চাঁদের আশপাশেও সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
- আপডেট সময় : ০১:১৩:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৩৯ বার পড়া হয়েছে
সম্ভাব্য সংঘাত মোকাবিলায় মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এবার পৃথিবীর কক্ষপথের পাশাপাশি চাঁদের আশপাশের এলাকাকেও ভবিষ্যৎ সামরিক কর্মকাণ্ডের সম্ভাব্য ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করছে দেশটি।
মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মহাকাশে সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে চাঁদের কক্ষপথের আশপাশে অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা তৈরির কথাও বলা হয়েছে।
চাঁদের আশপাশে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি
বুধবার ওয়াশিংটনের বাইরে বিমান, মহাকাশ ও সাইবারবিষয়ক এক সম্মেলনে বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন। তিনি বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীকে এমনভাবে প্রস্তুত হতে হবে, যাতে সমুদ্রের তলদেশ থেকে চাঁদের কক্ষপথের আশপাশ পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় লড়াই ও টিকে থাকার সক্ষমতা থাকে।
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধের জন্য নতুন একটি সীমান্ত তৈরি হচ্ছে। সেই বাস্তবতার সঙ্গে সামরিক বাহিনীকে মানিয়ে নিতে হবে।
একই সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ফোর্সের কমব্যাট ফোর্সেস কমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল গ্রেগরি গ্যাগননও চাঁদের আশপাশে সামরিক অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতির কথা জানান।
মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের ঘোষণা
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিল, তারা মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েন করেছে। বিমানবাহিনীর মন্ত্রী ট্রয় মেইংক এক সম্মেলনে ‘কক্ষপথে থাকা মহাকাশ নিয়ন্ত্রণের অস্ত্র’ মোতায়েনের কথা জানান।
তবে ওই অস্ত্রের ধরন, অবস্থান কিংবা ব্যবহারের পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
গ্যাগনন বলেন, মানবজাতি মহাকাশের আরও গভীরে প্রবেশ করছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় নতুন এই পরিবেশে প্রস্তুত থাকা স্পেস ফোর্সের দায়িত্ব।
সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে চীনের কথা
মার্কিন কর্মকর্তারা তাদের বক্তব্যে চীনের কথাও উল্লেখ করেছেন। গ্যাগননের দাবি, সম্ভাব্য প্রতিপক্ষরা ভবিষ্যতে যুদ্ধকে মহাকাশ পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে।
চীন ২০২৪ সালে নিজস্ব সামরিক মহাকাশ বাহিনী গঠন করে। বেইজিং তখন জানিয়েছিল, মহাকাশসংক্রান্ত বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়ানোই এর অন্যতম উদ্দেশ্য।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের ঘোষণার সমালোচনা করেছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, চীন মহাকাশের শান্তিপূর্ণ ব্যবহার এবং মহাকাশে অস্ত্র প্রতিযোগিতা বন্ধের পক্ষে।
আন্তর্জাতিক চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক মহাকাশ আইনের সীমার মধ্যে পড়ে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
১৯৬৭ সালের মহাকাশ চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনসহ বিভিন্ন দেশ স্বাক্ষর করেছে। ওই চুক্তিতে চাঁদ ও অন্যান্য মহাজাগতিক বস্তু শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি মহাকাশে পারমাণবিক অস্ত্র ও অন্যান্য গণবিধ্বংসী অস্ত্র মোতায়েন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তবে মহাকাশে প্রচলিত সব ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের ওপর চুক্তিটিতে একই ধরনের সরাসরি নিষেধাজ্ঞা নেই। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক সক্ষমতা চুক্তির কোন সীমার মধ্যে পড়বে, তা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
পাঁচ বছরে দ্বিগুণ হবে স্পেস ফোর্স
মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্পেস ফোর্সের সদস্যসংখ্যাও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
গ্যাগনন জানিয়েছেন, আগামী পাঁচ বছরে স্পেস ফোর্সের সদস্যসংখ্যা দ্বিগুণ করার লক্ষ্য রয়েছে। এতে সদস্যসংখ্যা প্রায় ২৫ হাজারে পৌঁছাবে। নতুন সদস্যদের বড় একটি অংশ কমব্যাট ফোর্সেস কমান্ডে যুক্ত করা হবে।
তবে মহাকাশে অস্ত্র ব্যবহার ও সামরিক অভিযানের বিষয়ে স্পেস ফোর্সের নির্দিষ্ট নীতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। আন্তর্জাতিক চুক্তি ও দায়িত্বশীল মহাকাশ ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।























