সাভারে শ্রমিক বিক্ষোভ, পুলিশের গাড়িতে আগুন
- আপডেট সময় : ০৪:৪০:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
- / ১৫৪৬ বার পড়া হয়েছে
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্তি বন্ধ এবং অন্যায়ভাবে ছাঁটাই করা শ্রমিকদের পুনর্বহালের দাবিতে সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে পুলিশের একটি ভ্যান ও একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেন বিক্ষুব্ধরা। এ ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিক আহত হয়েছেন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে সাভারের হেমায়েতপুর, পদ্মার মোড় ও উলাইলে এসব ঘটনা ঘটে। শ্রমিকদের বিক্ষোভের কারণে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ওই এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
তিন দফা দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ
আন্দোলনরত শ্রমিকদের প্রধান তিনটি দাবি হলো—ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্তি বন্ধ এবং অন্যায়ভাবে ছাঁটাই করা শ্রমিকদের চাকরিতে পুনর্বহাল।
দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বুধবার সকাল থেকেই বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা সড়কে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে হেমায়েতপুর, পদ্মার মোড় ও উলাইলে কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশের ভ্যান ও মোটরসাইকেলে আগুন
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বেলা ১১টার দিকে হেমায়েতপুরের পদ্মার মোড়ে আন্দোলনরত শ্রমিকদের একটি অংশ একটি পুলিশ ভ্যান ও একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেন।
এ সময় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তৎপর হন।
ঘটনার খবর পেয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহ করতে যান। তবে একপর্যায়ে উত্তেজিত শ্রমিক ও জনতার একটি অংশ সাংবাদিকদের ধাওয়া করেন। এ সময় কয়েকজন সাংবাদিক হামলার শিকার হন।
হামলায় আহত চ্যানেল ২৪-এর দুই সাংবাদিক
হামলায় আহত সাংবাদিকরা হলেন চ্যানেল ২৪-এর রিপোর্টার নাজমুল হুদা ও ক্যামেরাপারসন মো. উজ্জ্বল হোসেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, হামলাকারীরা তাদের মারধর করেন। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা সরাসরি সম্প্রচার বা লাইভ সম্প্রচারের ডিভাইস ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি সংবাদ সংগ্রহের কাজে ব্যবহৃত ক্যামেরাও ভাঙচুর করা হয়।
এ ঘটনায় দুই সাংবাদিক গুরুতর আহত হন। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং তাদের সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ঘটনাস্থলে উত্তেজনা আরও বাড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন
এ বিষয়ে সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান নূর বলেন, শ্রমিকরা তিন দফা দাবি নিয়ে মহাসড়কে অবস্থান নিয়েছিলেন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া এবং মহাসড়কে সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন।
শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলনের পাশাপাশি সাংবাদিকদের ওপর হামলা, পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং সড়কে সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।





















