দুর্নীতির বিরুদ্ধে গণমাধ্যম ও টিআইবিকে এক হয়ে কাজ করতে হবে
- আপডেট সময় : ০৩:২৭:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৫০ বার পড়া হয়েছে
দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যম ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশকে (টিআইবি) একসঙ্গে কাজ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
তিনি বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনে সাংবাদিকদের নানা ঝুঁকি ও বাধার মুখে পড়তে হয়। তবে কোনো অবস্থাতেই হতাশ হয়ে পিছিয়ে যাওয়া যাবে না। গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজ পিছু হটলে দুর্নীতিবাজ ও সুশাসনবিরোধী শক্তি সুবিধা পাবে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে টিআইবির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন ডেভেলপমেন্ট জার্নালিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশের (ডিজেএফবি) সদস্যদের জন্য এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
গণমাধ্যম বড় অংশীদার
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, টিআইবি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দুর্নীতি প্রতিরোধ ও গবেষণার কাজে গণমাধ্যম বড় অংশীদার হিসেবে ভূমিকা রাখছে। সাংবাদিকদের দক্ষতা ও অনুসন্ধানী সক্ষমতা বাড়াতেও টিআইবি নিয়মিত কাজ করছে।
এর অংশ হিসেবে সাংবাদিকদের জন্য প্রশিক্ষণ, সেমিনার এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ফেলোশিপের আয়োজন করা হয়। এ বছর ১০টি অনুসন্ধানী ফেলোশিপ দেওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রস্তাব যাচাই শেষে যোগ্যদের নির্বাচন করে শিগগিরই কার্যক্রম শুরু হবে।
অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার গুরুত্ব
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উদাহরণ তুলে ধরে টিআইবি প্রধান বলেন, যেসব দেশে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেখানে স্বাধীন অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার, অসচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতি সামনে আনা যায়। একই সঙ্গে ক্ষমতাবানদের জবাবদিহির আওতায় আনতে জনমত ও সামাজিক চাপ তৈরি করা সম্ভব হয়।
স্বাধীনতার সঙ্গে দায়বদ্ধতাও জরুরি
তবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পাশাপাশি দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতার ওপরও গুরুত্ব দেন ড. ইফতেখারুজ্জামান।
তিনি বলেন, কোনো স্বাধীনতাই সীমাহীন নয়। সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতার সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক দায়বদ্ধতাও যুক্ত। তাই গণমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার সুযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমকেও নিজেদের পেশাগত নৈতিকতা ও অভ্যন্তরীণ জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
সাংবাদিকদের পাশে থাকবে টিআইবি
মুক্ত ও স্বাধীন গণমাধ্যমের পরিবেশ তৈরিতে টিআইবি সরকারের সঙ্গে কাজ করছে বলেও জানান তিনি। বিভিন্ন আইনি সংস্কার ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের বিষয়ে সরকারের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চলছে।
তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ কর্মশালা শেষ হলেও সাংবাদিকদের সঙ্গে টিআইবির যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরিতে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও কৌশলগত পরামর্শ দেওয়া হবে। পাশাপাশি আইনি বা প্রাতিষ্ঠানিক ঝুঁকির সময়ও সাধ্যমতো সাংবাদিকদের পাশে থাকবে টিআইবি।


























