শ্বেতপত্রের আদলেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৫:১৫:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৩৮ বার পড়া হয়েছে
জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অর্থনৈতিক দুর্নীতি নিয়ে প্রকাশিত শ্বেতপত্রে যেসব তথ্য উঠে এসেছে, তার আদলেই বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনের সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে নির্ধারিত ব্যয়ের তুলনায় অতিরিক্ত অর্থ খরচের প্রবণতা সরকারের নজরে এসেছে। প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি ও বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা কমাতে সরকার একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি বলেন, প্রকল্প গ্রহণের আগে যথাযথ সমীক্ষা ও যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়ানো এবং মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি জোরদার করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে অতিরিক্ত ব্যয়ের কয়েকটি ঘটনা ইতোমধ্যে তদন্ত করা হচ্ছে। এসব তদন্তে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের নামে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বা অর্থের অপচয় কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ১৫০ গ্যাসকূপ
দেশের চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথাও সংসদে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ২০৩০-৩১ অর্থবছরের মধ্যে দেশে ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো গেলে আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং শিল্প, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য খাতে জ্বালানি সরবরাহ আরও স্থিতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন অবকাঠামো তৈরির পাশাপাশি বিদ্যমান সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষ্যে কুতুবজোনে নতুন একটি ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি টার্মিনাল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে গুরুত্ব
জ্বালানি খাতে আমদানি নির্ভরতা কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পূরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের মাধ্যমে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনার কথাও জানান সরকারপ্রধান। সরকারি ও বেসরকারি ভবনের ছাদসহ বিভিন্ন উপযুক্ত স্থানে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ করা হবে।
এ ছাড়া আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ডিজেলচালিত পাম্পগুলোকে পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে কৃষি ও সেচ খাতে জ্বালানি ব্যয় কমার পাশাপাশি বিদ্যুতের বিকল্প উৎস তৈরি হবে বলে মনে করছে সরকার।
ভোলায় ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র
ভোলার প্রাকৃতিক সম্পদ ও গ্যাসসম্পদকে কাজে লাগিয়ে জেলার অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ভোলায় ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। স্থানীয় গ্যাসসম্পদকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি জেলার শিল্প ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ভোলার সম্ভাবনাময় প্রাকৃতিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তায়ও তা ভূমিকা রাখবে বলে জানান তিনি।
সমুদ্রসম্পদ ব্যবহারে মেরিন প্লানিং জোন
দেশের অর্থনীতিতে সমুদ্র ও উপকূলীয় সম্পদের অবদান বাড়ানোর পরিকল্পনাও সংসদে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, সমুদ্রসম্পদের পরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিত করতে পাঁচ বছর মেয়াদি সামগ্রিক মেরিন প্লানিং জোন তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সমুদ্রভিত্তিক অর্থনীতি বা ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্য সরকারের রয়েছে। মৎস্যসম্পদ, নৌপরিবহন, জ্বালানি, পর্যটনসহ বিভিন্ন খাতে সমুদ্রসম্পদের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তায় সমন্বিত উদ্যোগ
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে একদিকে দুর্নীতি ও সরকারি অর্থের অপচয় বন্ধে কঠোর পদক্ষেপের কথা উঠে এসেছে। অন্যদিকে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। সরকারের এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ার পাশাপাশি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
























