০১:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পদোন্নতি-বদলি বাণিজ্যে ৪ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১২:০০:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৫৪১ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে ১৮৮ জন যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতি ও বদলিকে কেন্দ্র করে প্রায় ৪ কোটি টাকার বেশি আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়ার কথা জানা গেছে। অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য যাচাই এবং প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

দুদকের নথি অনুযায়ী, অভিযোগের সঙ্গে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, তৎকালীন সচিব মাহবুব-উল-আলম, যুগ্মসচিব শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব মাসুম আহমেদসহ কয়েকজন কর্মকর্তা জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ জন্য চার সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে। অনুসন্ধান প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পদোন্নতি ও বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ

দুদক সূত্রে জানা গেছে, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল করে নতুন পদে পদায়নের আদেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে ৭৬ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়ার কথা বলে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তাদের পছন্দের কর্মস্থলে পদায়নের জন্য আরও ২ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

সব মিলিয়ে এসব পদোন্নতি ও বদলি প্রক্রিয়ায় প্রায় ৪ কোটি ২৬ লাখ টাকার লেনদেনের অভিযোগের কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা নথিপত্র যাচাই এবং অনুসন্ধানের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছে দুদক।

সিন্ডিকেট গঠনের অভিযোগ

অভিযোগ সূত্রে দাবি করা হয়েছে, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তাকে নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে।

অভিযোগে শুধু বদলি ও পদোন্নতি নয়, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিভিন্ন কেনাকাটা ও টেন্ডার কার্যক্রমেও অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে।

চার সদস্যের অনুসন্ধান দল

দুদকের উপপরিচালক জাহিদ কালামের নেতৃত্বে গঠিত অনুসন্ধান দলের অন্য সদস্যরা হলেন সহকারী পরিচালক নাছরুল্লাহ হোসাইন, উপসহকারী পরিচালক ইমরান আকন এবং রোমান উদ্দিন।

অনুসন্ধান দল অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নথিপত্র সংগ্রহে সরকারি দপ্তরগুলোতে চিঠি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে অভিযোগে নাম আসা ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণের জন্য দুদকে তলব করা হতে পারে।

আসিফ মাহমুদের বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সঙ্গে মোবাইল ফোন ও মেসেজের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তার ঘনিষ্ঠ একজন জানিয়েছেন, পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হতে পারে।

এদিকে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে দুদকের কাছে অভিযোগের প্রমাণ প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন আসিফ মাহমুদ। তিনি লিখেছেন, ১৮৮ জন উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তার কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে দুদক প্রমাণ পাওয়ার কথা বলছে। সেই প্রমাণ জনগণের সামনে প্রকাশ করার আহ্বান জানান তিনি।

দুদকের অনুসন্ধান শেষ হওয়ার পর অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

পদোন্নতি-বদলি বাণিজ্যে ৪ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ

আপডেট সময় : ১২:০০:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে ১৮৮ জন যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতি ও বদলিকে কেন্দ্র করে প্রায় ৪ কোটি টাকার বেশি আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়ার কথা জানা গেছে। অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য যাচাই এবং প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

দুদকের নথি অনুযায়ী, অভিযোগের সঙ্গে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, তৎকালীন সচিব মাহবুব-উল-আলম, যুগ্মসচিব শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব মাসুম আহমেদসহ কয়েকজন কর্মকর্তা জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ জন্য চার সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে। অনুসন্ধান প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পদোন্নতি ও বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ

দুদক সূত্রে জানা গেছে, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল করে নতুন পদে পদায়নের আদেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে ৭৬ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়ার কথা বলে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তাদের পছন্দের কর্মস্থলে পদায়নের জন্য আরও ২ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

সব মিলিয়ে এসব পদোন্নতি ও বদলি প্রক্রিয়ায় প্রায় ৪ কোটি ২৬ লাখ টাকার লেনদেনের অভিযোগের কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা নথিপত্র যাচাই এবং অনুসন্ধানের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছে দুদক।

সিন্ডিকেট গঠনের অভিযোগ

অভিযোগ সূত্রে দাবি করা হয়েছে, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তাকে নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে।

অভিযোগে শুধু বদলি ও পদোন্নতি নয়, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিভিন্ন কেনাকাটা ও টেন্ডার কার্যক্রমেও অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে।

চার সদস্যের অনুসন্ধান দল

দুদকের উপপরিচালক জাহিদ কালামের নেতৃত্বে গঠিত অনুসন্ধান দলের অন্য সদস্যরা হলেন সহকারী পরিচালক নাছরুল্লাহ হোসাইন, উপসহকারী পরিচালক ইমরান আকন এবং রোমান উদ্দিন।

অনুসন্ধান দল অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নথিপত্র সংগ্রহে সরকারি দপ্তরগুলোতে চিঠি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে অভিযোগে নাম আসা ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণের জন্য দুদকে তলব করা হতে পারে।

আসিফ মাহমুদের বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সঙ্গে মোবাইল ফোন ও মেসেজের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তার ঘনিষ্ঠ একজন জানিয়েছেন, পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হতে পারে।

এদিকে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে দুদকের কাছে অভিযোগের প্রমাণ প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন আসিফ মাহমুদ। তিনি লিখেছেন, ১৮৮ জন উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তার কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে দুদক প্রমাণ পাওয়ার কথা বলছে। সেই প্রমাণ জনগণের সামনে প্রকাশ করার আহ্বান জানান তিনি।

দুদকের অনুসন্ধান শেষ হওয়ার পর অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।