নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম বাড়িয়ে ৬৫ টাকা নির্ধারণ
- আপডেট সময় : ১১:১৫:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৯৬ বার পড়া হয়েছে
নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১০ শলাকার নিম্নস্তরের সিগারেটের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৬২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬৫ টাকা বা তদূর্ধ্ব করা হবে।
সিগারেটের নতুন মূল্য নির্ধারণের পাশাপাশি স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোল ব্যবহারসংক্রান্ত বিধিমালায়ও পরিবর্তন আনা হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দুটি প্রজ্ঞাপন সংশোধনের প্রস্তাবও অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে মন্ত্রিসভার ২০তম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও নীতিগত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাবও উপস্থাপন করা হয়। আলোচনার পর প্রস্তাবটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
১০ শলাকার সিগারেটের দাম বাড়ছে
বর্তমানে নিম্নস্তরের সিগারেটের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য প্রতি ১০ শলাকা ৬২ টাকা। নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে একই পরিমাণ সিগারেটের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য হবে ৬৫ টাকা বা তার বেশি।
অর্থাৎ, প্রতি ১০ শলাকায় ন্যূনতম ৩ টাকা দাম বাড়বে। তবে নতুন সিদ্ধান্তে ৬৫ টাকা বা তদূর্ধ্ব সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।
এর ফলে নিম্নস্তরের সিগারেটের বাজারমূল্যে পরিবর্তন আসবে। সংশ্লিষ্ট বিধিমালা সংশোধনের পর নতুন মূল্য কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোল ব্যবহারে পরিবর্তন
সিগারেটের নতুন মূল্য কার্যকর করার সঙ্গে স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোল ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এ জন্য স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোল ব্যবহারসংক্রান্ত দুটি প্রজ্ঞাপন সংশোধন করা হবে।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরবর্তী সময়ে বিধিমালা সংশোধন করে নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করবে।
সিগারেটের প্যাকেটের গায়ে নির্ধারিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য, স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোলের ব্যবহার এবং রাজস্ব আদায়ের বিষয়গুলো এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত।
রাজস্ব আয় বাড়ানোর লক্ষ্য
সিগারেটের দাম বাড়ানোর অন্যতম উদ্দেশ্য হিসেবে রাজস্ব আয় বাড়ানোর বিষয়টি সামনে এসেছে। দাম পুনর্নির্ধারণের ফলে সরকারের রাজস্ব আদায় বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
সিগারেট থেকে সরকারের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আসে। ফলে এই পণ্যের মূল্য ও করসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
নতুন মূল্য কার্যকর হলে সংশ্লিষ্ট খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাজারে নির্ধারিত মূল্যে সিগারেট বিক্রি হচ্ছে কি না, সেটিও নজরদারির আওতায় থাকবে।
অবৈধ বাণিজ্য রোধেও গুরুত্ব
সিগারেটের অবৈধ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। মূল্য পুনর্নির্ধারণের পাশাপাশি স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোল ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার মাধ্যমে বাজারে শৃঙ্খলা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
অবৈধভাবে উৎপাদিত বা বাজারজাত করা সিগারেট শনাক্ত করতে স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এ-সংক্রান্ত বিধিমালা সংশোধনের মাধ্যমে নজরদারি আরও কার্যকর করার সুযোগ তৈরি হবে।
মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর এখন সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপন সংশোধন এবং নতুন মূল্য কার্যকরের পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত
সব মিলিয়ে নিম্নস্তরের সিগারেটের ১০ শলাকার বর্তমান ৬২ টাকা সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য বাড়িয়ে ৬৫ টাকা বা তদূর্ধ্ব করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোল ব্যবহারসংক্রান্ত দুটি প্রজ্ঞাপন সংশোধনের প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে।
সরকারের আশা, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে একদিকে সিগারেট খাত থেকে রাজস্ব আয় বাড়বে, অন্যদিকে অবৈধ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে সহায়তা পাওয়া যাবে। নতুন মূল্য ও সংশোধিত বিধিমালা কার্যকর হলে বাজারে এর প্রভাব দেখা যাবে।























