জাল সনদে আইপি টিভি : টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারকচক্র!
- আপডেট সময় : ০৮:২৬:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
- / ১৬৮৫ বার পড়া হয়েছে
রাজধানী ঢাকায় আইপিটিভি ব্যাবসার আড়ালে জাল সনদ ব্যবহার, প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইল এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠার গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব কর্মকাণ্ড চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে— কার প্রভাবেই বা এতদিন পার পেয়ে আসছিল এই চক্র?
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, টিপু দুলাল মিঝি ওরফে রানা নামে এক ব্যক্তি ভুয়া শিক্ষাগত সনদ ব্যবহার করে আইপিটিভি পরিচালনার উদ্যোগ নেন এবং মন্ত্রণালয়ে জাল কাগজপত্র জমা দিয়ে নিবন্ধন নেওয়ার চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে ‘নিউজ টুয়েন্টি ওয়ান বাংলা’ নামে একটি আইপি টিভিকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হয় একটি সংঘবদ্ধ প্রতারণা চক্র।

অভিযোগ রয়েছে, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ, সাংবাদিক পদ এবং ‘ডিরেক্টর’ বানানোর প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। চিটাগাং রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য মানুষ এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
একাধিক ভুক্তভোগী জানান, “মিডিয়ায় ভালো পদ ও চাকরির কথা বলে আমাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়। পরে কোনো যোগাযোগ পাওয়া যায়নি।”
শুধু আর্থিক প্রতারণাই নয়, নারী উপস্থাপিকাদের ব্যবহার করে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং ব্যক্তিগত সম্পর্ককে কেন্দ্র করে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগও উঠেছে এই চক্রের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, পূর্বে ‘ম্যারেজ মিডিয়া’র আড়ালে একই ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন তিনি।
সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রগুলো দাবি করছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের আমলে সাবেক মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, স্থানীয় সংসদ সদস্য রুহুল আমিন এবং প্রভাবশালী নেতা মায়া চৌধুরীর নাম ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সুবিধা আদায় করা হতো। এসব নাম ভাঙিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগও রয়েছে।
তবে উল্লিখিত ব্যক্তিদের সঙ্গে সরাসরি কোনো সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
আরও জানা গেছে, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের কথা বলে প্রশাসনিক নজরদারি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেয় এই চক্র। ফলে দীর্ঘ সময় ধরেই অভিযোগগুলো অদৃশ্য থেকে যায় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, জাল সনদের বিষয়টি ইতোমধ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নজরে এসেছে। অভিযোগ পাওয়ার পর প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শুরু হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে প্রভাবশালী মহলের নাম জড়িয়ে পড়ায় তদন্ত প্রক্রিয়া ধীরগতির বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অভিযোগগুলো প্রমাণিত হলে এটি শুধু একটি প্রতারণার ঘটনা নয়— বরং পুরো মিডিয়া খাতের জবাবদিহিতা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার বড় ধরনের দুর্বলতার ইঙ্গিত বহন করবে।
























