বাবার সম্পদ থেকে ডলার দাবি প্যারিস জ্যাকসনের, মামলা
- আপডেট সময় : ০৪:৪৭:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
- / ১৫৩৮ বার পড়া হয়েছে
পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যুর ১৭ বছর পরও তাঁর বিপুল সম্পদের উত্তরাধিকার নিয়ে বিরোধ থামছে না। এবার বাবার সম্পদ থেকে ৬০০ মিলিয়ন ডলার পারিবারিক ট্রাস্টে স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন তাঁর মেয়ে প্যারিস জ্যাকসন। এ দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। প্যারিসের অভিযোগ, মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যুর পর তাঁর এস্টেট কয়েক বিলিয়ন ডলার আয় করলেও সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য গঠিত ট্রাস্টে এখনো কোনো অর্থ জমা দেওয়া হয়নি।
গত ২৯ অক্টোবর আদালতে জমা দেওয়া এক আবেদনে প্যারিস দাবি করেন, ২০০৯ সালে মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যুর পর থেকে তাঁর এস্টেট বিভিন্ন ব্যবসায়িক চুক্তি ও সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে বিপুল অর্থ আয় করেছে। কিন্তু সেই আয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো সন্তানদের জন্য নির্ধারিত পারিবারিক ট্রাস্টে স্থানান্তর করা হয়নি।
সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য গঠিত ট্রাস্ট
মাইকেল জ্যাকসনের তিন সন্তান প্রিন্স, প্যারিস ও বিগির আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারিবারিক ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছিল। ট্রাস্টের নিয়ম অনুযায়ী, ২১ বছর বয়স পূর্ণ হলে প্রত্যেক সন্তান নিজ নিজ অংশের আয় পাওয়ার কথা। এ ছাড়া ৩০, ৩৫ ও ৪০ বছর বয়সে মূল সম্পদের নির্দিষ্ট অংশ পাওয়ার বিধান রয়েছে।
তবে প্যারিসের দাবি, বাবার মৃত্যুর এত বছর পরও ট্রাস্টের অর্থ বণ্টনের বিষয়টি কার্যকর হয়নি। ফলে নিজেদের প্রাপ্য সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সন্তানদের এস্টেটের নির্বাহক জন ব্রাঙ্কার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
বর্তমানে মাইকেল জ্যাকসনের বড় ছেলে প্রিন্সের বয়স ৩০ বছরের কাছাকাছি। প্যারিসের বয়স ২৯ বছর এবং ছোট ছেলে বিগির বয়স ২৫ বছর হতে চলেছে। এ অবস্থায় নিজেদের আর্থিক অধিকার ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্যারিস।
যেসব চুক্তি থেকে আয় করেছে মাইকেল জ্যাকসনের এস্টেট
প্যারিসের আইনজীবীদের দাবি, মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যুর পর তাঁর এস্টেট একাধিক বড় ব্যবসায়িক চুক্তি ও সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে বিপুল অর্থ আয় করেছে।
এর মধ্যে ২০১৮ সালে ২৮৭ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারে ইএমআই মিউজিকের শেয়ার বিক্রি ছিল অন্যতম। এরপর ২০২০ সালে নেভারল্যান্ড র্যাঞ্চ ২২ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি করা হয়। ২০২৩ সালে সনির সঙ্গে মাইকেল জ্যাকসনের গানের স্বত্ব নিয়েও বড় অঙ্কের একটি চুক্তি হয়।
প্যারিসের পক্ষের দাবি, এসব লেনদেন থেকে কর ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় বাদ দেওয়ার পরও এস্টেটের আয় এক বিলিয়ন ডলারের বেশি। বর্তমানে মাইকেল জ্যাকসনের সম্পত্তির মোট মূল্য দুই থেকে তিন বিলিয়ন ডলারের মধ্যে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
৬০০ মিলিয়ন ডলার ট্রাস্টে দেওয়ার দাবি
আদালতে জমা দেওয়া আবেদনে প্যারিস আরও দাবি করেন, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মাইকেল জ্যাকসনের এস্টেটের হাতে প্রায় ৮৫০ মিলিয়ন ডলার নগদ অর্থ ছিল। সম্ভাব্য দায়দেনা ও অন্যান্য আর্থিক বাধ্যবাধকতা মেটানোর পরও অন্তত ৬০০ মিলিয়ন ডলার পারিবারিক ট্রাস্টে স্থানান্তর করা সম্ভব।
তাঁর অভিযোগ, ২০১১ সালে এস্টেটের নির্বাহকেরা ট্রাস্টে অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি।
এস্টেট পরিচালনার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি তোলার পর থেকে তাঁকে প্রকাশ্যে সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্যারিস। এমনকি তাঁর ও দুই ভাইয়ের জন্য বরাদ্দ অর্থের পরিমাণ কয়েক মিলিয়ন ডলার কমিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও আদালতে দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার এস্টেট কর্তৃপক্ষের
তবে প্যারিস জ্যাকসনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে মাইকেল জ্যাকসনের এস্টেট কর্তৃপক্ষ। তাদের বক্তব্য, সন্তানদের অর্থ আটকে রাখা কিংবা তাদের জন্য বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন।
এস্টেট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলারের চলমান আইনি বিরোধসহ বেশ কিছু আর্থিক বিষয় এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। এসব বিষয় সমাধান না হওয়া পর্যন্ত পুরো অর্থ পারিবারিক ট্রাস্টে স্থানান্তর করা সম্ভব নয়।
এক বিবৃতিতে কর্তৃপক্ষ আরও দাবি করেছে, মাইকেল জ্যাকসনের সন্তানদের কল্যাণে ইতোমধ্যে ২০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। তাঁর ইচ্ছাপত্র অনুযায়ী, ৩০ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগে সন্তানদের কেউই সম্পদের বড় অংশ পাওয়ার অধিকারী নন।
৪ ডিসেম্বর আদালতে শুনানি
মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যুর প্রায় ১৭ বছর পরও তাঁর সম্পদের ব্যবস্থাপনা ও উত্তরাধিকার নিয়ে এমন বিরোধ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে প্যারিস জ্যাকসন সন্তানদের জন্য নির্ধারিত অর্থ দ্রুত ট্রাস্টে স্থানান্তরের দাবি জানাচ্ছেন। অন্যদিকে এস্টেট কর্তৃপক্ষ আর্থিক ও আইনি জটিলতার কথা তুলে ধরে সেই দাবি নাকচ করছে।
আগামী ৪ ডিসেম্বর লস অ্যাঞ্জেলেসের আদালতে প্যারিস জ্যাকসনের আবেদনের ওপর শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। ওই শুনানিতে আদালত কী সিদ্ধান্ত দেন, তা নিয়েই এখন আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

























