১২টার পর পরীমনি ও তাঁর সহযোগীরা সাভারের বোট ক্লাবে প্রবেশ করেন। তাঁরা ক্লাবের দ্বিতীয় তলার ওয়াশরুম ব্যবহার করেন। পরে ক্লাবের ভেতরে বসে অ্যালকোহল পান করেন।
এজাহারে বলা হয়, রাত ১টা ১৫ মিনিটের দিকে নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তাঁর সহযোগী শাহ শহিদুল আলম ক্লাব থেকে বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় পরীমনি তাঁকে ডাকেন এবং তাঁদের সঙ্গে কিছু সময় বসার অনুরোধ করেন।
একপর্যায়ে একটি ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল বিনামূল্যে পার্সেল দেওয়ার জন্য পরীমনি চাপ দেন বলে অভিযোগ করেন নাসির উদ্দিন। এতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে গালমন্দ করা হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
নাসির উদ্দিনের অভিযোগ, এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাদানুবাদের একপর্যায়ে পরীমনি তাঁর দিকে একটি সার্ভিং গ্লাস ছুড়ে মারেন। পরে হাতে থাকা মোবাইল ফোনও ছুড়ে মারেন। এতে তাঁর মাথা ও বুকে আঘাত লাগে।
এ ছাড়া পরীমনি ও তাঁর সহযোগীরা তাঁকে মারধর, হত্যার হুমকি এবং বোট ক্লাবে ভাঙচুর করেছেন বলে অভিযোগ করেন বাদী।
পাল্টা মামলাও করেছিলেন পরীমনি
এজাহারে নাসির উদ্দিন আরও অভিযোগ করেন, বোট ক্লাবের ঘটনার পর সেটি ধামাচাপা দিতে পরীমনি সাভার থানায় তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন।
তবে এসব অভিযোগ ও ঘটনার বিষয়ে আদালতে বিচারাধীন মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। নতুন করে জামিন বাতিল ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশের ফলে মামলাটি আবারও আলোচনায় এসেছে।

























