০৫:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঠাকুরগাঁও ছাড়লেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৩:২০:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৫৫৭ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দুই দিনের সরকারি সফর শেষে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও ছেড়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে জেলা সার্কিট হাউসে গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন তিনি। এরপর দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম মাঠের হেলিপ্যাড থেকে হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন রাষ্ট্রপতি।

প্রটোকল অনুযায়ী, দুপুর ২টা ১০ মিনিটে তাঁর ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের প্রায় ২০ মিনিট আগেই তিনি ঠাকুরগাঁও ত্যাগ করেন।

এ সময় রাষ্ট্রপতিকে বিদায় জানান জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন এবং নাগরিক সংবর্ধনা আয়োজক কমিটির সদস্যরা।

ঠাকুরগাঁওয়ে রাষ্ট্রপতির প্রথম সরকারি সফর

রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে এটিই ছিল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রথম সরকারি সফর। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৫৮ মিনিটে হেলিকপ্টারে করে তিনি ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান।

সেখানে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও নাগরিক সংবর্ধনা আয়োজক কমিটির সদস্যরা তাঁকে স্বাগত জানান। পরে রাষ্ট্রপতি জেলা সার্কিট হাউসে গিয়ে গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন।

সফরের শুরুতেই তিনি শহরের সেনুয়া কবরস্থানে গিয়ে মা-বাবার কবর জিয়ারত করেন। এরপর কালীবাড়ি এলাকায় নিজ বাসভবনে যান। সেখানে দুপুরের খাবার খেয়ে কিছু সময় বিশ্রাম নেন।

গণসংবর্ধনায় মানুষের ঢল

বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক কমিটির আয়োজিত গণসংবর্ধনায় যোগ দেন রাষ্ট্রপতি। তাঁকে একনজর দেখতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ সেখানে জড়ো হন।

এমনকি বৃষ্টিও মানুষের আগ্রহে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। অনেকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান। পরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পক্ষ থেকে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়।

এ সময় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নিজ জেলার মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে রাষ্ট্রপতিও ঠাকুরগাঁওবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সংবর্ধনা শেষে নিজ বাসভবনে ফিরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি। রাতে নিজ বাসভবনেই অবস্থান করেন রাষ্ট্রপতি।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের

সফরের দ্বিতীয় দিন সোমবার সকালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন রাষ্ট্রপতি।

পরে ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় প্রস্তাবিত ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি বিশ্ববিদ্যালয়টি যথাযথভাবে গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে ঠাকুরগাঁওবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও আবেগের কথাও উঠে আসে।

এরপর দুপুরের দিকে নিজ বাসভবনে ফিরে খাবার গ্রহণ ও বিশ্রাম নেন তিনি। পরে জেলা সার্কিট হাউসে গিয়ে গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন। সেখান থেকে মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম মাঠের হেলিপ্যাডে পৌঁছে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।

ছিল কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা

রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁওয়ে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম, জেলা সার্কিট হাউস, সেনুয়া কবরস্থান, রাষ্ট্রপতির বাসভবন, গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানস্থল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।

এদিকে, দুই দিনের সফর ঘিরে পুরো জেলায় উৎসবের আমেজ ছিল। রাষ্ট্রপতিকে একনজর দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ শহরে আসেন। বিশেষ করে গণসংবর্ধনা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়।

২৫৫ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত

এর আগে গত ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তিনি জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে পরাজিত করেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় সংসদ সদস্য, বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ঠাকুরগাঁও ছাড়লেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

আপডেট সময় : ০৩:২০:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুই দিনের সরকারি সফর শেষে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও ছেড়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে জেলা সার্কিট হাউসে গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন তিনি। এরপর দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম মাঠের হেলিপ্যাড থেকে হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন রাষ্ট্রপতি।

প্রটোকল অনুযায়ী, দুপুর ২টা ১০ মিনিটে তাঁর ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের প্রায় ২০ মিনিট আগেই তিনি ঠাকুরগাঁও ত্যাগ করেন।

এ সময় রাষ্ট্রপতিকে বিদায় জানান জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন এবং নাগরিক সংবর্ধনা আয়োজক কমিটির সদস্যরা।

ঠাকুরগাঁওয়ে রাষ্ট্রপতির প্রথম সরকারি সফর

রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে এটিই ছিল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রথম সরকারি সফর। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৫৮ মিনিটে হেলিকপ্টারে করে তিনি ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান।

সেখানে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও নাগরিক সংবর্ধনা আয়োজক কমিটির সদস্যরা তাঁকে স্বাগত জানান। পরে রাষ্ট্রপতি জেলা সার্কিট হাউসে গিয়ে গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন।

সফরের শুরুতেই তিনি শহরের সেনুয়া কবরস্থানে গিয়ে মা-বাবার কবর জিয়ারত করেন। এরপর কালীবাড়ি এলাকায় নিজ বাসভবনে যান। সেখানে দুপুরের খাবার খেয়ে কিছু সময় বিশ্রাম নেন।

গণসংবর্ধনায় মানুষের ঢল

বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক কমিটির আয়োজিত গণসংবর্ধনায় যোগ দেন রাষ্ট্রপতি। তাঁকে একনজর দেখতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ সেখানে জড়ো হন।

এমনকি বৃষ্টিও মানুষের আগ্রহে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। অনেকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান। পরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পক্ষ থেকে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়।

এ সময় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নিজ জেলার মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে রাষ্ট্রপতিও ঠাকুরগাঁওবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সংবর্ধনা শেষে নিজ বাসভবনে ফিরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি। রাতে নিজ বাসভবনেই অবস্থান করেন রাষ্ট্রপতি।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের

সফরের দ্বিতীয় দিন সোমবার সকালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন রাষ্ট্রপতি।

পরে ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় প্রস্তাবিত ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি বিশ্ববিদ্যালয়টি যথাযথভাবে গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে ঠাকুরগাঁওবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও আবেগের কথাও উঠে আসে।

এরপর দুপুরের দিকে নিজ বাসভবনে ফিরে খাবার গ্রহণ ও বিশ্রাম নেন তিনি। পরে জেলা সার্কিট হাউসে গিয়ে গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন। সেখান থেকে মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম মাঠের হেলিপ্যাডে পৌঁছে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।

ছিল কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা

রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁওয়ে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম, জেলা সার্কিট হাউস, সেনুয়া কবরস্থান, রাষ্ট্রপতির বাসভবন, গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানস্থল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।

এদিকে, দুই দিনের সফর ঘিরে পুরো জেলায় উৎসবের আমেজ ছিল। রাষ্ট্রপতিকে একনজর দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ শহরে আসেন। বিশেষ করে গণসংবর্ধনা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়।

২৫৫ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত

এর আগে গত ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তিনি জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে পরাজিত করেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় সংসদ সদস্য, বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন।