ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচনে অনিয়মে ইসির ব্যর্থতা প্রকাশ পেয়েছে: গোলাম পরওয়ার
- আপডেট সময় : ০৪:৫১:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৬৩৩ বার পড়া হয়েছে
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ব্যর্থতার সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তাঁর অভিযোগ, দলীয় প্রশাসনকে ব্যবহার করে নির্বাচনের ফলাফল নিজেদের অনুকূলে নেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন। নির্বাচনে অনিয়ম, ভোটারদের বাধা দেওয়া এবং দায়িত্ব পালনে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার দাবি নিয়ে প্রশ্ন
সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে দাবি করে জাতিকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্যের সমালোচনা করেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে বলে অসত্য তথ্য দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করছে বিএনপির মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। যা খুবই দুঃখজনক।’
তাঁর দাবি, নির্বাচনের মাঠের পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত বক্তব্য ও বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে অসংগতি রয়েছে। এ কারণে নির্বাচন কতটা নিরপেক্ষ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ভোটারদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ
জামায়াতের এই নেতা অভিযোগ করেন, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা ভোটারদের হুমকি-ধমকি দিয়েছেন। পাশাপাশি তাঁদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
গোলাম পরওয়ারের ভাষ্য অনুযায়ী, ভোটারদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন স্থানে ভোটারদের ওপর চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য সংবাদ সম্মেলনে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতা যাচাইয়ের তথ্যও তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা
নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করা হলেও কমিশন কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ার পর সেগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। কিন্তু ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এসব ঘটনায় কমিশন ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলের অভিযোগ, নির্বাচনে অনিয়মের বিষয়গুলো যথাযথভাবে মোকাবিলা করা না হলে ভোটের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।
পোলিং ও প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগ নিয়ে অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনের দায়িত্ব পালনের জন্য কর্মকর্তা নিয়োগের বিষয়েও অভিযোগ তোলেন গোলাম পরওয়ার। তাঁর দাবি, দলীয় লোকজনকে পরিচয়পত্র ছাড়াই পোলিং ও প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিয়ে নির্বাচনের ফলাফল নিজেদের অনুকূলে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা না গেলে ভোটের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এ ধরনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়োগপ্রক্রিয়া, পরিচয় যাচাই এবং দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে বলে তাঁর বক্তব্য থেকে প্রতীয়মান হয়।
নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে নতুন বিতর্ক
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন ঘিরে জামায়াতের এসব অভিযোগ নির্বাচনের পরিবেশ ও নির্বাচন কমিশনের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। বিশেষ করে ভোটারদের বাধা দেওয়া, নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের নিয়োগ এবং অনিয়মের অভিযোগে কমিশনের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে নির্বাচন কমিশন, বিএনপি এবং সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষগুলোর বক্তব্য পাওয়া গেলে পুরো পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও নিরপেক্ষ তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ারের বক্তব্যের ভিত্তিতে তৈরি।

























