০৩:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

নবম চেষ্টাতেও ব্যালন ডি’অর অধরা এমবাপের

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:০৮:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৫৬ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিশ্ব ফুটবলে একের পর এক সাফল্য, গোলের পর গোল এবং ব্যক্তিগত অর্জনে সমৃদ্ধ কিলিয়ান এমবাপের ক্যারিয়ার। অল্প বয়সেই বিশ্বকাপ জিতে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন ফরাসি এই তারকা। তবে ক্যারিয়ারের অন্যতম কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর এখনো অধরাই রয়ে গেছে তাঁর। নবমবারের মতো এই পুরস্কারের দৌড়ে অংশ নিয়েও শেষ পর্যন্ত খালি হাতে ফিরতে হলো রিয়াল মাদ্রিদের ফরোয়ার্ডকে।

২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ের ব্যাপারে এবার বেশ আশাবাদী ছিলেন এমবাপে। মাঠের পারফরম্যান্সও তাঁর সেই প্রত্যাশার পক্ষে কথা বলছিল। সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৬০ ম্যাচে ৫৮ গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে ১৩টি গোল করিয়েছেন তিনি। এমন দুর্দান্ত পরিসংখ্যানের পরও বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার জিততে পারেননি এই ফরাসি তারকা।

এবারের ব্যালন ডি’অর জিতে নিয়েছেন ইংল্যান্ডের ফরোয়ার্ড হ্যারি কেইন। ১০০ জন প্যানেল সাংবাদিকের ভোটে এমবাপেকে পেছনে ফেলে পুরস্কারটি নিজের করে নেন তিনি। অন্যদিকে, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের বিচারে পুরস্কারটি নিজের প্রাপ্য ছিল বলে মনে করছেন এমবাপে—এমন খবর প্রকাশ করেছে স্প্যানিশ ও ফরাসি গণমাধ্যম।

প্রথমবার রানার্সআপ এমবাপে

ব্যালন ডি’অরের ইতিহাসে এবারই প্রথম দ্বিতীয় স্থান অর্জন করলেন এমবাপে। এর আগে একাধিকবার সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা পেলেও শীর্ষস্থান অধরা ছিল তাঁর। ২০১৮ সালে চতুর্থ, ২০১৭ ও ২০২৫ সালে সপ্তম এবং ২০১৯, ২০২২ ও ২০২৪ সালে ষষ্ঠ হয়েছিলেন তিনি। ২০২৩ সালে অর্জন করেছিলেন তৃতীয় স্থান।

এবারের মৌসুমে গোল করার পাশাপাশি আক্রমণভাগে ধারাবাহিকতা দেখিয়েছেন এমবাপে। ক্লাব ফুটবলে তাঁর ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে বড় কোনো দলগত শিরোপা না থাকায় ভোটের লড়াইয়ে সেটি প্রভাব ফেলেছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সকেই প্রাধান্য দেওয়ার দাবি

ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছিলেন এমবাপে। ফুটবল ক্যারিয়ারের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে এই পুরস্কার জয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছিলেন, ব্যক্তিগতভাবে তাঁর মৌসুমটি দারুণ কেটেছে এবং বড় প্রতিযোগিতাগুলোতে গোল করার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন শীর্ষে।

এমবাপের মতে, ব্যালন ডি’অর যেহেতু ব্যক্তিগত পুরস্কার, তাই একজন খেলোয়াড়ের নিজস্ব নৈপুণ্যকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। মাঠে ব্যক্তিগত দক্ষতা দিয়ে ম্যাচের ব্যবধান গড়ে দেওয়ার ক্ষমতাও পুরস্কার নির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হওয়া দরকার বলে মনে করেন তিনি।

অতীতেও দলগত সাফল্যের বাইরে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে এই পুরস্কার জয়ের নজির রয়েছে। তাই এবার নিজের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে পুরস্কার পাওয়ার প্রত্যাশা করেছিলেন ফরাসি তারকা।

ব্যক্তিগত অর্জনে সমৃদ্ধ এমবাপের ক্যারিয়ার

ব্যালন ডি’অর জিততে না পারলেও ব্যক্তিগত অর্জনের তালিকায় নতুন নতুন সাফল্য যোগ করছেন এমবাপে। বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট, লা লিগার পিচিচি ট্রফি এবং চ্যাম্পিয়নস লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতার স্বীকৃতি তাঁর ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য অর্জনগুলোর মধ্যে রয়েছে।

এ ছাড়া রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে গোল করার ধারাবাহিকতায় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর এক পঞ্জিকাবর্ষে ৫৯ গোলের রেকর্ডের কাছাকাছি পৌঁছেছেন তিনি। এর আগে ২০১৭ সালে গোল্ডেন বয় এবং ২০১৮ সালে কোপা ট্রফি জিতেছিলেন এমবাপে।

সব মিলিয়ে গোল, গতি ও আক্রমণাত্মক ফুটবলে নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। কিন্তু ব্যক্তিগত অর্জনের মুকুটে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পালক হিসেবে বিবেচিত ব্যালন ডি’অর এখনো যোগ হয়নি তাঁর নামের পাশে। নবমবারের প্রচেষ্টায় রানার্সআপ হওয়ায় পুরস্কারটি জয়ের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো এমবাপের।

ফুটবলপ্রেমীদের প্রত্যাশা, ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারলে ভবিষ্যতে ব্যালন ডি’অর জয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে পারবেন এই তারকা। তবে সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে তাঁকে আরও একবার নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে হবে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত পুরস্কারের মঞ্চে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

নবম চেষ্টাতেও ব্যালন ডি’অর অধরা এমবাপের

আপডেট সময় : ০১:০৮:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্ব ফুটবলে একের পর এক সাফল্য, গোলের পর গোল এবং ব্যক্তিগত অর্জনে সমৃদ্ধ কিলিয়ান এমবাপের ক্যারিয়ার। অল্প বয়সেই বিশ্বকাপ জিতে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন ফরাসি এই তারকা। তবে ক্যারিয়ারের অন্যতম কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর এখনো অধরাই রয়ে গেছে তাঁর। নবমবারের মতো এই পুরস্কারের দৌড়ে অংশ নিয়েও শেষ পর্যন্ত খালি হাতে ফিরতে হলো রিয়াল মাদ্রিদের ফরোয়ার্ডকে।

২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ের ব্যাপারে এবার বেশ আশাবাদী ছিলেন এমবাপে। মাঠের পারফরম্যান্সও তাঁর সেই প্রত্যাশার পক্ষে কথা বলছিল। সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৬০ ম্যাচে ৫৮ গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে ১৩টি গোল করিয়েছেন তিনি। এমন দুর্দান্ত পরিসংখ্যানের পরও বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার জিততে পারেননি এই ফরাসি তারকা।

এবারের ব্যালন ডি’অর জিতে নিয়েছেন ইংল্যান্ডের ফরোয়ার্ড হ্যারি কেইন। ১০০ জন প্যানেল সাংবাদিকের ভোটে এমবাপেকে পেছনে ফেলে পুরস্কারটি নিজের করে নেন তিনি। অন্যদিকে, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের বিচারে পুরস্কারটি নিজের প্রাপ্য ছিল বলে মনে করছেন এমবাপে—এমন খবর প্রকাশ করেছে স্প্যানিশ ও ফরাসি গণমাধ্যম।

প্রথমবার রানার্সআপ এমবাপে

ব্যালন ডি’অরের ইতিহাসে এবারই প্রথম দ্বিতীয় স্থান অর্জন করলেন এমবাপে। এর আগে একাধিকবার সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা পেলেও শীর্ষস্থান অধরা ছিল তাঁর। ২০১৮ সালে চতুর্থ, ২০১৭ ও ২০২৫ সালে সপ্তম এবং ২০১৯, ২০২২ ও ২০২৪ সালে ষষ্ঠ হয়েছিলেন তিনি। ২০২৩ সালে অর্জন করেছিলেন তৃতীয় স্থান।

এবারের মৌসুমে গোল করার পাশাপাশি আক্রমণভাগে ধারাবাহিকতা দেখিয়েছেন এমবাপে। ক্লাব ফুটবলে তাঁর ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে বড় কোনো দলগত শিরোপা না থাকায় ভোটের লড়াইয়ে সেটি প্রভাব ফেলেছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সকেই প্রাধান্য দেওয়ার দাবি

ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছিলেন এমবাপে। ফুটবল ক্যারিয়ারের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে এই পুরস্কার জয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছিলেন, ব্যক্তিগতভাবে তাঁর মৌসুমটি দারুণ কেটেছে এবং বড় প্রতিযোগিতাগুলোতে গোল করার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন শীর্ষে।

এমবাপের মতে, ব্যালন ডি’অর যেহেতু ব্যক্তিগত পুরস্কার, তাই একজন খেলোয়াড়ের নিজস্ব নৈপুণ্যকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। মাঠে ব্যক্তিগত দক্ষতা দিয়ে ম্যাচের ব্যবধান গড়ে দেওয়ার ক্ষমতাও পুরস্কার নির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হওয়া দরকার বলে মনে করেন তিনি।

অতীতেও দলগত সাফল্যের বাইরে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে এই পুরস্কার জয়ের নজির রয়েছে। তাই এবার নিজের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে পুরস্কার পাওয়ার প্রত্যাশা করেছিলেন ফরাসি তারকা।

ব্যক্তিগত অর্জনে সমৃদ্ধ এমবাপের ক্যারিয়ার

ব্যালন ডি’অর জিততে না পারলেও ব্যক্তিগত অর্জনের তালিকায় নতুন নতুন সাফল্য যোগ করছেন এমবাপে। বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট, লা লিগার পিচিচি ট্রফি এবং চ্যাম্পিয়নস লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতার স্বীকৃতি তাঁর ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য অর্জনগুলোর মধ্যে রয়েছে।

এ ছাড়া রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে গোল করার ধারাবাহিকতায় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর এক পঞ্জিকাবর্ষে ৫৯ গোলের রেকর্ডের কাছাকাছি পৌঁছেছেন তিনি। এর আগে ২০১৭ সালে গোল্ডেন বয় এবং ২০১৮ সালে কোপা ট্রফি জিতেছিলেন এমবাপে।

সব মিলিয়ে গোল, গতি ও আক্রমণাত্মক ফুটবলে নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। কিন্তু ব্যক্তিগত অর্জনের মুকুটে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পালক হিসেবে বিবেচিত ব্যালন ডি’অর এখনো যোগ হয়নি তাঁর নামের পাশে। নবমবারের প্রচেষ্টায় রানার্সআপ হওয়ায় পুরস্কারটি জয়ের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো এমবাপের।

ফুটবলপ্রেমীদের প্রত্যাশা, ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারলে ভবিষ্যতে ব্যালন ডি’অর জয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে পারবেন এই তারকা। তবে সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে তাঁকে আরও একবার নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে হবে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত পুরস্কারের মঞ্চে।