তিন দিনে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে উঠেছে ১,০৪০ কোটি টাকা
- আপডেট সময় : ১২:০২:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৬২ বার পড়া হয়েছে
সমস্যাগ্রস্ত পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে টাকা ফেরতের আবেদন করলেও অনেক গ্রাহক নির্ধারিত দিনে টাকা তুলতে আসছেন না। ফলে আবেদনকারীর তুলনায় প্রতিদিনই কম সংখ্যক গ্রাহক অর্থ উত্তোলন করছেন। একই সময়ে ব্যাংকে নতুন করে অর্থ জমা এবং স্বাভাবিক লেনদেনও অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৭ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন দিনে ২৭ হাজার ৫৬ জন গ্রাহক মোট ১ হাজার ৪০ কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন।
এর মধ্যে ৭ সেপ্টেম্বর ৮ হাজার ১২৫ জন গ্রাহক ৩১৯ কোটি টাকা, ৮ সেপ্টেম্বর ৮ হাজার ২৩৪ জন গ্রাহক ৩৪০ কোটি টাকা এবং ৯ সেপ্টেম্বর ১০ হাজার ৬৯৭ জন গ্রাহক ৩৮১ কোটি টাকা তুলেছেন।
আবেদনকারীর তুলনায় কম গ্রাহক টাকা তুলছেন
১ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যক্তি আমানতকারীদের কাছ থেকে টাকা ফেরতের আবেদন নেওয়া হয়। এ সময়ে ৭৪ হাজার ২২১টি আবেদনের বিপরীতে প্রায় ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা ফেরতের চাহিদা তৈরি হয়।
তবে আবেদনকারীদের সবাই নির্ধারিত দিনে টাকা তুলছেন না।
১ সেপ্টেম্বর ১৮ হাজার ৪৬ জন গ্রাহক ১ হাজার ৩২৫ কোটি টাকা ফেরতের আবেদন করেন। এর মধ্যে ৭ সেপ্টেম্বর টাকা তুলেছেন ৮ হাজার ১২৫ জন। একইভাবে ২ সেপ্টেম্বর ১৯ হাজার ৬১৩ জন গ্রাহক ১ হাজার ১৬ কোটি টাকা ফেরতের আবেদন করলেও ৮ সেপ্টেম্বর টাকা তুলেছেন ৮ হাজার ২৩৪ জন।
৩ সেপ্টেম্বর ২১ হাজার ৮৬ জন গ্রাহক ৯৬৩ কোটি টাকা ফেরতের আবেদন করেন। এর বিপরীতে ৯ সেপ্টেম্বর ১০ হাজার ৬৯৭ জন গ্রাহক ৩৮১ কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষের মতে, আবেদনকারীদের একটি বড় অংশ নির্ধারিত দিনে টাকা তুলতে না আসা বা আবেদন প্রত্যাহার করা গ্রাহকদের আস্থা বাড়ার ইতিবাচক ইঙ্গিত হতে পারে।
ব্যাংকে নতুন অর্থও আসছে
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আবেদুর রহমান সিকদার বলেন, গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধের পাশাপাশি ব্যাংকে নতুন অর্থের প্রবাহও অব্যাহত রয়েছে। ব্যক্তিগত হিসাবগুলোতে স্বাভাবিক লেনদেন চলছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।
ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ৭ সেপ্টেম্বর ক্যাশে ৯৩ কোটি টাকা এবং আরটিজিএস, বিফটিএন ও ক্লিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ৫১ কোটি টাকা জমা হয়েছে। সব মিলিয়ে ওই দিন ব্যাংকে এসেছে ১৪১ কোটি টাকা। এদিন মোট ১৬ হাজার ৬০০টি লেনদেন হয়েছে।
৮ সেপ্টেম্বর ক্যাশে ৯০ কোটি এবং বিফটিএন, আরটিজিএস ও ক্লিয়ারিংয়ের মাধ্যমে আরও ১০৫ কোটি টাকা আসে। অর্থাৎ ওই দিন মোট ১৯৫ কোটি টাকা জমা হয়েছে। এদিন লেনদেন হয়েছে ১৬ হাজার ৫০টি।
এ ছাড়া ৭ সেপ্টেম্বর থেকে অনলাইনে টাকা স্থানান্তরের সুবিধাও চালু করেছে ব্যাংকটি। এতে অর্থ ফেরতের পাশাপাশি স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রমও ধীরে ধীরে বাড়ছে।
দেওয়া হয়েছে ৫ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা
ব্যক্তি আমানতকারীদের মূল টাকা ফেরত দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে ৫ হাজার কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দিয়েছে। এই অর্থের মাধ্যমে ব্যক্তি আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকটির ব্যক্তি আমানতকারীরা চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের টাকা এবং মেয়াদি আমানতের মূল টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। তবে মেয়াদি আমানতের পুরো মূল টাকা একবারে তুলে নিলে সেটিকে পূর্ণ ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো মুনাফা দেওয়া হবে না।
অন্যদিকে, যারা এখনই টাকা তুলবেন না এবং আমানত চালু রাখবেন, তারা চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত হারে মুনাফা পাবেন। ব্যাংকের কার্যক্রম স্বাভাবিক হলে পরবর্তীতে মুনাফাসহ অর্থ জমা ও উত্তোলনের সুযোগ থাকবে।
চরম অনিয়ম ও ঋণ জালিয়াতির কারণে সংকটে পড়া এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে।
এসব ব্যাংকে প্রায় ৭৬ লাখ আমানতকারীর মোট ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা আমানত ছিল। এর মধ্যে ব্যক্তি আমানতকারীদের সঞ্চয়ী হিসাবেই রয়েছে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা।




















